1. azadkalam884@gmail.com : A K Azad : A K Azad
  2. bartamankantho@gmail.com : বর্তমানকণ্ঠ ডটকম : বর্তমানকণ্ঠ ডটকম
  3. cmisagor@gmail.com : বর্তমানকণ্ঠ ডটকম : বর্তমানকণ্ঠ ডটকম
  4. hasantamim2020@gmail.com : হাসান তামিম : হাসান তামিম
  5. khandakarshahin@gmail.com : Khandaker Shahin : Khandaker Shahin
শনিবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১১:৫৩ অপরাহ্ন




কোরআন থেকে গবেষণা – সৃষ্টিতত্ত্বের নূতন তত্ত্ব আবিষ্কার করলেন সাংবাদিক রবিউল ইসলাম

বর্তমানকন্ঠ ডটকম, ভোলাহাট, চাঁপাইনবাবগঞ্জl
  • প্রকাশিত : সোমবার, ২২ ফেব্রুয়ারি, ২০২১

কোরআনের নির্দেশনাকে মূল ভিত্তি ধরে “বিশ্বতত্ত্ব : কোরআন ও বিজ্ঞান” শিরোনামে গবেষণায় সৃষ্টিতত্ত্বের নূতন তত্ত্ব আবিষ্কার করেছেন সাংবাদিক রবিউল ইসলাম। তিনি স্থানীয় ইতিহাস-ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি গবেষণা প্রতিষ্ঠান ‘শেখজী অন্বীক্ষণ কেন্দ্র ভোলাহাট’-এর প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান ও প্রধান গবেষক। তিনি তাঁর গবেষণায় স্থির করেন যে,‘মহাবিশ্ব’ সৃষ্টির পূর্বে ‘মহান স্রষ্টা আল্লাহ্, তাঁর নূর মুবারক, পানি ও আল্লাহ্র সিংহাসন’-এর অস্তিত্ব ছিল। তিনি ৬ দিনে ও ৩ ধাপে মহাবিশ্ব সৃষ্টি করেছেন। প্রথম ধাপের ২ দিনে পৃথিবী, দ্বিতীয় ধাপের ২ দিনে সপ্ত-আকাশ, তৃতীয় ধাপের ২ দিনে ‘পৃথিবী ও আকাশম-লীর মধ্যবর্তী সৃষ্টিসমূহ’ এবং চারদিনের মধ্যে প্রাণীসমূহের রিজিক সৃষ্টির রহস্য উম্মোচন করেন।

গবেষক রবিউল ইসলাম দীর্ঘ ছয় বছরের গবেষণায় আল কোরআনের সুনির্দিষ্ট প্রত্যাদেশ সমূহের নির্দেশনা অবলম্বনে ৬ দিনে ও ৩ ধাপে মহাবিশ্ব সৃষ্টির ধারাবাহিকতায় ২ দিনে পৃথিবী সৃষ্টি, ২ দিনে সপ্ত-আকাশ ও শেষ ২ দিনে পৃথিবী ও আকাশম-লীর মধ্যবর্তী বস্তুসমূহ সৃষ্টি এবং চারদিনের মধ্যে প্রাণীসমূহের রিজিক সৃষ্টির তত্ত্ব উদঘাটন করতে সক্ষম হন। তিনি মহান স্রষ্টা আল্লাহ্, মহাবিশ্ব সৃষ্টির সূচনা, সৃষ্টির উদ্দেশ্য, একত্ববাদ, প্রতিনিধি প্রেরণ, সৃষ্টিতত্ত্ব, মহান স্রষ্টার নিদর্শন, পানি, বায়ু, মহাপ্রলয় প্রভৃতি বিষয়ে সৃষ্টির গূঢ় রহস্য উম্মোচনে অগ্রগামী হন এবং বিজ্ঞানীদের নাস্তিক্যবাদী মতবাদ ‘বিবর্তনবাদ’-এর তীব্র সমালোচনা করেন। রবিউল ইসলাম আল কোরআনের প্রত্যাদেশ সমূহকে মহাজ্ঞানের মূল ভিত্তি ধরে গবেষণাকার্য পরিচালনা করেন এবং সৃষ্টিতত্ত্ব রহস্য উম্মোচন করেন।

সাংবাদিক ও গবেষক রবিউল ইসলাম আল কোরআনের সূরা ফাতিহা ১:১, সূরা হূদ ১১:৭, সূরা ইউনূস ১০:৩, সূরা আম্বিয়া ২১:৩০, সূরা রূম ৩০:১১, সূরা বাক্বারাহ্ ২:২৯, সূরা হা-মীম-সাজ্বদাহ ৪১:৯-১২, সূরা হিজ্বর ১৫:১৯, সূরা রা’আদ ১৩:৩ আয়াতসহ আরো কিছু আয়াত সমূহের ওপর সৃষ্টিতত্ত্ব রহস্য সম্বন্ধে অনুসন্ধান, পর্যবেক্ষণ, মর্মার্থ বিশ্লেষণ ও অন্তর্নিহিত গভীর ভাবের গূঢ় রহস্য অনুধাবন করতঃ বিশ্বসৃষ্টির রহস্য আবিষ্কারে প্রশংসনীয় কৃতিত্বের সাক্ষর রাখতে সক্ষম হন। তিনি ১৪টি অধ্যায়ে ২৫০ পৃষ্ঠার গবেষণাকর্মে বিশদ সারগর্ভ জ্ঞানের অবতারণা করেন। নিচে চতুর্থ অধ্যায় থেকে সৃষ্টিতত্ত্ব রহস্যের সারাংশ সংক্ষিপ্ত পরিসরে সর্বসাধারণের জ্ঞাতার্থে তুলে ধরা হল:

