প্রাণঘাতী রোগে অসুস্থদের চিকিৎসা সহায়তা তহবিলে বরাদ্দ বৃদ্ধি

নিউজ ডেস্ক,বর্তমানকণ্ঠ ডটকম: সরকার দীর্ঘস্থায়ী অসুস্থ রোগী যারা নিজেদের চিকিৎসা ব্যয় বহনে অক্ষম তাদের উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিত করতে জন্য চলতি অর্থবছরে বরাদ্দ বৃদ্ধি করেছে। অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিতের প্রস্তাবিত ২০১৭-১৮ অর্থবছরের বাজেটে ৫টি প্রাণঘাতী রোগে আক্রান্ত রোগীদের জন্য ৫০ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে। এই বরাদ্দ ২০১৬-১৭ অর্থবছরের বরাদ্দের চেয়ে বর্তমান প্রস্তাবিত বাজেটে ২০ কোটি টাকার বেশী।
 
ক্যান্সার, কিডনির অসুস্থতা, লিভার সিরোসিস, স্ট্রোক জনিত প্যারালাইসিস এবং আজীবন হার্টের অসুস্থতার মতো প্রাণঘাতী রোগে আক্রান্তরা ৫০ কোটি টাকার তহবিল থেকে সহায়তা পাবেন। সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনির আওতায় এই অর্থ বিতরণ করা হবে।
 
বরাদ্দ বাড়ানোর জন্য সরকারের ভূয়সী প্রশংসা করে বাংলাদেশ ক্যান্সার সোসাইটির সভাপতি প্রফেসর ডা. মোল্লা ওবায়দুল্লাহ বাকী বলেন, এই বরাদ্দ বিভিন্ন প্রাণঘাতী রোগে আক্রান্তদের জন্য আরো সহায়ক হবে। তিনি বলেন, বিভিন্ন কারণে দেশে ক্যান্সার রোগীর সংখ্যা উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। দেশে প্রতিবছর প্রায় ৩ লাখ লোক ক্যান্সার আক্রান্ত হচ্ছে, এদের মধ্যে ২ লাখই মারা যাচ্ছেন।
 
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) বরাত দিয়ে ডা. বাকি বলেন, দেশের ক্যান্সারের হুমকি মোকাবেলায় অন্তত ১৬০টি ক্যান্সার সেন্টার নির্মাণের পরামর্শ দিয়েছে এই সংস্থা। বর্তমানে দেশে ক্যান্সার সেন্টার রয়েছে মাত্র ২২টি।
 
তিনি বলেন, এই প্রাণঘাতী রোগে আক্রান্ত রোগীদের দুর্ভোগ লাঘবে সেন্টারগুলোতে আরো উপযুক্ত সরঞ্জাম প্রয়োজন।
 
কিডনি রোগীদের জন্য আরো তহবিল বরাদ্দের অনুরোধ জানিয়ে ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব কিডনি ডিজিস অ্যান্ড ইউরোলজি (এনআইকেডিইউ)-এর প্রফেসর ড. নুরুল হুদা বলেন, দেশে দ্রুত কিডনি রোগী বৃদ্ধি পাওয়ায় প্রস্তাবিত বাজেটে কিডনি চিকিৎসায় বরাদ্দ বাড়ানো প্রয়োজন।
 
ওয়ার্ল্ড কিডনি ডে অর্গানাইজিং কমিটি এবং কিডনি অ্যাওয়ারনেস মনিটরিং অ্যান্ড প্রিভেনশন সোসাইটি (কেএএমপিএস) জানায়, দেশের ২ কোটি লোক কিডনি জনিত অসুস্থতায় ভুগছেন।
এদের মধ্যে মাত্র ১০ শতাংশ ব্যয়বহুল চিকিৎসা সুবিধা গ্রহণের ব্যয় বহন করতে পারেন।
ন্যাশনাল লিভার ফাউন্ডেশন অব বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা মহাসচিব এবং লিভার ট্রান্সপ্লান্ট সার্জন প্রফেসর ডা. মোহাম্মদ আলী বরাদ্দ বাড়ানোর জন্য সরকারকে অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, এই তহবিলের যথাযথ ব্যবহারের বিষয়টি সরকারকে মনিটরিং করতে হবে।

FacebookTwitterDiggStumbleuponRedditLinkedinPinterest
Pin It
এই পাতার আরো খবর -