‘বড় হারে বড় শিক্ষা’বাংলাদেশের

স্পোর্টস ডেস্ক,বর্তমানকণ্ঠ ডটকম: ওয়ানডে আর টি-টোয়েন্টির পর সম্প্রতি টেস্টেও ভালো খেলতে শুরু করেছে বাংলাদেশ। ইংল্যান্ডের পর শ্রীলঙ্কা ও শক্তিশালী অস্ট্রেলিয়াকেও টেস্টে হারিয়েছে মুশফিক বাহিনী। তাই চলমান দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে সাদা পোশাকে ভালো কিছু করারই প্রত্যয় ছিল। তবে হলো উল্টোটা। পচেফস্ট্রুম টেস্টে স্বাগতিকদের কাছে ৩৩৩ রানের বিশাল ব্যবধানে পরাজয়ের তিক্ততা হজম করতে হলো হাথুরু শিবিরকে। শেষ কবে বাংলাদেশ এত বড় হার বরণ করেছিল তা একদমে বলতে না পারলেও পচেফস্ট্রুম টেস্টে ‘বড় পরাজয়ে বড় শিক্ষা’ই হয়তো নিলো মুশফিকরা।

সোমবার সকালে পচেফস্ট্রুমের আকাশে প্রকৃতি ভেদ করে লাল টুকটুকে সূর্যটা উঁকি দিয়েছিল। বাংলাদেশও ভালো কিছু করার প্রত্যয়ে দিন শুরুর অপেক্ষায় ছিল। ব্যাট হাতে দিনটা পার করার প্রত্যয় ছিল। ছিল ম্যাচটা ড্র করার প্রয়াস। কিন্তু কোত্থেকে হুট ছুটে আসা উদ্ভ্রান্ত এক কালো মেঘ গোটা আকাশটাকে অন্ধকারে ঢেকে দিল। না, সেই আকাশ পচেফস্ট্রুমের নয়, টাইগারদের স্বপ্নের। মাত্র ৪১ রানের ব্যবধানে ৭ উইকেট হারিয়ে মুহূর্তেই যেন সব কিছু চুরমার হয়ে গেল মুশফিকদের। স্বপ্নটাও ভেঙে গেল সকাল সকাল।

অবশ্য স্বপ্নভঙ্গের শুরুটা চতুর্থ দিন বিকেলেই। মাত্র ৪৯ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে অনেকটাই ব্যাকফুটে থেকে দিন শেষ করে বাংলাদেশ। তারচেয়েও বড় বিধ্বংসটা তৈরি হয়েছিল প্রথম ওভারেই ইনফর্ম তামিম-মুমিনুলের বিদায়ে। মরকেলের সেই স্পেলেই মিডল স্টাম্প উড়ে গিয়েছিল মুশফিকেরও। কিন্তু নো বলের কল্যাণে টাইগার ক্যাম্পেন সাময়িক রক্ষা পেলেন।

ধুকতে থাকা বাংলাদেশকে তখন কোনও রকম একটু সামলে নিচ্ছিলেন অপেনার ইমরুল ও মুশি। কিন্তু ভাগ্য বাম হলে যা হওয়ার তাই হলো। চা বিরতির এক ওভার আগেই কেশব মহারাজের স্পিনের ফাঁদে পা দিয়ে উইকেটরক্ষক ডি ককের হাতে তালুবন্দি হন ইমরুল।

এর পর বৃষ্টির কারণে আর মাঠে গড়ায়নি থার্ড সেশন। ইমরুলও হয়তো মনে মনে ভেবে আক্ষেপ করেছেন- ইস, যদি আর একটি ওভার কাটিয়ে দেয়া যেতো তবে পঞ্চম দিনের সকালটা নতুন করে শুরু করা যেতো। ইনিংসের চতুর্থ বলে বোল্ড তামিম, এক বলের ব্যবধানে এলবিডব্লিউ না হয়েও আম্পায়ারের ভুল সিদ্ধান্তের বলি মুমিনুল, অতঃপর তার রিভিও না নেয়া; আর দিনের শেষ মুহূর্তে ইমরুলের সেই আউট- সব মিলে চতুর্থ দিনের বিকেলটা বাংলাদেশের জন্য এক প্রকার দুঃস্বপ্নের মতোই ছিল।

