সু চির শেষ সুযোগ, নইলে পরিস্থিতি ভয়ংকর: জাতিসংঘ

নিউজ ডেস্ক,বর্তমানকণ্ঠ ডটকম: মিয়ানমারের রাখাইনে রোহিঙ্গা মুসলিম শরণার্থীদের ওপর সেনাবাহিনীর নির্যাতন বন্ধের জন্য অং সান সু চির হাতে ‘শেষ সুযোগ’ দেখছেন জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্তেনিও গুতেরেস।

বিবিসিকে দেয়া সাক্ষাৎকারে গুতেরেস বলেন, ‘সু চি এখনই যদি ব্যবস্থা না নেন, তাহলে পরিস্থিতি ভয়াবহ হবে।’

জাতিসংঘ মহাসচিব বলেন, ‘আগামী মঙ্গলবার জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেবেন সু চি। ওই ভাষণই রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে সেনা অভিযান বন্ধের শেষ সুযোগ। তিনি যদি তার অবস্থান পরিবর্তন না করেন, তাহলে এই সংকট আরও মারাত্মক আকার ধারণ করবে।’

রাখাইনে রোহিঙ্গা মুসলিমদের জাতিগত নিধন করা হচ্ছে বলে আগেই সর্তক করেছে জাতিসংঘ।

কিন্তু মিয়ানমার বলছে, তারা গত মাসের ২৫ তারিখে পুলিশ ছাউনি এবং সেনা ক্যাম্পে সন্ত্রাসী হামলার পাল্টা জবাব হিসেবে এই অভিযান চালাচ্ছে। সাধারণ মানুষের ওপর কোনো ধরনের হামলা চালানো হচ্ছে না।

জাতিসংঘের চলতি সপ্তাহের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনকে সামনে রেখে বিবিসি অ্যান্তেনিও গুতেরেসের সাক্ষাৎকার নিয়েছে। সাক্ষাৎকারে গুতেরেস বলেন, ‘মঙ্গলবার রোহিঙ্গা ইস্যুতে জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেবেন সু চি। এটাই তার জন্য রোহিঙ্গাদের ওপর নির্যাতন বন্ধ ঘোষণার শেষ সময়।’

তিনি আরও বলেন, ‘সু চি যদি এখনও পরিস্থিতি বিপরীতমুখী না করে, তাহলে আমি মনে করি ট্রাজেডি একেবারে ভয়ঙ্কর হবে, এবং দুর্ভাগ্যবশত আমি দেখতে পাচ্ছি না কিভাবে ভবিষ্যতে এই পরিস্থিতি বিপরীতমুখী হতে পারে।’

জাতিসংঘ মহাসচিব পুনরায় বলেন, রোহিঙ্গাদের বাড়ি ফেরার অনুমতি দেয়া উচিত।

গুতেরেস আরও বলেন, ‘এটা স্পষ্ট যে, মিয়ানমারে সেনাবাহিনী এখনও আপার হ্যান্ড। রাখাইনে যা ঘটছে তা করছে সেনাবাহিনী চাপ দিচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।’

শান্তিতে নোবেলজয়ী অং সান সু চি অনেকদিন মিয়ামারের (বার্মা) সামরিক জান্তা সরকারের অধীনে গৃহবন্দি ছিলেন। বর্তমানে রোহিঙ্গা পরিস্থিতি সামাল দিতে না পারার কারণে তিনি বিশ্বব্যাপী সমালোচিত হচ্ছেন।

নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনেও যোগ দিচ্ছেন না সু চি। সু চি বলছেন, রাখাইনে রোহিঙ্গাদের ওপর নির্যাচন চালানো হচ্ছে না। কিছু গণমাধ্যম মিথ্যা সংবাদ ছাপিয়ে বরং সন্ত্রাসীদের সমর্থন দিচ্ছে।

প্রসঙ্গত, রাখাইনে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর সহিংসতার কারণে ইতোমধ্যে নতুন করে ৪ লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে এসে আশ্রয় নিয়েছে। কিন্তু বাংলাদেশ রোহিঙ্গাদের প্রবেশ সীমিত করার ঘোষণা দেয়ার পর এই হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করলেন জাতিসংঘ মহাসচিব।

বাংলাদেশ পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, নির্ধারিত এলাকার বাহিরে রোহিঙ্গারা চলাফেরা করতে পারবে না। এজন্য পরিবহণ চালকদের রোহিঙ্গাদের বহন না করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

FacebookTwitterDiggStumbleuponRedditLinkedinPinterest
Pin It
এই পাতার আরো খবর -