নির্যাতনকারীদের ‘কালো তালিকা’ করছে বিএনপি

নিউজ ডেস্ক, বর্তমানকণ্ঠ ডটকম: বিরোধীদলের নেতাকর্মীদের যারা নিপীড়ন-নির্যাতন করছে, তাদের কালো তালিকা করা হচ্ছে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে বিএনপি।

শনিবার (১০ জুন) সকালে নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী এই হুঁশিয়ারির কথা জানান। রিজভী বলেন, ‘ক্ষমতা হারানোর আতঙ্কে এখন সরকার ভীত হয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও দলীয় ক্যাডারদের ব্যবহার বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।

প্রতিদিনই খবরে কাগজ খুললেই চোখে পড়ে বিচারবর্হিভূত হত্যাকাণ্ডের এবং গুমের খবর। সারাদেশে বিরোধীদলের ইফতার অনুষ্ঠান পুলিশ পণ্ড করে দিচ্ছে।’

‘আমি আবারো তাদের বলতে চাই, আপনারা থামেন। আপনারা মনে করছেন যে, দেশবাসী, জনগণ, বিরোধীদল- ঝড় হচ্ছে আর বালির মধ্যে উটপাখির মতো মাথা গুজে বসে নাই।

আপনাদের কালো তালিকা রচিত হচ্ছে যারা অন্যায় করছেন, অত্যাচার করছেন, অন্যায্য কাজ করছেন। আপনারা কেউ পার পাবেন না। আপনাদের কালো তালিকা রচিত হচ্ছে’ বলেন রিজভী।

তিনি বলেন, ‘একদিন এই অন্যায়ের, এই অবিচারের, এই ঘৃণ্য মানববিধ্বংসী কাজের হিসাব আপনাদেরকে দিতে হবে, আপনারা জঘন্য মানবতাবিরোধী কাজ করছেন এজন্য বিচারের মুখোমুখি আপনাদের হতে হবে।’

নরসিংদীর পলাশ, ঢাকার দোহার, মাদারীপুরের শিবচরে গতকাল স্থানীয় বিএনপির ইফতার অনুষ্ঠান পণ্ড করে দেয়ার কয়েকটি ঘটনা তুলে ধরে রুহুল কবির রিজভী বলেন, ‌‘রমজান মাসেও বিরোধীদলের ধর্মীয় অনুষ্ঠান করারও তারা অধিকার রাখছে না।

সেখানে ধারালো খড়গ উদ্যত করছে, পণ্ড করছে, আক্রমণ করছে, আঘাত করছে, রক্ত ঝরাচ্ছে। শুধু তাই নয়, তারা পরে উল্টো বিরোধীদলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে দ্রুত বিচার আইনে মামলা করছে, নেতাকর্মীদের বাড়িতে বাড়িতে তল্লাশির নামে তাণ্ডব চালাচ্ছে পুলিশ ও শাসক দলের ক্যাডাররা।

এখন পুলিশ ক্ষমতাসীন দলের সাংগঠনিক নেতৃত্বে দায়িত্ব পালন করছেন। পুলিশ ও আওয়ামী লীগ এখন একাকার, মিশ্রিত একটি সংগঠনের পরিণত হয়েছে।’

বিচারবর্হিভূত হত্যাকাণ্ডের প্রসঙ্গে রিজভী আহমেদ বলেন, ‘প্রতিদিনই খবরে কাগজ খুললেই চোখে পড়ে বিচারবর্হিভূত হত্যাকাণ্ডের এবং গুমের খবর। এমন কী- সাধারণ মানুষকে হত্যার করার পর ডাকাত কিংবা সন্ত্রাসী বানিয়ে বন্দুকযুদ্ধে নাটক বানানো হচ্ছে। এর পেছনে আবার আর্থিক লেনদেনও থাকে।

কোনো একজন ব্যবসায়ীকে বলা হলো টাকা দেয়, না হলে কিন্তু বন্দুকযুদ্ধে মেরে ফেলা হবে। যখন দিতে পারছে না, তখন ক্রসফায়ার দেয়া হচ্ছে, তার বিরুদ্ধে ডাকাতির মামলা দেয়া হচ্ছে।’ ‘এই নাটক এতো বেশি মঞ্চস্থ করা হয়েছে যে, বন্দুকযুদ্ধের নাটক জনগণ এখন আর বিশ্বাস করে না।

জনগণ মনে করে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে হত্যার জন্য বন্দুকযুদ্ধের এই নাটক প্রচার করা হয়। আমি এই গুম-খুন-হত্যা ও পুলিশের মামলা দিয়ে গ্রেফতার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ করছি।’

গত বৃহস্পতিবার রাতে নরসিংদীর জেলা ছাত্রদলের সহ-সাধারণ সম্পাদক ছিদ্দিকুর রহমান নাহিদ ও তার খালাত ভাই ওয়াজিউল্লাহ লালকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পরিচয়ে তুলে নিয়ে যাওয়ার পর এখনো সন্ধান না পাওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করে তাদের অবিলম্বে জনসম্মুখে হাজির করার দাবি জানিয়েছেন রিজভী।

সংবাদ সম্মেলনে দলের চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা শামসুল আলম, যুগ্ম-মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, সাংগঠনিক সম্পাদক রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু, আইন বিষয়ক সম্পাদক সানাউল্লাহ মিয়া প্রমূখ উপস্থিত ছিলেন।

FacebookTwitterDiggStumbleuponRedditLinkedinPinterest
Pin It
এই পাতার আরো খবর -