ফের রাখাইনে সেনা নির্যাতন বৃদ্ধি, রোহিঙ্গাদের ঢল বেড়েছে

নিউজ ডেস্ক: মিয়ানমারের রাখাইনে আবারও বেড়েছে দেশটির সেনাবাহিনীর হত্যা ও নির্যাতনসহ জ্বালাও পোড়াও। ফলে রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশে প্রবেশের ঢলও বেড়েছে। সপ্তাহ-খানেক আগে কিছুটা কমে যাওয়ার পর গত ২৬ সেপ্টেম্বর থেকে আবারও রাখাইনে সেনাদের বর্বরতা বেড়ে যাওয়া পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের ঢল বেড়েছে বলে শনিবার বিবিসির প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক আলী হোসেনের বরাদ দিয়ে বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়, ২৬ সেপ্টেম্বর থেকে এ ক'দিনে প্রায় অর্ধ লাখ রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ করেছে বলে একটা প্রাথমিক ধারণা পাওয়া যাচ্ছে। তিনি বলেন, গত তিন চারদিনে চল্লিশ হাজার মতো রোহিঙ্গা বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে বলে তারা ধারণা করছেন। এবং এই আসার প্রবণতা অব্যাহত রয়েছে। আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো এরই মধ্যে জানিয়ে দিয়েছে যে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া মিয়ানমারের রোহিঙ্গা শরণার্থীর সংখ্যা পাঁচ লক্ষ ছাড়িয়ে গেছে। শাহপরীর দ্বীপের খোলাপাড়া নামে একটি জায়গা থেকে স্থানীয় ইউপি সদস্য ফজলুল হক টেলিফোনে জানান, কিছুক্ষণ আগেই সেখানে ২৭০ জন রোহিঙ্গা শরণার্থী গিয়ে পৌঁছেছে। তিনি জানান, তারা কয়েকটি নৌকায় করে পৌঁছেছে। এসব নৌকা মিয়ানমার থেকে এসে শরণার্থীদের নামিয়ে দিয়েই আবার ফিরে যায়। "বার্মা থেকে নৌকাগুলো আসে। এখানে নামিয়ে দিয়ে চলে যায়। তারপর আরো কিছু রোহিঙ্গা নিয়ে আসে," বলেন ফজলুল হক। জানা গেছে, এখন বাংলাদেশে যেসব রোহিঙ্গা শরণার্থী আসছেন তাদের প্রায় সবাই নৌকা দিয়ে এই শাহপরীর দ্বীপেই আসছেন। এখানে রয়েছেন কোস্ট গার্ড ও বিজিবির লোকজন। তারা রোহিঙ্গাদের দেখভাল করছেন এবং এখান থেকে সরকারি ব্যবস্থাপনায় কুতুপালং হোয়াইক্যাংসহ বিভিন্ন আশ্রয়শিবিরে তাদের পাঠিয়ে দেয়া হচ্ছে। এলাকাটি পড়েছে সাবরাং ইউনিয়নের ভেতরে। ওই ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নূর হোসেন বলেন, আগত শরণার্থীর সংখ্যা প্রতিদিনই সন্ধ্যের পর বেড়ে যায়। প্রতিদিন সন্ধ্যা বেলায় অন্তত দুই তিন হাজার রোহিঙ্গা শরণার্থী শাহপরীর দ্বীপে এসে পৌঁছাচ্ছে বলে জানান নূর হোসেন। মাঝখানে শরণার্থীদের আসার ঘটনা কমার পর আবার যে বেড়ে গেল, এর কারণ কী? "আমরা শুনেছি যে ওখানে মুসলমানদেরকে নাকি নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের জন্যে বাড়ির বাইরে যেতে দেয়া হচ্ছে না। সেকারণে তারা বাংলাদেশে চলে আসছেন," বলেন তিনি। টেকনাফে শরণার্থী রোহিঙ্গাদের মধ্যে নেতৃত্ব-স্থানীয় একজন মোহাম্মদ নূর। যিনি আগে থেকেই বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়ে রয়েছেন এবং কুতুপালং মেকশিফট সেটলমেন্ট ক্যাম্প ম্যানেজমেন্ট কমিটির সেক্রেটারি। তিনি বলেন, 'মিয়ানমারের সরকার মাঝখানে দু-চার-পাঁচ দিন তাদেরকে বিভিন্ন কথায় ভুলিয়ে রেখেছিল। মানুষ এপারে আসার জন্য রওয়ানা দিলে তাদের বাড়িঘরে ঢুকিয়ে দিয়েছে। এটা তারা করেছে আন্তর্জাতিক চাপের কারণে।' নূরের ভাষায়, 'এটা এক ধরনের প্রতারণা তারা করেছে। দু'চারদিন পর এখন আবারও তারা নির্যাতন শুরু করে দিয়েছে।' নূর আরো বলেন, রাখাইন প্রদেশে মিয়ানমারের সৈন্যরা এখন রীতিমত মাইকিং করে রোহিঙ্গা মুসলমানদের বলছে যে, জমিজমা ছেড়ে দিয়ে বাড়িঘর খালি করে তারা যেন বাংলাদেশে চলে যায়। একই রকম বক্তব্য পাওয়া যাচ্ছে সাবরাং ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য ফজলুল হকের কাছ থেকেও, যিনি প্রতিদিনই শাহপরীর দ্বীপে আগত শত শত রোহিঙ্গা শরণার্থীর সঙ্গে কথাবার্তা বলছেন এবং তাদের নানা রকমের সহায়তা দিচ্ছেন।

FacebookTwitterDiggStumbleuponRedditLinkedinPinterest
Pin It
এই পাতার আরো খবর -