রোহিঙ্গাদের সব ধরনের সুবিধা দিতে কার্পণ্য করছি না : শিল্পমন্ত্রী

নিউজ ডেস্ক,বর্তমানকণ্ঠ ডটকম: শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু বলেছেন, আমাদের দেশ ছোট, জনসংখ্যা বেশি। তারপরও মিয়ানমারের রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়েছি। আমরা তাদের খাদ্য থেকে শুরু করে সব ধরনের সুযোগ সুবিধা দিতে কার্পণ্য করছি না। আমরা বিশ্ব বিবেককে জাগ্রত করার চেষ্টা করছি যাতে মিয়ানমারে বারবার এ ধরনের ঘটনা না ঘটে।

রোববার দুপুরে নরসিংদীর পলাশ উপজেলার চরসিন্দুরে দেশবন্ধু গ্রুপের অন্যতম অঙ্গ প্রতিষ্ঠান ‘দেশবন্ধু ফুড অ্যান্ড বেভারেজ লিমিটেড’ এর বাণিজ্যিক উৎপাদন উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে শিল্পমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
আমির হোসেন আমু আরো বলেন, মিয়ানমারে নির্যাতিতদের আন্তর্জাতিকভাবে পুনর্বাসিত করার সর্বাধিক প্রচেষ্টা চলছে। এরই মধ্যেই আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর সঙ্গে আলোচনা করা হচ্ছে। তাদের আবেদন জানানো হচ্ছে। এর মধ্যে অনেক সাড়াও পাওয়া গেছে।

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে উদ্দেশ করে শিল্পমন্ত্রী বলেন, লন্ডনে বসে দেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র না করে মিয়ানমারের রোহিঙ্গা নির্যাতনের বিরুদ্ধে কথা বলেন। মিয়ানমার প্রসঙ্গকে রাজনৈতিক রূপ দিবেন না।

আমির হোসেন আমু বলেন, ১৯৭১ সালে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর মতো মিয়ানমার সরকার রোহিঙ্গাদের ওপর গণহত্যা চালাচ্ছে। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানি বাহিনী ও তার দোসররা যেমন বাঙালিদের ওপর নির্মম নির্যাতন, গণহত্যা ও ঘরবাড়ি আগুনে পুড়িয়ে দিয়েছিল ঠিক তেমনি ঘটনা আজ মিয়ানমারে সৃষ্টি করা হচ্ছে।

মিয়ানমারের গণহত্যা বন্ধে বিশ্ব মানবতার কাছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং তাঁর সরকার সব প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে বলে উল্লেখ করেন শিল্পমন্ত্রী। তিনি বলেন, এরই মধ্যে কিছুটা সাড়াও পেয়েছে।

দেশবন্ধু গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক গোলাম রহমানের সভাপতিত্বে এ সময় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন পলাশের সংসদ সদস্য কামরুল আশরাফ খান পোটন, সাবেক সংসদ সদস্য ও পলাশ উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ডা. আনোয়ারুল আশরাফ খান দিলিপ, সাবেক শিক্ষা সচিব ও বঙ্গবন্ধু জাদুঘরের কিউরেটর নজরুল ইসলাম খান, দেশবন্ধু গ্রুপের চেয়ারম্যান গোলাম মোস্তফা প্রমুখ।

প্রায় ১৫০ কোটি টাকা বিনিয়োগে দেশবন্ধু ফুড অ্যান্ড বেভারেজ লিমিটেড ১০টি পণ্যের বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরু করেছে। কারখানাটিতে অত্যাধুনিক প্রযুক্তিতে প্রতি ঘণ্টায় ৭৪ হাজার পিস কোমল পানীয় উৎপাদন করা হবে এবং চাহিদা অনুযায়ী আন্তর্জাতিক মানের পণ্য উৎপাদন এবং রপ্তানির পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

আলোচনা সভায় দেশবন্ধু গ্রুপের চেয়ারম্যান গোলাম মোস্তফা বলেন, দেশবন্ধু গ্রুপ একটি দ্রুতগামী উন্নয়নশীল প্রতিষ্ঠান। দেশবন্ধু গ্রুপ তাদের উন্নতমানের পণ্য দিয়ে দেশি এবং আন্তর্জাতিক চাহিদা মেটাতে সক্ষম হচ্ছে। চিনি, পলিমার, সিমেন্ট, রাইস, গার্মেন্টস, রিয়েল এস্টেট, রিটেল চেইন এবং আরো অনেক প্রতিষ্ঠান আছে। দেশবন্ধু গ্রুপ অর্থনীতিতে আন্তর্জাতিক বাজারে উন্নয়ন করে যাচ্ছে এবং জয়েন্ট উদ্যোগে ভূমিকা রাখছে।

FacebookTwitterDiggStumbleuponRedditLinkedinPinterest
Pin It
এই পাতার আরো খবর -