মানুষের কাছে মহাবিশ্বের সৃষ্টি রহস্যময়!
বিজ্ঞানের পরিভাষায় পৃথিবী মহাবিশ্বের এক ক্ষুদ্র অংশ এবং ‘সৌরজগতের’ এক নগণ্য তৃতীয় গ্রহ। অর্থাৎ পৃথিবী মহাবিশ্বের এক অতি ক্ষুদ্র সদস্য মাত্র। কিন্তু আল কোরআনের বর্ণনানুযায়ী ‘পৃথিবী’ বিশেষ মর্যাদার অধিকারী। বিষয়টি সহজেই অনুমেয়, আল কোরআনে নিদর্শনাদির বিবরণের সাথে পৃথিবীর কথাই বেশি মাত্রায় গুরুত্বের সাথে বলা হয়েছে। আর তাই বিশ্বব্রহ্মা-ের সৃষ্টি রহস্য বা সৃষ্টিতত্ত্বের বিবরণে আল কোরআনে পৃথিবী বিশেষ মর্যাদায় অভিষিক্ত, উল্লেখিত ও সম্বোধিত হয়েছে। তবে সর্বোচ্চ মর্যাদা ও সম্মানের শিখরে আসীন রয়েছে সপ্তস্তরে বিন্যস্ত আকাশমন্ডলি; যেখানে মহান স্রষ্টা আল্লাহ্ তা’আলার প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনা বা প্রশাসন কেন্দ্র অবস্থিত। সূরা সাজ্বদাহ্ ৩২:৫ আয়াতে ইরশাদ হচ্ছে, ‘তিনি আকাশ হতে পৃথিবী পর্যন্ত সবকিছুই পরিচালনা করেন, অতঃপর তাঁর কাছে সমস্ত কিছুই বিচারের জন্য একদিন উপনীত হবে যেদিনের দৈর্ঘ্য হবে তোমাদের হিসাবে হাজার বছরের সমান।’ আকাশে মহান স্রষ্টা আল্লাহ্র প্রশাসন কেন্দ্র স্থাপিত হওয়ার কারণে অনুমিত হয় যে, আল কোরআনে মহাবিশ্ব সৃষ্টির নিদর্শন, উপমা বা উপদেশ বর্ণনায় আকাশ বা আকাশমন্ডলীর নাম আগে এসেছে। তবে মহাবিশ্ব সৃষ্টিতত্ত্বে সূরা বাক্বারাহ্ ২:২৯ আয়াত, সূরা আম্বিয়া ২১:৩০ আয়াত এবং সূরা হা-মীম সাজ্বদাহ্ ৪১:৯-১২ আয়াতে মহান স্রষ্টা আল্লাহ্ তা’আলা মানুষকে যে জ্ঞান দান করেছেন তাতে পৃথিবী সৃষ্টির কথা আগে বলা হয়েছে। অর্থাৎ উক্ত আয়াত সমূহে মহাবিশ্ব সৃষ্টির ধারাবাহিক বর্ণনা বিবৃত হয়েছে।

সৃষ্টির আদি উৎস ও অস্তিত্ব
মহাবিশ্ব সৃষ্টির পূর্বে মহান স্রষ্টা আল্লাহ্ তা’আলার অস্তিত্ব বিদ্যমান ছিল এবং তাঁর আরশ [সিংহাসন] পিন্ডাকৃতি মহাবিশ্বের অভ্যন্তরে পানির ওপর ছিল; অতঃপর ঐসময়ে তিনি মহাবিশ্ব সৃষ্টি করেন। আল কোরআনে মহান স্রষ্টা আল্লাহ্ তা’আলা মানুষকে তারই জ্ঞান দিয়েছেন; সূরা হূদ ১১:৭ আয়াতে ইরশাদ হচ্ছে,‘তিনিই আকাশম-লী ও পৃথিবী ছয় দিনে সৃষ্টি করেন যখন তাঁর আরশ পানির উপর ছিল তোমাদের মধ্যে কে আচরণে শ্রেষ্ঠ তা পরীক্ষা করার জন্য;‘মৃত্যুর পর তোমরা পুনরূত্থিত হবে’ তুমি এ বললেই অবিশ্বাসীরা নিশ্চয় বলবে,‘এতো [কোরআন] স্পষ্টতঃ অলীক কল্পনা।’

সূরা ইউনুস ১০:৩ আয়াতে ইরশাদ হচ্ছে,‘তোমাদের রব আল্লাহ্, যিনি আকাশম-লী ও পৃথিবী ছয় দিনে সৃষ্টি করেন, অতঃপর তিনি আরশে সমাসীন হন, তিনি সকল বিষয় নিয়ন্ত্রণ করেন; তাঁর অনুমতি ছাড়া সুপারিশকারী কেউ নেই; তিনিই আল্লাহ্ তোমাদের রব, সুতরাং তাঁর উপাসনা কর; তবুও কি তোমরা বুঝবে না?’

