রোহিঙ্গাদের সহায়তায় বাংলাদেশের প্রশংসা যুক্তরাষ্ট্রের

নিউজ ডেস্ক,বর্তমানকণ্ঠ ডটকম: সেনা অভিযানে মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসা লাখ লাখ ক্ষতিগ্রস্ত রোহিঙ্গাদের পাশে দাঁড়ানোয়, তাদের আশ্রয় দেয়ায় ও তাদের কাছে সহায়তা পৌঁছে দেয়ার প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখায় বাংলাদেশের ভূমিকার প্রশংসা করেছে যুক্তরাষ্ট্র। স্টেট ডিপার্টমেন্টের এক বিবৃতিতে এ প্রশংসা করা হয়।

বিবৃতিতে রাখাইনে সন্ত্রাসী হামলা ও গ্রামগুলোতে ব্যাপক অগ্নিকাণ্ডের মতো ভয়াবহ মানবাধিকার লঙ্ঘনের পটভূমিতে প্রায় ২ লাখ ৭০ হাজার রোহিঙ্গার বাংলাদেশে এসেছে বলে জাতিসংঘ যে খবর দিয়েছে তাতে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্র।

চলমান রোহিঙ্গা সমস্যা নিয়ে জাতিসংঘ মানবাধিকার কমিশন ও রেডক্রসসহ আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর সাথে যুক্তরাষ্ট্র ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করে যাচ্ছে বলেও বিবৃতিতে জানানো হয়েছে।

২০১৬ সালের অক্টোবর থেকে এ পর্যন্ত মিয়ানমার থেকে বাস্তুচ্যুত ঝুঁকিপূর্ণ মানুষের মানবিক সহায়তায় প্রায় ৬৩ মিলিয়ন ডলার দেয়া হয়েছে বলেও ওই বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।

এদিকে গত ৬ সেপ্টেম্বর নাগাদ মোট ৬২ হাজার রোহিঙ্গা বাংলাদেশে অনুপ্রবেশের তথ্য বিবিসিকে জানিয়েছিলেন বাংলাদেশ জাতিসংঘ শরণার্থী সংস্থার মুখপাত্র ভিভিয়ান ট্যান। এর ঠিক দুই দিন পরই ৮ সেপ্টেম্বর এ সংখ্যা ২ লাখ ৭০ হাজারে পৌঁছেছে বলে জানান তিনি।

তার দেয়া তথ্যানুযায়ী, মাত্র দুই দিনের ব্যবধানে দুই লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ করে।

জানা গেছে, আরও প্রায় ৫ লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ করতে সীমান্ত পাড়ি দেয়ার চেষ্টা করছে।

ট্যান বলেন, "সেপ্টেম্বরের ছয় ও সাত তারিখে জাতিসংঘের সব সংস্থা এবং বিভিন্ন এনজিওর একটি যৌথ দল সীমান্তের যেসব এলাকায় শরণার্থীরা এসেছে বলে খবর পাওয়া গেছে সেসব এলাকায় গেছে। সেসময় তারা অনেক নতুন শরণার্থী দলের সন্ধান পেয়েছেন। এসব শরণার্থীরা মূলত আছে বিভিন্ন সীমান্তবর্তী গ্রামে। তারা যেখানেই থাকার মতো জমি পেয়েছে, সেখানেই থাকছে।"

বাংলাদেশের সাধারণ জনগণ শরণার্থীদের আশ্রয় দেয়ায় উদারতার পরিচয় দিচ্ছে বলেও উল্লেখ করেন ভিভিয়ান ট্যান।

প্রসঙ্গত, গত মাসের ২৪ আগস্ট থেকে প্রথম ১১ দিনে ৪৬ রোহিঙ্গা চমেক হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসেন। তার পরের ৬ দিনে আসেন আরও ৪০ জন। সব মিলে গত ১৭ দিনে ৮৬ রোহিঙ্গা চমেকে চিকিৎসা নিতে আসলো। যাদের বেশিরভাগই ছিলেন গুলিবিদ্ধ কিংবা বিস্ফোরণে দগ্ধ। আহতদের একজন ২৬ আগস্ট আরেকজন ৩০ আগস্ট মারা যান।  

গেল মাসের ২৪ অগাস্ট মুসলিম অধ্যুষিত রাখাইন রাজ্যে পুলিশ পোস্ট ও সেনা ক্যাম্পে হামলার ঘটনায় সীমান্তে ফের রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ শুরু হয়।

FacebookTwitterDiggStumbleuponRedditLinkedinPinterest
Pin It
এই পাতার আরো খবর -