চামড়া কিনে লোকসানের মুখে ব্যবসায়ীরা

ব্রাহ্মণবাড়িয়া,বর্তমানকণ্ঠ ডটকম: কোরবানির পশুর চামড়া কিনে বেকায়দায় পড়েছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার চামড়া ব্যবসায়ীরা। এবার কম দামে চামড়া কিনলেও পাইকারদের কাছে ভাল দাম পাচ্ছেন না তারা। চামড়া প্রতি ২০০ থেকে ৩০০ টাকা লোকসান গুনতে হবে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।

এক দিকে চামড়ার আশানুরূপ দাম না পাওয়া অন্যদিকে চামড়া প্রক্রিয়াজাতকরণে ব্যবহৃত লবনের দাম বৃদ্ধির কারণে লোকসানের আশঙ্কা করছেন পাইকাররাও। তাছাড়া প্রকৃত দাম না পেলে চামড়া অবৈধভাবে ভারতে পাচার হওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার বিভিন্ন চামড়ার বাজার ঘুরে জানা যায়, জেলায় এবছর কোরবানির পশু জবাই হয়েছে দুই লাখেরও বেশি। জেলা শহরসহ বিভিন্ন উপজেলার অন্তত ২০টির বেশি স্থানে অস্থায়ী কোরবানি পশুর চামড়ার বাজার বসেছিল। আর এসব বাজার থেকে বেশি দামে চামড়া কিনে বেকায়দায় পড়েছে মৌসুমী ও প্রকৃত ব্যবসায়ীরা।

এবার সরকারের পক্ষ থেকে ঢাকায় গরুর চামড়া প্রতি বর্গফুট ৫০ থেকে ৫৫ টাকা ও ঢাকার বাইরে ৪০ থেকে ৪৫ টাকা অন্যদিকে খাসির চামড়া প্রতি বর্গফুট ২০ থেকে ২৫ টাকা, ছাগলের চামড়া প্রতি বর্গফুট ১৫ থেকে ১৭ টাকা ও মহিষের চামড়া প্রতি বর্গফুট ২৫ টাকা মূল্য নির্ধারণ করা হলেও মৌসুমী ব্যবসায়ীরা বেশি দামে চামড়া কিনেছেন। এতে করে একদিকে লোকসানে পড়েছে মৌসুমী ব্যবসায়ীরা অন্যদিকে প্রকৃত ব্যবসায়ীরাও পড়েছেন বেকায়দায়।

মৌসুমী ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা বেশি দামে চামড়া কিনলেও লবনের দাম বাড়ার কারণে তারা রয়েছে লোকসানের শঙ্কায়। তাছাড়া লবনের দাম বেশি হওয়ায় চামড়া প্রক্রিয়াজাতকরণে খরচ বেশি হচ্ছে। তাই সকল খরচ মিলেয়ে ব্যসায়ীরা লোকসানের আশঙ্কা করেছেন। তাছাড়া চামড়ার প্রকৃত দাম না পেলে এগুলো অবৈধভাবে ভারতে পাচার হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানান ব্যবসায়ীরা।

মৌসুমী ব্যবসায়ী মো. জাবেদ জানান, বিভিন্ন এলাকা ঘুরে প্রতিটি গরুর চামড়া ৮০০ থেকে ১২০০ টাকা দরে কিনেছেন তিনি। তবে চামড়ার বাজারে এসে সেই চামড়া প্রতিটি ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা দরে দাম করছেন পাইকাররা। এতে করে প্রতিটি চামড়ায় অন্তত ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা লোকসান গুনতে হচ্ছে।

এদিকে, পাইকার মো. জুয়েল মিয়া জানান, প্রতিটি চামড়া যে মূল্যে মৌসুমী ব্যবসায়ীরা কিনেছেন তাদের কাছ থেকে এই দরে চামড়া কিনলে প্রতিটি চামড়ায় অন্তত ৩০০ টাকা লোকসান গুনতে হবে। একদিকে যেমন চামড়ার দাম কম অন্যদিকে চামড়া প্রক্রিয়াজাতকরণে খরচও বেশি। তাই বেশি দামে চামড়া কিনলে লোকসানে পড়তে হবে। তাই সরকারের কাছে দাবি জানাই যেন অচিরেই চামড়ার দাম বৃদ্ধি করা হোক।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া চেম্বার অব কমার্সের সহ-সভাপতি মো. শাহআলম জানিয়েছেন, বর্তমানে মৌসুমী চামড়া ব্যবসায়ীদের কারণে প্রকৃত চামড়া ব্যবসায়ীরা চরমভাবে ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে। তাই চামড়ার মূল্য বাড়ানোর জন্য সরকার সহায়তা চান তিনি। অন্যথায় এসব চামড়া পাশের দেশ ভারতে রাতারাতি পাচার হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলেও তিনি জানান।

FacebookTwitterDiggStumbleuponRedditLinkedinPinterest
Pin It
এই পাতার আরো খবর -