‘পর্নোগ্রাফির সহজ লভ্যতায় বাড়ছে ধর্ষণ’

নিউজ ডেস্ক,বর্তমানকণ্ঠ ডটকম: এই ভার্চুয়াল দুনিয়ায় পর্নোগ্রাফি ও একই সঙ্গে মাদকের সহজলভ্যতা নারী ও শিশু ধর্ষণকে উস্কে দিচ্ছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ মুঠোফোন গ্রাহক অ্যাসোসিয়েশন।

শনিবার (০৫ আগস্ট) সংগঠনটির সভাপতি মহিউদ্দীন আহমেদ স্বাক্ষরিত গণমাধ্যমে পাঠানো এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

সাম্প্রতিক সময়ে নারী ও শিশু ধর্ষণ এবং নির্যাতন বৃদ্ধির কারণ হিসেবে সংগঠনটির একটি জরিপ প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়।

প্রতিবেদনে সংগঠনটি দাবি করছে, ধর্ষণের শিকার বা বর্বরতা আগেও ছিল, এ কথা সত্য। তবে প্রযুক্তির নানামাত্রিক ব্যবহার বৃদ্ধির সাথে সাথে ধর্ষণের সংখ্যাও দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। দেশ উন্নত হচ্ছে বা মানুষ শিক্ষিত হলেও এ বর্বরতাকে যেন কিছুতেই থামানো যাচ্ছে না। দেশে যখন প্রযুক্তি ছিল না তখন কিছু গ্রাম বা পাড়া-মহল্লায় কিংবা কতিপয় সিনেমা হলে ইংরেজি সিনেমার নাম করে নীল ছবি (ব্লু ফিল্ম) দেখানো হতো।

প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, একসময় দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বিশেষত শীতকালে যাত্রা আয়োজনের নামে কিছু অশ্লীল নিত্যই ছিল বিনোদন কিংবা রমনীবিলাসের অন্যতম মাধ্যম। কিন্তু কালের বিবর্তনে প্রযুক্তি মানুষকে সব কিছুই হাতের নাগালে এনে দিয়েছে। বর্তমানে ইন্টারনেটের কল্যাণে কম্পিউটার ব্যবহারকারীদের ৮০ ভাগ, মুঠোফোন ব্যবহারকারীদের ৮৫ ভাগ পর্নোগ্রাফিতে আসক্ত।

প্রকাশিত প্রতিবেদনে আরও উঠে আসে, গত বছর ‘মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন’ পর্নোগ্রাফি নিয়ে যে প্রতিবেদন প্রকাশ করে তাতে দেখা যায়, স্কুলপড়ুয়া তরুণদের ৭৫ ভাগই পর্নোগ্রাফি দেখেন। ইন্টারনেটের মাধ্যমে ইউটিউব, ফাইয়ার ফাই, মজিলা, ফেসবুকসহ অসংখ্য সাইডে পর্নোগ্রাফির ছড়াছড়ি। মেমোরি কার্ড, পেনড্রাইভে করে পাড়া-মহল্লায় গান ও ছবি লোড করার দোকান থেকে ২০-৩০ টাকার বিনিময়ে এ সকল ছবি সহজেই পাওয়া যাচ্ছে। ফলে অশ্লীল ভিডিও দেখায় মানুষের আসক্তিও প্রতিনিয়তই বাড়ছে।

প্রতিবেদন আরও উল্লেখ করা হয়, এ নিয়ে মুঠোফোন অ্যাসোসিয়েশন কর্মীদের দিয়ে রাজধানীর যাত্রাবাড়ী, সায়েদাবাদ, পোস্তগোলা, কেরাণীগঞ্জ, মিরপুর, মহাখালী, ফার্মগেট, গাবতলী, আমিন বাজার ও সাভার এলাকায় ১০টি করে গান/ছবি লোডের দোকানে কথা বলে জানা যায়, স্কুল/কলেজ পড়ুয়া ছাত্র, শ্রমিক এমনকি অনেক বৃদ্ধ-বনিতাও তাদের মেমোরি কার্ড বা পেনড্রাইবে পর্নোগ্রাফি লোড করে নেয়।

ওইসব দোকানিদের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে প্রতিবেদনে জানানো হয়, স্মার্ট ফোন ও ইন্টারনেটের গ্রাহক বৃদ্ধি পাওয়ার ফলে মেমোরি কিংবা পেনড্রাইভে লোডকারী গ্রাহকের সংখা আগের চেয়ে কমেছে। বর্তমানে প্রত্যেক গ্রাহকই নিজে নিজে তার ডিভাইস দ্বারা ইচ্ছে মতো যা খুশি ডাউন লোড করে নিতে পারে।

প্রকাশিত প্রতিবেদনে সংগঠনটি আরও জানায়, আমাদের দেশে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন-২০১২ ও অশ্লীল বিজ্ঞাপন নিষিদ্ধ আইন-১৯৬৩ থাকলেও তার যথাযথ কোনও প্রয়োগ নেই। ফলে দিনকে দিন পর্নোগ্রাফি ও অশ্লীলতায় সারা দেশ আক্রান্ত হচ্ছে। বিশেষত এর ছোবল গিয়ে পড়ছে কিশোর-যুবাদের মধ্যে।’

গণমাধ্যমের ভূমিকার কথা তুলে ধরে প্রতিবেদনে বলা হয়, ভারতীয় চ্যানেল ও স্থানীয় কেবল অপারেটরদের চ্যানেলগুলিতে হরহামেশায়ই যৌন উত্তেজনা বর্ধক ওষুধের উত্তেজনাকর বিজ্ঞাপন প্রচারিত হলেও পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণে এর বিরুদ্ধে কার্যকর কোনও পদক্ষেপ নিচ্ছে না সংবাদমাধ্যমগুলো।

প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, মরণব্যাধি ইয়াবা যা কিনা যৌন উত্তেজনা বর্ধক হিসেবে সম্পতি ব্যবহার করা হচ্ছে। এই ইয়াবার ছোবল সারা দেশে এতটাই বিস্তার লাভ করেছে যে, যুব সমাজ আজ ধংসের মুখে। ইয়াবা এবং পর্নোগ্রাফিতে যুব সমাজ এতটাই নিমগ্ন যে, এসকল গ্রহণ করে কিছু উশৃঙ্খল লোক সমাজে নানা ধরনের অঘটন ঘটিয়ে চলেছে। নারী ও শিশু ধর্ষণসহ এহেন অন্যায় কাজ নেই যা তারা নিঃসঙ্কোচে করছে না।

তাই দ্রুত এসব অপকর্ম রোধ করতে ভ্রাম্যমাণ আদালতসহ প্রয়োজনীয় জরুরি ও কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করা উচিৎ বলে মনে করছে বাংলাদেশ মুঠোফোন গ্রাহক অ্যাসোসিয়েশন।

FacebookTwitterDiggStumbleuponRedditLinkedinPinterest
Pin It
এই পাতার আরো খবর -