শনিবার, ১৩ জুলাই ২০২৪, ০২:০০ পূর্বাহ্ন

করোনা: যে সব সীমান্ত এলাকা চাঁদপুরের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ

বর্তমানকণ্ঠ ডটকম / ০ Views পাঠক
বুধবার, ৮ এপ্রিল, ২০২০

এ কে আজাদ, ব্যুরো প্রধান, বর্তমানকন্ঠ ডটকম, চাঁদপুর: করোনা ভাইরাস প্রতিরোধ করার জন্য চাঁদপুরের জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন, সেনাবাহিনী, জনপ্রতিনিধি ও সামাজিক সংগঠনসহ বহু মানুষ পরিশ্রম করে যাচ্ছে যার ফলে এখন পর্যন্ত চাঁদপুরে কোথাও আক্রান্তের খবর পাওয়া যায়নি কিন্তু চাঁদপুরের আশাপাশের জেলা গুলো আক্রান্ত হওয়ার কারনে ওই সব জেলার সীমান্ত এলাকা দিয়ে চাঁদপুরে মানুষের প্রবেশ এখন ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। সরকারি নির্দেশনা মানার জন্য সাধারণ মানুষকে বলা হলেও কিছু মানুষ করোনা ভাইরাসের ভয়াবহতা সম্পর্কে অজ্ঞ।

চাঁদপুর জেলার ৪টি উপজেলা মেঘনা উপকূলীয় অঞ্চল। এর মধ্যে মতলব উত্তর উপজেলায় নৌ-পথে নারায়নগঞ্জ, মুন্সিগঞ্জ জেলা থেকে খুব সহজেই প্রবেশ করতে পারেন। পাশাপাশি মতলব দক্ষিণ ও চাঁদপুর সদর উপজেলায় শরীয়তপুর ও মাদারীপুরের লোকজন আসতে পারেন ট্রলারে করে। এছাড়া হাইমচর উপজেলায় প্রবেশ করতে পারেন শরীয়তপুর, বরিশাল, ভোলাসহ দক্ষিণাঞ্চলের লোকজন। চাঁদপুর-শরীয়তপুর ফেরি রুটেও অন্যান্য জেলা থেকে সহজেই প্রবেশ করার একটি মাধ্যম।চাঁদপুরের চার পাশের সীমান্ত জেলার মধ্যে লক্ষ্মীপুর ছাড়া বাকীগুলোতে ইতোমেধ্য করোনায় লোকজন আক্রান্ত হয়েছেন। বেশী আক্রান্ত হওয়ার কারণে মঙ্গলবার রাতই নারায়নগঞ্জ জেলা লকডাউন করা হয়েছে। অপরদিকে সড়ক পথেও মতলব উত্তর ঝুঁকিপূর্ণ। কুমিল্লা, নারায়নগঞ্জ ও ব্রাহ্মনবাড়িয়া জেলা থেকে সড়ক পথে প্রবেশ খুবই সহজ। শাহরাস্তি ও কচুয়া চাঁদপুর-কুমিল্লা সড়ক ও সংগযোগ সড়ক দিয়ে সহজেই প্রবেশ করতে পারেন। এসব এলাকায় বাইপাস সড়কও রয়েছে। ফরিদগঞ্জ ও হাইমচর উপজেলার সাথে সম্পর্ক লক্ষ্মীপুর জেলার। লক্ষ্মীপুর জেলার রামগঞ্জ, রায়পুর উপজেলার সাথে ফরিদগঞ্জ ও হাইমচর উপজেলার লোকজনের যাতায়াত রয়েছে।

উল্লেখিত যোগাযোগ ব্যবস্থাগুলোতে জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও জনপ্রতিনিধিদের উদ্যোগে সরকারি নিদের্শনার মধ্যে থাকা যানবহন ছাড়া সকল বাহন বন্ধ করা খুবই জরুরি। ঠিক এই মুহুর্তে এই কাজটি করার জন্য বিভিন্ন মহলে দাবীও উঠেছে।

ইতোমধ্যে চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এ, এম জহিরুল হায়াত নৌপথে সকল নৌ-যান বন্ধ করার ঘোষণা দিয়েছেন। এখন তা বাস্তবায়ন করতে হবে।

নারায়নগঞ্জ থেকে চাঁদপুরে বিভিন্নভাবে লোকজন প্রবেশ করায় ইতোমধ্যে বালিয়া, চান্দ্রা ও মৈশাদী ইউনিয়নে ২১ বাড়ি লক ডাউন করা হয়েছে। সাধারণ মানুষ কিছুটা সচেতন হওয়ার কারণে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানদের মাধ্যমে নারায়নগঞ্জ থেকে আসা লোকজন এখন হোম কোয়ারেন্টিনে আছেন। হাইমচর উপজেলাও নারায়নগঞ্জ থেকে এসে কয়েকজন অবস্থান নিয়েছেন।

মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) থেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে চাঁদপুর জেলা লকডাউনের দাবী উঠলেও ঠিক এই মুহুর্তে লকডাউন কতটা জরুরি তা জেলা প্রশাসন অবশ্যই সকলের সাথে আলোচনা করে বিবেচনা করবেন।

চাঁদপুরের পদ্মা-মেঘনা নদী ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ার কারণে সোমবার বিকেল থেকে চাঁদপুর জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে নৌ-যান চলাচল না করার জন্য মাইকিং করে ঘোষণা দেয়া হয়েছে। ট্রলার চলাচল সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করার বিষয়টি বাস্তবায়ন মনিটরিং জরুরি।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই পাতার আওর সংবাদ