তুফান-রুমকি কারাগারে

বগুড়া,বর্তমানকণ্ঠ ডটকম: বগুড়ায় ছাত্রী ধর্ষণের পর মাসহ মেয়ের মাথা ন্যাড়া করে নির্যাতনের দুটি মামলার আসামি তুফান সরকার ও নারী কাউন্সিলর মার্জিয়া আকতার রুমকির রিমান্ড আবেদন নামঞ্জুর করে তাদেরকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। রবিবার (৬ আগস্ট) তাদের আদালতে হাজির করে তিন দিনের রিমান্ড চায় পুলিশ। বগুড়ার অতিরিক্ত মুখ্য বিচারিক হাকিম শ্যামসুন্দর রায় এ আবেদন নামঞ্জুর করে আসামিদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

শেষ দফায় গত শুক্রবার বগুড়ার জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম আহসান হাবিবের আদালত তুফান ও রুমকির দু'দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও সদর থানার পরিদর্শক (অপারেশন) আবুল কালাম আজাদ জানান, এর আগে তুফান সরকারকে তিন দফায় সাতদিন এবং মার্জিয়াকে দুই দফায় ছয়দিন রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।

তবে তুফান নির্যাতিত ছাত্রীকে ধর্ষণ এবং নারী কাউন্সিলর মার্জিয়া নির্যাতন ও চুল কেটে দেয়ার কথা স্বীকার করেননি।

এদিকে আদালতে তুফান সরকারের সহযোগী মুন্না ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। এ ছাড়া আদালতে দোষ স্বীকার করে স্বীকারোক্তি দিয়েছেন তুফানের আরেক সহযোগী আতিক এবং নাপিত জীবন রবিদাস।

উল্লেখ্য, বগুড়ার এক কিশোরীকে কলেজে ভর্তি করানোর নামে গত ১৭ জুলাই তাকে নিজ বাড়িতে কৌশলে ডেকে নিয়ে ধর্ষণের অভিযোগ ওঠে তুফান সরকারের বিরুদ্ধে। তুফানের স্ত্রী এ ঘটনা জানতে পেরে স্বামীকে দায়ী না করে কিশোরীকেই ঘটনার জন্য দায়ী করে। এরপর সংরক্ষিত আসনের স্থানীয় ওয়ার্ড কমিশনার মার্জিয়া হাসান রুমকির মাধ্যমে শুক্রবার (২৮ জুলাই) সালিশ সভা বসিয়ে নির্যাতিতা ও তার মায়ের চুল কেটে দেয়। পরে নাপিত ডেকে তাদের ন্যাড়া করিয়ে এলাকা ছাড়া করার হুমকি দেয়া হয়।

স্থানীয়রা তাদের হাসপাতালে ভর্তি করালে সে রাতেই তুফানসহ তার তিন সহযোগীকে গ্রেফতার করে পুলিশ। ২৯ জুলাই শনিবার তুফানসহ ১০ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন নির্যাতিতা কিশোরী। এ ঘটনার পর গত রবিবার তাকে শ্রমিক লীগ থেকে বহিষ্কার করা হয়।

FacebookTwitterDiggStumbleuponRedditLinkedinPinterest
Pin It
এই পাতার আরো খবর -