অর্থমন্ত্রীকে সাংবাদিকদের ৭২ ঘণ্টার আল্টিমেটাম

নিজস্ব প্রতিদবেদক,বর্তমানকণ্ঠ ডটকম: আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে যদি অর্থমন্ত্রী তার আপত্তিকর বক্তব্যের জন্য নিঃশর্ত ক্ষমা না চান এবং তার বক্তব্য প্রত্যাহার না করেন তাহলে অবস্থান কর্মসূচি পালন করবেন সাংবাদিকরা।

শুক্রববার (১১ আগস্ট) জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে এক সমাবেশে এ আল্টিমেটাম দেন ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের (ডিইউজে) সভাপতি শাবান মাহমুদ।

নবম ওয়েজ বোর্ড ঘোষণা ও এর বিরুদ্ধে দেওয়া অর্থমন্ত্রীর বক্তব্য প্রত্যাহার, নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনার দাবিতে এ সমাবেশের আয়োজন করা হয়।

সমাবেশে শাবান মাহমুদ বলেন, ‘ডিইউজে সিদ্বান্ত নিয়েছে, আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে যদি অর্থমন্ত্রী তার আপত্তিকর বক্তব্য প্রদানের জন্য ক্ষমা না চান এবং তার বক্তব্য প্রত্যাহার না করেন এছাড়া আগামী ১৫ আগস্টের মধ্যে যদি নবম ওয়েজ বোর্ড ঘোষণা না করা হয় তাহলে আগামী ১৬ আগস্ট জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে সাংবাদিকরা দুই ঘণ্টা অবস্থান কর্মসূচি পালন করবে। প্রথম এক ঘণ্টা আলোচনা ও পরের এক ঘণ্টা সড়ক অবরোধ করা হবে। আমরা অর্থমন্ত্রীর বক্তব্যে প্রত্যাহারে তাকে বাধ্য করবো।’

একই সমাবেশে নিউজ পেপারস ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (নোয়াব) এর সাথে বৈঠকের পর অর্থমন্ত্রীর দেওয়া বক্তব্যের তীব্র সমালোচনা করেছেন ঢাকা রিপোটার্স ইউনিটির সভাপতি সাখাওয়াত হোসেন বাদশা।

তিনি বলেন, ‘আপনি সাংবাদিকদের রাবিশ বলে অপমান করেছেন। আপনার এই দাবি প্রত্যাহারের দাবি জানাচ্ছি। আপনি যদি আগামী ১৭ আগস্ট এর মধ্যে বক্তব্য প্রত্যাহার না করেন তাহলে আমরাও আপনাকে রাবিশ বলতে বাধ্য হব। আপনি নোয়াব নেতাদের শিখিয়ে দেওয়া কথা বলেছেন। নবম ওয়েজ বোর্ডের দাবি যদি না মানা হয় তাহলে আমরা আদায় করে নিব।’

এ সময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আপনি সাংবাদিকদের ভালোবাসেন। আপনার প্রতি অনুরোধ অর্থমন্ত্রী ও তথ্যমন্ত্রীকে আদেশ দিন তারা যেন দ্রুত নবম ওয়েজ বোর্ড ঘোষণা করেন।’

প্রধান অতিথির বক্তব্যে ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের মহাসচিব ওমর ফারুক বলেন, ‘সাংবাদিকদের বেতন শুরু হয় ১২ হাজার টাকা থেকে। আর সরকারি চাকরিতে বেতন শুরু হয় ২২ হাজার টাকা থেকে। আপনি বলেছেন দেশে এতো পত্রিকা, টেলিভিশনের দরকার নেই! আমরা বলতে চাই সকল টেলিভিশন, পত্রিকা তো আপনারাই অনুমতি দিয়েছেন। কেন আপনারা অনুমতি দিয়েছেন?’

এ সময় তথ্যমন্ত্রীর প্রতি উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, ‘মালিকরা পত্রিকার নাম না দেওয়ায় ওয়েজ বোর্ড গঠন করতে পারছি না। শ্রম আইনে তো এ কথা বলা নাই, যে নাম ছাড়া ওয়েজ বোর্ড গঠন করা যায় না। আপনি জাতির সাথে মিথ্যা কথা বলছেন, প্রতারণা করছেন।’

সাংবাদিক ভাইদের প্রতি আমার অনুরোধ, আমাদের এই কর্মসূচি আপনাদের সার্থে, মর্যাদা রক্ষার জন্য, আপনাদের অপমান করেছে তার বিরুদ্ধে জবাব দেওয়ার জন্য। তাই আপনারা আমাদের যে কোন কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে তা সফল করবেন।

সমাবেশে আরও উপস্থিত ছিলেন, ডিআরইউ এর সাধারণ সম্পাদক মোরসালীন নোমানী, বিএফইউজের যুগ্ম সম্পাদক অমিয় ঘটক পুলক, ডিইউজের সাংগঠনিক সম্পাদক শাজাহান মিয়া, সাংবাদিক নেতা কুদ্দুস আফ্রিদি সহ বিভিন্ন মিডিয়া হাউজে কর্মরত সাংবাদিকরা।

FacebookTwitterDiggStumbleuponRedditLinkedinPinterest
Pin It
এই পাতার আরো খবর -