ষোড়শ সংশোধনী পুনরায় সংসদে পাস করার সুযোগ নেই

নিজস্ব প্রতিবেদক,বর্তমানকণ্ঠ ডটকম: সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী অবৈধ ঘোষণা করে সর্বোচ্চ আদালতের দেয়া রায় প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের বক্তব্য আদালত অবমাননার শামিল বলে জানিয়েছেন রিটকারীদের আইনজীবী মনজিল মোরসেদ।

একই সঙ্গে এ রায় বাতিল করে সংসদ পুনরায় ষোড়শ সংশোধনী পাস করতে পারবে না বলে জানিয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ও ঢাকা ল’ রিপোর্ট-এর সম্পাদক খুরশিদ আলম খান। পাশাপাশি সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সম্পাদক ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন বলেছেন, ‘সংসদের ষোড়শ সংশোধনী পাস করারও সুযোগ নেই এবং এমন বক্তব্য দেয়ারও সুযোগ নেই।’ শনিবার (৫ আগস্ট)কাছে এসব প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে সর্বোচ্চ আদালতের এই আইনজীবীরা।

শুক্রবার সিলেটে এক অনুষ্ঠানে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী সংসদে আবার পাস করা হবে। আদালত তা বাতিল করলে অনবরত পাস করতে থাকবো।’

এর প্রতিক্রিয়ায়  ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন বলেন, ‘অর্থমন্ত্রী যে বক্তব্য দিয়েছেন তা আদালত অবমাননার শামিল।’  এই বক্তব্যের কারণে তার বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার মামলা হতে পারে বলেও তিনি জানান।  খুরশিদ আলম খান বলেন,  ‘আদালত থেকে অবৈধ ঘোষণা করা ওই সংশোধনী সংসদে আর পাস করার সুযোগ নেই।’

তিনি বলেন, ‘অর্থমন্ত্রী সম্ভবত আবেগে কথাগুলো বলেছেন। সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী সংসদে আর পাস করা সুযোগ নেই। এমনকি সপ্তদশ সংশোধনী করেও হুবহু এটি পাস করা যাবে না।’

অন্যদিকে এ মামলার রিটকারীদের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মনজিল মোরসেদ বলেন, ‘অর্থমন্ত্রীর এ ধরনের বক্তব্য আদালত অবমাননার শামিল।’ তিনি বলেন, ‘ আমার মনে হয় তিনি বুঝে শুনে এ বক্তব্য দেননি। অবশ্য তিনি আজকে যে বক্তব্য দেন, কালকে তার মনে থাকে না।আদালতকে চ্যালেঞ্জ করে তিনি যে বক্তব্য দিয়েছেন তা মোটেও কাম্য নয়।’

মনজিল মোরসেদ বলেন, ‘এ রায় যদি সংসদে বাতিল করা যেত। তাহলে সংবিধান বিচার বিভাগকে যে ক্ষমতা দিয়েছে তার কার্যকারিতা থাকতো না। আদালতের দেয়া এ রায় পুনরায় সংসদে পাস করার কোনও সুযোগ নেই।’

উচ্চ আদালতের বিচারপতিদের অপসারণের ক্ষমতা জাতীয় সংসদের কাছে ন্যস্ত করে আনা সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী অবৈধ ঘোষণার পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশিত হয় গত ১ আগস্ট। ৭৯৯ পৃষ্ঠার ওই রায়ের পর্যবেক্ষণ অংশে রাষ্ট্র, সমাজ, রাজনীতি, সামরিক শাসন, নির্বাচন কমিশন ও সংসদ, সুশাসন, দুর্নীতি এবং বিচার বিভাগের বর্তমান অবস্থা উঠে এসেছে।

দেশের সর্বোচ্চ আদালতের এ রায়ের ফলে সুপ্রিম কোর্টের বিচারকদের অপসারণের সুপারিশ করার ক্ষমতা সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলের হাতেই ফিরলো। চতুর্থ সংশোধনীর মাধ্যমে সংবিধানের ১১৬ অনুচ্ছেদের যে সংশোধন আনা হয় তা সংবিধানের ১০৯ অনুচ্ছেদের সঙ্গে সরাসরি সাংঘর্ষিক বলে রায়ে উল্লেখ করেন প্রধান বিচারপতি।

২০১৪ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর বিচারপতি অপসারণের ক্ষমতা সংসদের কাছে ফিরিয়ে নিতে সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী পাস করা হয়। ওই বছরের ২২ সেপ্টেম্বর তা গেজেট আকারে প্রকাশ হয়। কিন্তু সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিদের অপসারণের ক্ষমতা জাতীয় সংসদের কাছে ন্যস্ত করে আনা সংবিধানের এ সংশোধনীর বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে একই বছরের ৫ নভেম্বর সুপ্রিম কোর্টের ৯ জন আইনজীবী হাইকোর্টে একটি রিট করেন।

ওই রিটের চূড়ান্ত শুনানি শেষে ২০১৬ সালের ৫ মে হাইকোর্টের ৩ বিচারপতির সমন্বয়ে গঠিত বিশেষ বেঞ্চ সংখ্যাগরিষ্ঠ মতামতের ভিত্তিতে ষোড়শ সংশোধনী অবৈধ ঘোষণা করে রায় দেন।  এরপর হাইকোর্টের দেয়া ওই রায়ের বিরুদ্ধে ২০১৬ সালের ২৮ নভেম্বর রাষ্ট্রপক্ষ আপিল করে। এরপর চলতি বছরের ৮ মে  থেকে রাষ্ট্রপক্ষের করা আপিলের উপর শুনানি শুরু হয়।

অ্যামিকাস কিউরিদের বক্তব্য গ্রহণ ও দীর্ঘ শুনানি শেষে গত ৩ জুলাই প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার নেতৃত্বাধীন ৭ বিচারপতির আপিল বেঞ্চ রাষ্ট্রপক্ষের আপিল খারিজ করে রায় ঘোষণা করেন। এ রায়ের মাধ্যমে বিচারপতিদের অপসারণের সুপারিশ করার ক্ষমতা সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল ফিরে পেলো।

FacebookTwitterDiggStumbleuponRedditLinkedinPinterest
Pin It
এই পাতার আরো খবর -