বাবার পাশে শায়িত হলেন রূপা

সিরাজগঞ্জ,বর্তমানকণ্ঠ ডটকম: টাঙ্গাইলে চলন্ত বাসে ধর্ষণের পর হত্যার শিকার জাকিয়া সুলতানা রূপাকে (২৭) তার বাবার কবরের পাশে দাফন করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৩১ আগস্ট) সন্ধ্যা ৭টার দিকে স্থানীয় মসজিদ কবরস্থানে জানাজা শেষে রূপাকে দাফন করা হয়।

এর আগে সন্ধ্যা ৬টার দিকে মরদেহবাহী অ্যাম্বুলেন্স সিরাজগঞ্জের তাড়াশের আসানবাড়ি গ্রামে আনা হয়।

মরদেহ গ্রামের বাড়িতে পৌঁছালে তৈরি হয় এক হৃদয়বিদারক দৃশ্যের। রূপার মা হাসনা হেনা, বোন ফুলেরা ও পপি, ভাই হাফিজুর রহমান ও উজ্জল প্রামানিকসহ স্বজনরা চিৎকার করে কাঁদতে শুরু করেন। এ দৃশ্য দেখে উপস্থিত কেউই চোখের পানি ধরে রাখতে পারেননি।

রূপাদের বাড়িতে এখন শোকের মাতম। অ্যাম্বুলেন্স থেকে নামানোর পর কফিন ছুঁয়ে চিৎকার করে কাঁদতে শুরু করেন স্বজনরা। রূপার ভাই-বোনদের আহাজারি দেখে উপস্থিত সবাই ভেঙে পড়েন কান্নায়। তাদের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠে গ্রামের বাতাস।

রূপা বগুড়া আজিজুল হক কলেজ থেকে রাষ্টবিজ্ঞান বিভাগে অনার্স-মাস্টার্স শেষ করে ঢাকার আইডিয়াল ল' কলেজে এলএলবি শেষপর্বে অধ্যয়নরত ছিলেন। পাশাপাশি তিনি ময়মনসিংহে বহুজাতিক একটি কোম্পানির প্রোমশনাল বিভাগে চাকরি করতেন।

গত শুক্রবার (২৫ আগস্ট) দিবাগত রাতে বগুড়া থেকে ময়মনসিংহ যাওয়ার পথে চলন্ত বাসে রূপাকে ধর্ষণের পর ঘাড় মটকে হত্যা করে পরিবহনশ্রমিকরা। পরে তার লাশ টাঙ্গাইল জেলার মধুপুর বন এলাকায় ফেলে রাখা হয়। রাত ১১টার দিকে মধুপুর থানার পুলিশ রূপার লাশ উদ্ধার করে। শনিবার টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের মর্গে রূপার লাশের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়। ওই দিনই টাঙ্গাইল কেন্দ্রীয় কবরস্থানে বেওয়ারিশ লাশ হিসেবে তাকে দাফন করা হয়। পত্রিকায় বেওয়ারিশ লাশ দাফনের সংবাদ দেখে মধুপুর থানায় এসে বোনের লাশ শনাক্ত করেন রূপার বড় ভাই হাফিজুল। এরপর টাঙ্গাইল কেন্দ্রীয় কবরস্থান থেকে রূপার লাশ তুলে সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলার গ্রামের বাড়িতে নিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় পরিবার। এ জন্য রূপার বড় ভাই পুলিশের কাছে আবেদন করেন।

রূপাকে ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনায় ছোঁয়া পরিবহনের চালক হাবিবুর রহমান (৪৫), সুপারভাইজার সফর আলী (৫৫),বাসের ৩ সহকারী শামীম (২৬), আকরাম (৩৫) ও জাহাঙ্গীরকে (১৯) পুলিশ গ্রেফতার করেছে। এরা সবাই ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন।

FacebookTwitterDiggStumbleuponRedditLinkedinPinterest
Pin It
এই পাতার আরো খবর -