হৃদয়পটে আজ কেবলই স্মৃতি

শ্রীঅ রবিন্দ ধর, বর্তমানকন্ঠ ডটকম : সবাইকে চলে যেতে হবে তা চিরসত্য জেনে ও মানুষ সম্পদের পাহাড় গড়তে, মানুষের শত্রু  মানুষ।  -মনুষত্ব শব্দটি  সর্বজন  অভিধান থেকে আজকাল মুছে ফেলেছে। কেন আজ ভাবনা জেগেছে মনে -নেত্রকোণা বাসা থেকে ময়মনসিংহ এসে ৪ জুটির -হুমায়ুন -দিপাঙ্করদা মোবাইলে জানায় খালেদ মতিন ভাই আজ সন্ধা ৮-৪০ মিনিটে  ঢাকা মনোয়ারা হাসপাতালে মারা গেছে। এ খবরটি মন থেকে মেনে নিতে পারছি না -গত শুক্রবার পাবলিক হলে কনভেনশনে শেষ দেখা। বর্তমানে -মতিন ভাই -দিপাঙ্করদা হুমায়ুন ও আমি রাত বারটা একটা পর্যন্ত -কাব্যরসে ভেসে বেড়াতাম শহরে এদিক -সেদিক। মালনী রোডে তারা তিন জন দুধ চা আর আমি লাল চা খেতে বসে রাজনীতি, ধর্মবিষয়ক,  সাহিত্য চর্চায় কত না মতভেদ সৃষ্টিতে চটিয়ে আড্ডায় সময় কাটিয়ে দিতাম।
১ম কবিতার বই মহাভারতের পাখী প্রকাশনার সময় বই মেলা, বিশ্ব সাহিত্য কেন্দ্র, দৈনিক জনকন্ঠ,  দৈনিক ভোরের কাগজ -দৈনিক প্রভাত - দৈনিক অর্থনীতির কাগজ -দৈনিক সংবাদ কার্যালয়ে সমালোচনা লেখার জন্য প্রায় এক সপ্তাহ
দু ' জন থেকে চেষ্ঠা করি প্রত্যেক কে ১টি করে বই উপহার দেই কিন্তু বাস্তবে দেখা গেল কেহই মফস্বলের কবিকে নিয়ে ২ লাইন লেখার সময় পায়নি। তখন আমি দৈনিক প্রভাত ও দৈনিক অর্থনৈতির কাগজের জেলা প্রতিনিধির দায়িত্বে থাকায় নিজেই কবির ১ম প্রকাশনার  বইটি নিয়ে লিখে ছাপিয়ে কবিকে উৎসাহিত করি। এ মহৎ গুনীজন আন্তরিক মানুষটিকে নিয়ে স্মৃতিচারন করে শেষ করতে পারব না। নেত্রকোণায় অন্তরঙ্গ আলোকে মতিন ভাইকেই প্রথম স্থান না দিলে কার্পন্যতা হবে। এ পর্যন্ত ৪টি বই প্রকাশিত হয়েছে -এবং আর একটি প্রকাশনার জন্য সর্বক্ষন ব্যাস্ততায় ছিলেন। প্রতিদিন চায়ের টাকা তিনি দিয়ে আনন্দ পেতেন। সকলের মৃত্যু সময় নির্ধারিত তাই প্রমান হল প্রতিদিনের মত বেগটি কাঁদে নিয়ে গত শনিবার সকালে বাসা থেকে বেড়িয়ে রাস্তায় চলতে গিয়ে একটি ছেলের চলমান বাই সাইকেলের ধাক্কালেগে রাস্তায় পড়ে মাথায় আঘাত লাগে। জরুরি অবস্থায়  ঢাকা মনোয়ারা হাসপালে চিকিৎসার জন্য ভর্তি করা হয়।  মনোয়ারা হাসপাতালেই আজ সন্ধ্যায় সকলের মায়া মমতা ত্যাগকরে পরপারে চলে গেছেন। সহসাথী -সহধর্মিণী -অর্ধাঙ্গিনী স্ত্রী  ও দুই মেয়ে -নাত -নাতনি আত্মীয় স্বজন সহ অনেক গুনগ্রাহী রেখে গেছেন। নেত্রকোণার আকাশ -বাতাসে আজ শোকের ছায়া নেমে এসেছে। শোকের মাঝেই - বিদেহী আত্মার জন্য পরম প্রভূর সকাশে শান্তি প্রার্থনা করছি।  কবি মরে ও মরেনি বেঁচে থাকবে চিরদিন নেত্রকোণা বাসীর অন্তরে -অন্তরে  শোকাহত হৃদয়ে এ প্রত্যাশা আমার।

FacebookTwitterDiggStumbleuponRedditLinkedinPinterest
Pin It