উক্ত [১০:৩] আয়াতে আল্লাহ্ তা’আলা বলছেন তোমাদের রব অর্থাৎ স্রষ্টা আল্লাহ্, যিনি আকাশম-লী ও পৃথিবী [অর্থাৎ মহাবিশ্ব] ছয়দিনে সৃষ্টি করেন, এরপরই তিনি আরশে সমাসীন হন, তিনি সকল বিষয় নিয়ন্ত্রণ করেন।

আল্লাহ্ই মহাবিশ্বের স্রষ্টা
মানুষকে বুঝতে হবে, যে কোন বস্তু বা স্থাপনার স্রষ্টা বা নির্মাণকারী আছেন। স্রষ্টা বা নির্মাতা ছাড়া কোন বস্তু অস্তিত্বশীল বা দৃশ্যমান হতে পারে না, তা জ্ঞানবান মানুষ বিশ্বাস করেন। কিন্তু কিছু অকৃতজ্ঞ নাস্তিক মানুষ তার উল্টো তত্ত্ব প্রচার করেন এবং এর ফাঁদে পড়ে কৃতজ্ঞ মানুষ বহু ক্ষেত্রে বিভ্রান্ত হয়ে পড়েন। মহাবিশ্ব যে দৈবাৎ সংঘটিত বিস্ফোরণের মাধ্যমে বিশৃংখলার মধ্য দিয়ে [অর্থাৎ ‘বিগ-ব্যাং’ তত্ত্ব অনুযায়ী] সংগঠিত হয়নি বরং এক মহান শক্তিধর সত্তা আল্লাহ্ তা’আলার তত্ত্বাবধানে এবং তাঁর মহাপরিকল্পনায় সৃষ্টি আল কোরআনে মহান স্রষ্টা আল্লাহ্ তা’আলা মানুষকে স্পষ্ট ভাবে জানিয়ে দিয়েছেন।

মহাবিশ্ব যে সেই মহান এক সত্তা আল্লাহ্র তত্ত্বাবধানে সৃষ্টি, তার মূলতত্ত্ব ব্যাখ্যা করে এমন সূরার আয়াতগুলোর মধ্য হতে নিম্নে উল্লেখ করা হল:
সূরা ফাতিহা ১:১ আয়াতে ইরশাদ হচ্ছে,‘সকল প্রশংসা আল্লাহ্ তা’আলার, যিনি বিশ্ব জগতের প্রতিপালক।’ অর্থাৎ আল্লাহ্ তা’আলাই মহাবিশ্বের স্রষ্টা, প্রভু, অধিপতি বা প্রতিপালক বা পালনকর্তা।

অস্বীকারকারীদের উদ্দেশ্যে আল্লাহ্ তা’আলা জোর দিয়ে উপদেশ দিচ্ছেন সূরা বুুুুুুরূজ ৮৫:১৩ আয়াতে ইরশাদ হচ্ছে,‘নিশ্চয়ই তিনি সূচনা ও পুনরাবৃত্তি করেন।’ অর্থাৎ আল্লাহ্ই সৃষ্টির শুরু করেন এবং ধ্বংসের পর [মহাপ্রলয়ের পর] পুনসৃষ্টি করবেন।

সূরা রূম ৩০:১১ আয়াতে ইরশাদ হচ্ছে,‘আল্লাহ্ই সৃষ্টির সূচনা করেন, তারপর তিনিই তা পুনরায় সৃষ্টি করবেন। অবশেষে তাঁরই কাছে তোমাদের ফিরিয়ে নেয়া হবে।’ অর্থাৎ আল্লাহ্ই সৃষ্টির শুরু করেন এবং ধ্বংসের পর [মহাপ্রলয়ের পর] পুনরায় তা সৃষ্টি করবেন এবং শেষাবধি মানুষসহ সকল প্রাণীকে আল্লাহ্রই নিকট ফিরিয়ে নেয়া হবে, হিসাব-নিকাশ প্রকাশ ও প্রতিদান দেয়ার উদ্দেশ্যে!

৩০:২৭ আয়াতে ইরশাদ হচ্ছে,‘আর তিনিই সৃষ্টির সূচনা করেন, তারপর তিনিই তা পুনরায় সৃষ্টি করবেন। এটা তাঁর জন্য খুবই সহজ। আর তাঁরই মর্যাদা সর্বত্র আসমান ও জমিনে, তিনিই পরাক্রমশালী, মহাহিকমতওয়ালা।’
সৃষ্টিতত্ত্বের নির্দেশনায় আল কোরআনে মহান স্রষ্টা আল্লাহ্ তা’আলা মানব জাতিকে জ্ঞান দিয়েছেনÑ সূরা হূদ ১১:৭ ও সূরা ইউনুস ১০:৩ আয়াতে যা ওপরে বিবৃত হয়েছে এবং মানুষের অবশ্যই চিন্তা-ভাবনা ও অনুধাবন করা আবশ্যকীয় কর্তব্য।

