আজ থেকে এক চুলা ৭৫০, দুটির বিল ৮০০

নিউজ ডেস্ক,বর্তমানকণ্ঠ ডটকম: দ্বিতীয় মেয়াদে ঘরোয়া গ্যাসের দাম বাড়ানোকে ‘অবৈধ’ মর্মে হাইকোর্টের দেয়া রায়কে শেষ পর্যন্ত আমলে নিলো বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)।

এরই ধারাবাহিকতায় চলতি আগস্ট মাস থেকে আবাসিকে এক চুলা মাসে ৭৫০ ও দুই চুলার জন্য ৮০০ টাকা মাসিক বিল নির্ধারণ করেছে কমিশন। সেক্ষেত্রে গত জুন-জুলাই মাসে আদায়কৃত বাড়তি টাকা গ্রাহকদের ফেরত দেওয়া হবে না।
 
গেল রবিবার হাইকোটের রায়ের পর গতকাল মঙ্গলবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে বিইআরসি।
 
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ১ আগস্ট থেকে গৃহস্থালি গ্রাহকের জন্য মিটার-ভিত্তিক প্রতি ঘনমিটার গ্যাস ৯ টাকা ১০ পয়সা এবং একচুলা ৭৫০ ও দুই চুলা ৮০০ টাকা কার্যকর করা হয়েছে।

প্রসঙ্গত, গত ২৩ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর কারওয়ানবাজারে বিইআরসি ভবনে সংবাদ সম্মেলন করে এ মূল্যবৃদ্ধির ঘোষণা দিয়ে গণবিজ্ঞপ্তি জারি করে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) চেয়ারম্যান মনোয়ার ইসলাম।

এ মূল্যবৃদ্ধির বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে আদালতে রিট আবেদন করেন কনজুমার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) কনজুমার কমপ্লেইন হ্যান্ডলিং ন্যাশনাল কমিটির আহ্বায়ক স্থপতি মোবাশ্বের হোসেন।

এ আবেদনের শুনানি নিয়ে ২৮ ফেব্রুয়ারি হাইকোর্ট ১ জুন থেকে দ্বিতীয় দফায় গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধি ছয় মাসের জন্য স্থগিত করে রুল জারি করেন।

পরবর্তীতে বিইআরসির পক্ষে আপিলে আবেদন করার পর হাইকোর্টের আদেশ স্থগিত হয়ে যায়। পাশাপাশি আপিল বিভাগ রুল শুনানি করতে নির্দেশ দেন।

সে অনুসারে হাইকোর্টে রুল শুনানি শেষ হয়। বিইআরসি ঘোষণা অনুযায়ী, মার্চ থেকে প্রতি চুলা গ্যাসের দাম ৭৫০ টাকা, এটা জুনে বেড়ে গিয়ে দাঁড়ায় ৯০০ টাকায়। আর মার্চ থেকে দুই চুলা গ্যাসের দাম ৮০০ টাকা, যা জুনে গিয়ে দাঁড়ায় ৯৫০ টাকায়।

অন্যদিকে মার্চ থেকে প্রতি ঘনমিটার সিএনজি গ্যাসের দাম বাড়ে ৩৮ টাকা। যেটা জুনে বেড়ে ৪০ টাকা হয়। মার্চ থেকে গ্যাসের বাণিজ্যিক ইউনিট প্রতি খরচ ১৪.২০ টাকা, আর জুন থেকে এ ক্ষেত্রে খরচ বাড়ে ১৭.৪০ টাকায়।

কিন্তু সরকার ২৩ ফেব্রুয়ারির গণবিজ্ঞপ্তি জারি করে ১ মার্চ ও ২ জুন থেকে দুই দফায় গ্যাসের দাম বাড়ানোর ঘোষণা দেয়।

উল্লেখ্য, গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধির বিরোধিতা করে শুরু থেকেই আন্দোলন করে আসছিল দেশের বামদলগুলোসহ বিভিন্ন প্রগতিশীল সংগঠন।

পরিবেশবাদী ও বিশিষ্টজনদের ভাষ্য- বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয় এখন দেশি-বিদেশি কোম্পানির আস্তানায় পরিণত হয়েছে। সিলিন্ডার ব্যবসায়ীদের স্বার্থরক্ষা করতে গিয়েই অযৌক্তিকভাবে গ্যাসের দাম বৃদ্ধি করছে সরকার। বিদেশি কোম্পানির স্বার্থেই বাপেক্সকে পঙ্গু করে দেওয়া হচ্ছে।  

FacebookTwitterDiggStumbleuponRedditLinkedinPinterest
Pin It
এই পাতার আরো খবর -