৪২৩ রানের রান পাহাড় তাড়া করে বাংলাদেশ টেস্টটি জিতে যাবে- এমন কথা টাইগারদের অতি আবেগী সমর্থকও বোধহয় মাথায় নেননি। তবে চতুর্থ দিন বিকেলেও সেশনটি বৃষ্টিতে ভেসে যাওয়ায় টাইগারদের সামনে ম্যাচ ড্র করার বড় সুযোগ হাতছানি দিতে শুরু করে। হাথুরুর পরিকল্পনায়ও হয়তো তেমনটিই ছিল।

প্ল্যান অনুযায়ীই পঞ্চম দিনের সকালটা শুরু করতে চেয়েছিলেন দুই অভিজ্ঞ ক্যাম্পেইনার মুশফিক ও মাহমুদউল্লাহ। কিন্তু হলো হিতে বিপরীত। রাবাদার হাতে ক্যাচ দিয়ে মুশফিক সাজঘরে ফেরার পরক্ষণেই মহারাজের শিকার হলেন আগের মতো ৬৬ করা মাহমুদউল্লাহ। তর সইলো না উইকেট কিপার ব্যাটসম্যান লিটন দাসেরও। রাবার ইনসুইং বলটিকে ছেড়ে দিতে গিয়ে লেগ বিফোর উইকেট হয়ে ফিরেন লিটন। ধারাবাহিক পতনের শিকার সাব্বিরও। এবারও ঘাতকরূপী ঘূর্ণি বোলার মহারাজা। এর পর একে একে ফিরেন মিরাজ-মোস্তাফিজ-তাসকিনরা।

এখন একটি কথা বলাই যায়, ম্যাচ শুরুর আগে প্রোটিয়া কিউরেটরের কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল- উইকেটে স্পিনাররা কোনও ধরনের অ্যাডভান্টেজ পাবে কিনা। তার জবাব ছিল স্পষ্ট- ‘উইকেটটা পেসারদের জন্য বেশি সহায়ক হবে। তবে স্পিনটা করতে জানতে হবে। ভালো স্পিন করতে পারলে এখানেও উইকেট তুলে নেয়া সম্ভব।’ মিরাজরা সে কাজটি পুরোটা করতে না পারলেও করে দেখিয়েছেন প্রোটিয়া স্পিনার কেশব মহারাজা। দুই ইনিংস মিলিয়ে নিয়েছেন ৭ উইকেট। যেখানের মিরাজের ঝুলিটা একদমই ফাঁকা। পেসারদের বেলায়ও একই কথা। মরকেল-রাবাদারা বাউন্সি উইকেটটাকে যেভাবে কাজে লাগিয়েছেন তার ছিটেফোঁটাও দেখা যায়নি মোস্তাফিজ-শফিউল-তাসকিনদের বলে।

সেজন্যই যে কথাটি চতুর্থ দিন শেষে বলা হচ্ছিল- প্রকৃতিই পারে এ যাত্রায় বাংলাদেশের মান বাঁচাতে। পঞ্চম দিন বৃষ্টির জোর সম্ভাবনার কথাও জানিয়েছিল স্থানীয় আবহাওয়া অধিদফতরও। কিন্তু পচেফস্ট্রুমের আকাশে মেঘ ভাঙার আগেই রাবাদা-মহারাজা তোপে ভেসে গেল বাংলাদেশ। বড় হারে বড় শিক্ষা নিলো বাংলাদেশ।

এর আগে প্রথম ইনিংসে ৩ উইকেটে ৪৯৬ রান করে ইনিংস ঘোষণা করে প্রোটিয়ারা। জবাবে ৩২০ রানে অলআউট হয় বাংলাদেশ। ১৭৬ রানে এগিয়ে থেকে দ্বিতীয় তৃতীয় ইনিংসে ৬ উইকেটে ২৪৭ রান তুলে বাংলাদেশের সামনে ৪২৪ রানের বিশাল টার্গেট ছুড়ে দেয় স্বাগতিকরা। লক্ষ্য তাড়া করতে নামা বাংলাদেশে শুরু থেকে বিপর্যয় সামলোর চেষ্টায় মাত্র ৯০ রানে গুটিয়ে যায়। রানের দিক থেকে এটি বাংলাদেশের তৃতীয় বৃহত্তম পরাজয়।

FacebookTwitterDiggStumbleuponRedditLinkedinPinterest
Pin It
এই পাতার আরো খবর -