আল কোরআনে মহাবিশ্ব সৃষ্টিতত্ত্ব
মহাবিশ্বের সৃষ্টি সম্বন্ধে আল কোরআনে যেসব সূরায় বিবরণ রয়েছে তার মধ্যে থেকে নেয়া সৃষ্টির মূল তত্ত্ব [সৃষ্টিতত্ত্ব] ব্যাখ্যা করে এমন চারটি সূরার আয়াত সমূহ হচ্ছে সূরা হূদ ১১:৭ আয়াত, সূরা আম্বিয়া ২১:৩০ আয়াত, সূরা বাক্বারাহ্ ২:২৯ আয়াত এবং সূরা হা-মীম সাজ্বদাহ্ ৪১:৯-১২ আয়াত। এ ছাড়া সূরা হিজ্বর ১৫:১৯ আয়াত ও সূরা রা’আদ ১৩:৩ আয়াত সৃষ্টিতত্ত্বের সাথে সংশ্লিষ্ট। উক্ত ছয়টি সূরার আয়াত সমূহ মহাবিশ্ব সৃষ্টির মূলতত্ত্ব বিবৃত করে। এ ছাড়া অন্যান্য আয়াত সমূহের যেগুলোতে মহাবিশ্ব সৃষ্টির কথা উল্লেখ রয়েছে, সেগুলোতে মানুষের উদ্দেশ্যে নিদর্শন, উপমা বা দৃষ্টান্ত, নির্দেশনা, আদেশ, উপদেশসহ বহুবিধ বিষয়ে জ্ঞান দেয়া হয়েছে। বহু আয়াতে মহান স্রষ্টা আল্লাহ্ তা’আলার সৃষ্টির কারিশমা বিবৃত হয়েছে।

নিচে সৃষ্টিতত্ত্বের উক্ত ছয়টি সূরার সংশ্লিষ্ট আয়াত সমূহের বর্ণনা দেয়া হল:
সূরা হূদ ১১:৭ আয়াতে ইরশাদ হচ্ছে,“তিনিই আকাশম-লী ও পৃথিবী ছয় দিনে সৃষ্টি করেন যখন তাঁর আরশ পানির উপর ছিল তোমাদের মধ্যে কে আচরণে শ্রেষ্ঠ তা পরীক্ষা করার জন্য;‘মৃত্যুর পর তোমরা পুনরূত্থিত হবে’ তুমি এ বললেই অবিশ্বাসীরা নিশ্চয় বলবে,‘এতো [কোরআন] স্পষ্টতঃ অলীক কল্পনা’।”

সূরা আম্বিয়া ২১:৩০ আয়াতে ইরশাদ হচ্ছে,‘অবিশ্বাসীরা কি ভেবে দেখে না যে, আকাশম-লী ও পৃথিবী ওতপ্রোতভাবে মিশে ছিল, অতঃপর আমি উভয়কে পৃথক করে দিলাম; এবং প্রাণবান সমস্ত কিছু পানি হতে সৃষ্টি করলাম; তবুও কি ওরা বিশ্বাস করবে না?’ এই আয়াতটিতে অবিশ্বাসীদের উদ্দেশ্যে মহান স্রষ্টা আল্লাহ্ তা’আলা তাঁর সৃষ্টির নিদর্শনাদির উপমা উপদেশসহ বিবৃত করেছেন; কিন্তু তথাপি উক্ত আয়াতে সৃষ্টিতত্ত্বের গুঢ় রহস্য নিহিত রয়েছে। অবিশ্বাসীদের আল্লাহ্ তা’আলা বলছেন, আকাশম-লী ও পৃথিবী ওতপ্রোতভাবে মিশে ছিল; অর্থাৎ আদিতে মহাবিশ্ব [আকাশম-লী ও পৃথিবী] পি-িকা বা পি-াকৃতি অবস্থায় ছিল এবং অতঃপর আল্লাহ্ তাকে পৃথক করলেন এবং প্রাণবান সমস্ত কিছু সৃষ্টি করলেন পানি হ’তে; অর্থাৎ তরল বীর্য হ’তে অথবা পানিকে জীব বা প্রাণীদেহের জীবন-ধারণের জন্য অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ চালিকাশক্তি বা প্রাণ স্পন্দনের অন্যতম উপাদান হিসাবে অভিষিক্ত করা হয়েছে, কারণ পানি ছাড়া জীবন অচল। তবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল নর-নারীর জৈবিক ক্রিয়ার মাধ্যমে স্বতঃস্ফূর্তভাবে নির্গত ‘বীর্য’ হতে প্রাণীর বংশাণুক্রম সৃষ্টি করা হয়েছে, আয়াতটির মর্মার্থ এমনটি হওয়াই সম্ভব!

