জাতিকে বিভক্ত করছে বিএনপি: কাদের

নিজস্ব প্রতিবেদক,বর্তমানকণ্ঠ ডটকম: রোহিঙ্গা ইস্যুতে বিএনপি পুরো জাতিকে বিভক্ত করছে বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

শনিবার (১৬ সেপ্টেম্বর) বিকেলে ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগ সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ে দলের ১৯ সদস্যের চীন যাওয়ার বিষয়ে এক বৈঠক শেষে তিনি সাংবাদিকদের সামনে এমন মন্তব্য করেন।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘আজ সারা দুনিয়া একবাক্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রশংসা করছে। এই পরিস্থিতি সুন্দরভাবে মেনেজ করার জন্য বাংলাদেশ সরকারের প্রশংসা করা হচ্ছে। কিন্তু শুধুমাত্র একটি (বিএনপি) দল প্রশংসা করতে পারছে না। তারা হচ্ছে বিএনপি। এই বিএনপিই আজ রোহিঙ্গা ইস্যুতে গোটা জাতিকে বিভক্ত করছে।’

খালেদা জিয়ার দেশে না ফেরা নিয়ে কাদের বলেন, ‘দেশে এমন সঙ্কটময় পরিস্থিতি চলছে, আর তিনি (খালেদা) বসে আছেন লন্ডনে। আমরা অবাক হই তিনি বারবার এসময়ে দেশে ফেরার তারিখ পরিবর্তন করছেন। আমরা জানতাম তিনি ১৫ তারিখ দেশে ফিরবেন। কিন্তু এখন শুনি এই মাসেও নাকি তিনি দেশে ফিরবেন না। তিনি কেন দেশে আসছেন না?’

রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে সবার সহযোগিতা কামনা করে মন্ত্রী বলেন, ‘সবার উপরে দেশ। আমরা সবার সহযোগিতা চাই। তিনি (খালেদা জিয়া) লন্ডনে বসে দেশের বাস্তবতা কি বুঝতে পারছেন?’

বিএনপির ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রমে বাধা দেওয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘সব জায়গায় একটা নিয়ম আছে। তারা কোনও নিয়ম মানেনি। জেলা প্রশাসকের সঙ্গে কোনও যোগাযোগ করেনি। বিএনপির নেতাদের নিরাপত্তার একটা বিষয় থাকে। ওখানে তাদের নিরাপত্তা দেবে কে? তারা তো কারও সঙ্গে ত্রাণ দেয়ার ব্যাপারে যোগাযোগ করেনি।’

বিএনপির ত্রাণের পরিমাণ নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করে সরকারের এই মন্ত্রী বলেন, ‘কোন মালামালের ভেতর কি আছে কে জানে? ত্রাণ দেওয়ার নামে নাটক করছে বিএনপি। অনিয়মের কারণেই তাদের বাধা দেওয়া হয়েছে।’

শৃঙ্খলা না মানায় বিএনপি বাধার সম্মুখীন হয়েছে ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, ‘একটা রুলস আছে, জেলা প্রশাসকের নেতৃত্বে কমিটির মাধ্যমে সবাই ত্রাণ দিচ্ছে। আমরা নিজেরাও সেভাবেই দিয়েছি। কিন্তু বিএনপি নিয়ম মানতে চায় না। ২০ দিন পরে তারা কক্সবাজার গেছে। তারা মিডিয়াকে সাথে নিয়ে গেছে। তারা পুলিশের সাথেও যোগাযোগ করেনি। তারা গেছে কয়েকটা নিউজ আর ছবির জন্য।’

রোহিঙ্গা সংকট সামাধানে সারা বিশ্ব এগিয়ে এসেছে উল্লেখ করে কাদের আরও বলেন, ‘শেখ হাসিনার জনপ্রিয়তা এখন তুঙ্গে। বিএনপি চেয়েছিল আদালতের ইস্যুটি নিয়ে ঘোলা পানিতে রাজনীতি করতে। মনে রাখতে হবে, সারা দুনিয়া এক দিকে আর বিএনপি একা এক দিকে।’

তিনি বলেন, ‘আমরা এখন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে যাচ্ছি। সরকার কঠিন সময় পার করছে। এর আগেও আমাদের দেশে ৭ লাখ রোহিঙ্গা এসেছে। এখনও আসছে, স্রোতের মত আসছে। এটা আমাদের জন্য আন বেয়ারেবল বার্ডেন।’

কাদের বলেন, ‘সম্প্রতি অর্ধেক বাংলাদেশে বন্যা হয়েছে। বন্যার পানি নেমে গেছে। কিন্তু যেসব মানুষ বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে তাদের পুনর্বাসন, চিকিৎসাসহ সবকিছু করা হচ্ছে। হাওরে যেখানে হাজার হাজার মণ চাল উৎপাদন হয় সেখানে এবার কোনও কিছুই পায়নি বন্যার কারণে। হাওরবাসী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এবার আমাদেরও কোনও চাল উদ্বৃত্ত নেই। ফলে বানভাসিদের স্বার্থে দেশের স্বার্থে সরকার চাল আমদানির সিদ্ধান্ত নিয়েছে।’

সড়ক পরিবহণ ও সেতুমন্ত্রী বলেন, ‘রোহিঙ্গা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সবাই একসাথে কাজ করে যাচ্ছি। আমাদের পাশের দেশ ভারতও সহযোগিতা করছে। ইরান, মরক্কো সহযোগিতায় এগিয়ে আসছে। এখন তাদের নিরাপত্তা, খাবার, চিকিৎসাসহ সব ধরনের ব্যবস্থা করার জন্য সেনাবাহিনীকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। যেসব ত্রাণ আসছে সেগুলো রিসিভ করে সেনাবাহিনীর হাতে তুলে দেওয়া হচ্ছে।’

এসময় তিনি বলেন, ‘আগামী ১৮ তারিখ রাত সাড়ে ১২টায় চীনের উদ্দেশে ১৯ সদস্যর একটি দল দেশ ছাড়বে। আর আগামী ২৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চীনে অবস্থান করবে। চীনে আমাদের যে টিমটি যাচ্ছে তারা সব বিষয় নিয়ে আলোচনা করবে। পার্টি টু পার্টি আলোচনা করবে। ১৯ সদস্যের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেবেন দলের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য কর্নেল (অব.) ফারুক খান।’

এসময় প্রতিনিধি দলের সদস্য দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ডা. দীপু মনি, সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক অসীম কুমার উকিল, আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ড. শাম্মী আহমেদ, আইন বিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট শ. ম রেজাউল, তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট আফজাল হোসেন, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার আব্দুস সবুর, বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন, মহিলা বিষয়ক সম্পাদক ফজিলাতুন্নেসা ইন্দিরা, শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক শামসুর নাহার চাপা, উপ-দফতর সম্পাদক বিপ্লব বড়ুয়া, কার্যনির্বাহী সদস্য বদরউদ্দিন আহমদ কামরান, দীপঙ্কর তালুকদার, পারভীন জাহান কল্পনা, অ্যাডভোকেট রিয়াজুল কবির কাওসার, মেরিন জাহান, রেমন আরেং ও সংসদ সদস্য হাবিবে মিল্লাত উপস্থিত ছিলেন।

FacebookTwitterDiggStumbleuponRedditLinkedinPinterest
Pin It
এই পাতার আরো খবর -