২১:৩০ আয়াতের আর একটি তাৎপর্য এমন হতে পারে বিজ্ঞানীরা যদি, আকাশ ও পৃথিবীর একীভূত অবস্থা [পি-িকা অবস্থা] থেকে মহান স্রষ্টার বিচ্ছিন্ন করণ প্রক্রিয়াকে ‘প্রচন্ড শব্দযোগে মহাবিস্ফোরণ আখ্যা দিয়ে মহাবিশ্ব সৃষ্টিকে ইরম ইধহম’ তত্ত্বে প্রতিষ্ঠিত করতে চান; তবে আমার বক্তব্য হচ্ছে, এক্ষেত্রে তত্ত্বটিতে মহান স্রষ্টার অস্তিত্ব, কৃতিত্ব ও শ্রেষ্ঠত্বকে স্বীকার করতে হবে। আর কল্পনা প্রসূত মহাসূক্ষ্ম [.] বিন্দুতে অজ্ঞাত উৎস থেকে আগত শক্তির ঘনায়নে মহাবিস্ফোরণ ঘটে মহাবিশ্বের সৃষ্টি শুরু হয় এবং সুদীর্ঘ পরিক্রমার মধ্য দিয়ে মহাবিশ্ব পূর্ণাঙ্গ রূপ লাভ করে; স্রষ্টার অস্তিত্ববিহীন এমন মত [যা বিবর্তনবাদ তত্ত্ব] পরিহার করতে হবে।

সূরা বাক্বারাহ্ ২:২৯ আয়াতে ইরশাদ হচ্ছে,‘তিনি পৃথিবীর সব কিছু তোমাদের জন্য সৃষ্টি করেছেন। তারপরে আকাশের দিকে দৃষ্টি করেন এবং উহাকে [আকাশকে] সাত আসমান রূপে বিন্যস্ত করেন এবং তিনি সর্ববিষয়ে মহাজ্ঞানী।’ অর্থাৎ আল্লাহ্ তা’আলা বলছেন, তিনি মানুষের জন্য পৃথিবীর [পৃথিবীসহ] সব কিছু সৃষ্টি করেছেন। তারপর আকাশের [ওপরের] দিকে দৃষ্টি [মনোযোগ] করেন এবং উহাকে [আকাশের আদি রূপকে] সাত আসমান রূপে বিন্যস্ত করেন। অর্থাৎ এই আয়াতে পৃথিবী এবং এরপর আকাশের সাতটি স্তর সৃষ্টির কথা বলা হয়েছে। এ ছাড়া এই আয়াতে মানুষের জন্য পৃথিবীর সব কিছু সৃষ্টি করা হয়েছে মানুষকে তার জ্ঞান দেয়া হয়েছে।

সূরা হা-মীম সাজ্বদাহ্ ৪১:৯-১২ আয়াতে মহান স্রষ্টা আল্লাহ্ অবিশ্বাসীদের প্রতি প্রশ্ন রেখে উপদেশসহ মানুষের উদ্দেশ্যে মহাবিশ্ব সৃষ্টির [সৃষ্টিতত্ত্বের] ধারাবাহিক বর্ণনা দিয়েছেন!

৪১:৯-১০ আয়াতে ইরশাদ হচ্ছে,“বল, তোমরা কি তাঁকে অস্বীকার করবেই যিনি দু’দিনে পৃথিবী সৃষ্টি করেছেন এবং তোমরা তাঁর সমকক্ষ দাঁড় করাতে চাও? তিনি তো বিশ্বজগতের রব’। [১০] ‘তিনি ভূ-পৃষ্ঠে অটল পর্বতমালা স্থাপন করেছেন এবং পৃথিবীতে রেখেছেন কল্যাণ এবং চারদিনের মধ্যে এতে ব্যবস্থা করেছেন খাদ্যের, সমানভাবে সকল প্রার্থীর জন্য’।”
৪১:১১ আয়াতে ইরশাদ হচ্ছে,‘পরে তিনি আকাশের দিকে মনোযোগ দেন যা ছিল ধুয়াকার। অনন্তর তিনি ওকে ও পৃথিবীকে বললেন,‘তোমরা উভয়ে ইচ্ছায় বা অনিচ্ছায় প্রস্তুত হও।’ তারা উভয়ে বলল,‘আমরা প্রস্তুত আছি।’

৪১:১২ আয়াতে ইরশাদ হচ্ছে,‘পরে তিনি দু’দিনে সপ্তাকাশ তৈরি করলেন এবং প্রত্যেক আকাশের নিকট তার কর্তব্য ব্যক্ত করলেন এবং তিনি নিম্নের আকাশকে সুশোভিত করলেন প্রদীপমালা দ্বারা এবং করলেন সুরক্ষিত। এসব পরাক্রমশালী সর্বজ্ঞ কর্তৃক সুবিন্যস্ত।’
সূরা হিজ্বর ১৫:১৯ আয়াতে ইরশাদ হচ্ছে,‘পৃথিবীকে বিস্তৃত করেছি এবং ওতে পর্বতমালা সৃষ্টি করেছি, আমি পৃথিবীতে প্রত্যেক বস্তু সুপরিমিতভাবে সৃষ্টি করেছি।’
সূরা রা’আদ ১৩:৩ আয়াতে ইরশাদ হচ্ছে,‘তিনিই ভূ-তলকে বিস্তৃত করেছেন এবং ওতে পর্বত ও নদী সৃষ্টি করেছেন এবং প্রত্যেক ফল সৃষ্টি করেছেন দুই প্রকারের, তিনি দিবসকে রাত্রি দ্বারা আচ্ছাদিত করেন; এতে অবশ্যই চিন্তাশীলদের জন্য নিদর্শন রয়েছে।’

রাসূলের প্রতি যখন অবিশ্বাসীরা কোন প্রশ্ন করে বা কোন সঙ্কট উপস্থিত হয় বা কোন ঘটনার উদ্রেক হয়, সেই অবস্থার প্রেক্ষাপটে রাসূল দঃ-কে জবাব প্রদানের জন্য অথবা রাসূলের অবগতির জন্য ঘটনা প্রবাহ অথবা বিধি-বিধান বা বিষয়বস্তু সম্বন্ধে মহান স্রষ্টা আল্লাহ্ তা’আলা প্রত্যাদেশ নাযিল করেন। উপরোক্ত আয়াত সমূহও সে উদ্দেশ্যেই অবতীর্ণ।

ওপরে বিবৃত আয়াত সমূহে অবিশ্বাসীদের উদ্দেশ্যে প্রশ্ন রেখে মহান স্রষ্টা আল্লাহ্ দু’দিনে পৃথিবী সৃষ্টির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন এবং এ প্রসঙ্গে অবিশ্বাসীদেরকে সম্পূরক প্রশ্ন করে আল্লাহ্ তা’আলা বলছেন, এরপরেও কেন তোমরা আল্লাহ্র সঙ্গে অন্য উপাস্য তৈরি করছ? তিনি [আল্লাহ্] তো বিশ্বজগতের স্রষ্টা।

ওপরে বিবৃত সূরা হূদ ১১:৭, সূরা আম্বিয়া ২১:৩০, সূরা বাক্বারাহ্ ২:২৯, সূরা হা-মীম সাজ্বদাহ্ ৪১:৯-১২ এবং সূরা হিজ্বর ১৫:১৯ ও সূরা রা’আদ ১৩:৩ আয়াত সমূহ পাঠ, মর্মার্থ ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ ও গভীর অনুসন্ধান-গবেষণা ও পর্যবেক্ষণে প্রতীয়মান হয়েছে যে, মহান স্রষ্টা আল্লাহ্ তা’আলা তাঁর মহাপরিকল্পনার অংশ হিসাবে মহাবিশ্ব সৃষ্টি করেন এবং মহাবিশ্বের যাবতীয় বস্তুসমূহ বা ব্যবস্থাপনা অস্তিত্ব দান করেছেন মাত্র ছয় দিনে। মহাবিশ্ব সৃষ্টির ছয় দিনের কার্যকরণ নিম্নোক্তভাবে বর্ণিত হল :
১। মহান স্রষ্টা আল্লাহ্ তা’আলা মহাবিশ্ব সৃষ্টির ৬ দিনের কার্যকরণে পি-াকৃতি মহাবিশ্বকে পৃথক করেন এবং প্রথম ২ দিনে, প্রথম ধাপে বা প্রথম পর্যায়ে পৃথিবী সৃষ্টি করেন; এবং প্রাণীর রিজিক সংস্থানের লক্ষ্যে উদ্ভিদরাজির বীজ বা উপকরণ বপন বা প্রোথিত করেন।

২। মধ্যবর্তী ২ দিনে, দ্বিতীয় ধাপে বা দ্বিতীয় পর্যায়ে সপ্তস্তর বিশিষ্ট আকাশ। সপ্ত-আকাশ] সৃষ্টি করেন।
৩। শেষ ২ দিনে, তৃতীয় ধাপে বা তৃতীয় পর্যায়ে আকাশ ও পৃথিবীর অন্তর্বর্তী বস্তুসমূহ বা স্থাপনাÑ ‘গ্রহ-উপগ্রহ, চন্দ্র-সূর্য, মেঘমালা, উল্কাপিন্ডি, নক্ষত্ররাজি [তারকারাজি],…প্রভৃতি’ সৃষ্টি করেন। মহাবিশ্ব সৃষ্টির এই শেষ ২ দিনে প্রাণীর রিজিক সংস্থান সুবন্দোবস্ত হয় এবং পরিপূর্ণভাবে বিকশিত হয়।

সূরা ফুরক্বান ২৫:৫৯ আয়াতে ইরশাদ হচ্ছে,‘তিনি আকাশম-লী, পৃথিবী ও ওদের মধ্যবর্তী সব কিছু ছয় দিনে সৃষ্টি করেন, অতঃপর তিনি আরশে সমাসীন হন। তিনিই দয়াময়, তাঁর সম্বন্ধে যে অবগত আছে তাকে জিজ্ঞাসা করে দেখ।’

২৫:৫৯ আয়াতের মর্মার্থ মতে মহান স্রষ্টা আল্লাহ্ ৬ দিনে সমগ্র মহাবিশ্ব সৃষ্টির যাবতীয় কার্যক্রম সম্পাদনের পরই আরশে সমাসীন [উপবিষ্ট] হন; এবং মহাবিশ্বের প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালন আনুষ্ঠানিক ভাবে শুরু করেন। এক্ষেত্রে অনুমিত হয় যে, সপ্তম দিবস থেকে মহান স্রষ্টার প্রশাসনিক কার্যকরণ শুরু হয়।

৪১:১০ আয়াতে অবিশ্বাসীদের উদ্দেশ্যে আল্লাহ্ তা’আলা তাঁর সৃষ্টির নিদর্শনাদির উপমা দিয়ে বলেছেন, তিনি ভূ-পৃষ্ঠে অটল পর্বতমালা স্থাপন করেছেন এবং পৃথিবীতে কল্যাণ বা তাঁর পক্ষ থেকে রহমত ও বরকতময় কার্যকরণ অনন্তকাল ব্যাপী অব্যাহত রয়েছে; এবং পৃথিবীতে সকল প্রাণীর জন্য চারদিনের মধ্যে খাদ্যের ব্যবস্থা করেছেন, সে কথাও মহান স্রষ্টা আল্লাহ্ তা’আলা উল্লেখ করেছেন। এই চারদিনে খাদ্য সৃষ্টির মধ্যে মহাবিশ্ব সৃষ্টির প্রথম দুই দিনে পৃথিবী সৃষ্টি এবং এর সাথে মহাবিশ্ব সৃষ্টির শেষ দুই দিন জড়িত। অর্থাৎ মহাবিশ্ব সৃষ্টির শেষ দুই দিনে যখন মহান স্রষ্টা চন্দ্র-সূর্য, নক্ষত্ররাজি, মেঘমালাসহ অন্যান্য সকল স্থাপনা [বস্তু সমূহ] সৃষ্টি করলেন, সেই দুই দিন ও পৃথিবী সৃষ্টির প্রথম দুই দিন, মোট চার দিন। মানুষকে বা মানুষের মধ্যে যারা চিন্তা-ভাবনা করেন বা গবেষক তাঁদের অবশ্যই স্মরণ রাখা উচিৎ যে, মহান স্রষ্টা আল্লাহ্ মহাবিশ্ব সৃষ্টি করেছেন মাত্র ছয় দিনে; এর বাইরে বা এর বেশি হিসাব করা যাবে না। মহাবিশ্ব সৃষ্টির ছয় দিনের মধ্যে সকল প্রাণীর রিজিক সংস্থানের ‘চারদিনের হিসাব’ তালাশ করতে হবে।

বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা হল প্রকৃতিতে বা জমিনে খাদ্য প্রস্তুত বা সৃষ্টি হতে গেলে মাটিতে বীজ বপন ও বৃক্ষ রোপণ করতে হবে এবং আকাশ থেকে চন্দ্র ও সূর্যের কার্যকরণ। আলো ও তাপ। ও মেঘমালা নিঃসৃত পানি অপরিহার্য; অর্থাৎ পৃথিবীতে চাঁদের আলো [ফল পাকার জন্য ও সময় গণনার জন্য। দরকার এবং বীজ অঙ্কুরিত ও উদ্ভিদের খাদ্যের জন্য সূর্যের আলো ও তাপ এবং মেঘনিঃসৃত বৃষ্টি বা পানি জীবনের জন্য অতীব গুরুত্বপূর্ণ জরুরী উপাদান। এই বিষয়টিই চারদিনের মধ্যে খাদ্য ব্যবস্থার। সৃষ্টি] কথা বলা হয়েছে; অর্থাৎ পৃথিবী সৃষ্টির প্রথম দুই দিন অর্থাৎ মহান স্রষ্টা আল্লাহ্ প্রথম ২দিনে। প্রথম ধাপে] পৃথিবী সৃষ্টি করে পৃথিবীতে সকল স্থাপনা বা বস্তুসমূহ স্থাপন করলেন এবং সকল প্রাণীর খাদ্য সংস্থানের জন্য উদ্ভিদরাজির বীজ ও উপকরণ। যে উদ্ভিদের বীজ হয় না তার উপকরণ] বপন করলেন এবং মহাবিশ্ব সৃষ্টির শেষ ২দিনে। তৃতীয় ধাপে] চন্দ্র-সূর্য, নক্ষত্ররাজি, মেঘমালা এবং অন্যান্য বস্তুসমূহ সৃষ্টি করলেন। এই মোট চার দিনে আল্লাহ্ তা’আলা প্রাণীকুলের খাদ্য সংস্থান সৃষ্টি করেন।

বিষয়টি আরো স্পষ্ট সূরা যা-রিয়াত ৫১:২২-২৩ আয়াতে; ইরশাদ হচ্ছে,‘আকাশে রয়েছে তোমাদের জীবিকার উৎস ও প্রতিশ্রুত সমস্ত কিছু। আকাশ ও পৃথিবীর প্রতিপালকের শপথ, তোমাদের বাকস্ফূর্তির মতই এ সকল সত্য।’ অর্থাৎ আকাশে জীবিকার উৎস বলতে চন্দ্র, সূর্য ও মেঘমালা বুঝানো হয়েছে; যাদের পরশে [ছোঁয়ায় বা কার্যকরণে] পৃথিবীতে খাদ্য তৈরি হয়। সূরা নামল ২৭:৬৪ আয়াতে ইরশাদ হচ্ছে,‘না, তিনি, যিনি সৃষ্টিকে অস্তিত্বে এনেছেন পরে ওকে পুনসৃষ্টি করবেন এবং যিনি আকাশ ও পৃথিবী হতে রিজিক দেন; আল্লাহ্র সঙ্গে অন্য কোন উপাস্য আছে কি? বল, তোমরা সত্যবাদী হলে তবে প্রমাণ আন।’

৪১:১১ আয়াতে আল্লাহ্ তা’আলা মানুষের অবগতির জন্য বলছেন, পরে [পৃথিবী সৃষ্টির পর] তিনি আকাশের [শূন্যের দিকে] দিকে মনোযোগ দেন যা ছিল ধুয়াকার। অনন্তর আল্লাহ্ ওকে [আকাশের আদি অবস্থা ‘ধোয়াশা’ বা ‘ধোয়াকার’] ও পৃথিবীকে তাঁর আদেশ তামিল করার জন্য প্রস্তুত থাকতে আদেশ দেন। তৎক্ষণাৎ তারা প্রস্তুত আছি বলে জবাব দেয়।

৪১:১২ আয়াতে মহান স্রষ্টা আল্লাহ্ তা’আলা দুই দিনে সপ্ত আকাশ সৃষ্টি এবং আকাশ সমূহের কার্যাদির দায়িত্ব অর্পণ; এবং নিচের আকাশকে প্রদীপমালা দ্বারা সুশোভিত এবং সুরক্ষিত করার কথা বলেছেন। সব কিছুই যে পরাক্রমশালী, মহাক্ষমতাধর আল্লাহ্ কর্তৃক বিন্যস্ত তার ইঙ্গিত আল্লাহ্ তা’আলা দিয়েছেন। এই আয়াতে বিষয়টি স্পষ্ট যে, তিনি দুই দিনে [পৃথিবী সৃষ্টির পরে] সপ্ত আকাশ সৃষ্টি করেছেন। এরপর তিনি পরবর্তী শেষ দুই দিনে পৃথিবী ও আকাশম-লীর মধ্যবর্তী সৃষ্টি সমূহ অর্থাৎ সূর্য, চন্দ্র, গ্রহ-উপগ্রহ, মেঘমালা, নক্ষত্ররাজি, উল্কাপি- সমস্ত কিছু সৃষ্টি করেন। কিন্তু এই আয়াতে সপ্তাকাশ সৃষ্টির পর আকাশ ও পৃথিবীর মধ্যবর্তী সৃষ্টিসমূহকে ‘সৃষ্টির শেষ দুই দিনের কার্যকরণ’ আল্লাহ্ তা’আলা একই সাথে জুড়ে দিয়েছেন। অর্থাৎ বলাবাহুল্য, মহাবিশ্ব সৃষ্টির ঘটনাপুঞ্জকে আল্লাহ্ তা’আলার তরফ থেকে মানুষের কাছে রহস্যময় করে প্রকাশ করা হয়েছে। তবে দুই দিন করে ছয় দিনে তিন ধাপে মহাবিশ্ব সৃষ্টির কার্যকরণ মানুষের কাছে স্পষ্ট করা হয়েছে সূরা ক্বা-ফ ৫০:৩৮ আয়াতে; ইরশাদ হচ্ছে,‘আমি আকাশম-লী ও পৃথিবী এবং ওদের অন্তর্বর্তী সমস্ত কিছু সৃষ্টি করেছি [মাত্র] ছয় দিনে; এবং আমাকে ক্লান্তি মোটেই স্পর্শ করেনি।’ এ সম্বন্ধে আরো কিছু আয়াত রয়েছে। সুধী পাঠক, মনে রাখা উচিৎ যে আল কোরআনে বিবৃত একটি শব্দ বা একটি আয়াতই কোন কিছু প্রমাণের জন্য যথেষ্ট, যেহেতু আল কোরআনের শব্দসমূহ বা প্রত্যাদেশ [আয়াত] আল্লাহ্র বাণী। সন্দেহ বা সংশয় প্রকাশের কোনই অবকাশ নেই। আর মানুষের জ্ঞান খুবই সীমিত। আল কোরআনের অনেক আয়াতের ব্যাখ্যা বা গূঢ় রহস্য এখনো মানুষ বুঝতে সক্ষম হয়নি।

সাংবাদিক রবিউল ইসলামের উদ্ভাবিত সৃষ্টিতত্ত্ব সমগ্র মুসলিম জাতির জন্য গর্বের বিষয়। গবেষণাকর্মটি পুস্তিকা আকারে প্রকাশ হওয়া অত্যাবশ্যক। কিন্তু তিনি ‘শেখজী অন্বীক্ষণ কেন্দ্র ভোলাহাট’ নামে যে গবেষণা প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করেন সে প্রতিষ্ঠানটির অর্থাভাবে গবেষণাকর্মটি পুস্তিকা আকারে প্রকাশ করা সম্ভব হচ্ছে না। এই পরিস্থিতিতে জ্ঞানী-গুণী, দানশীল ব্যক্তি, শিল্পপতি, জনপ্রতিনিধি, সরকারী-বেসরকারী প্রতিষ্ঠান আর্থিক অনুদান দিয়ে সহযোগিতা করলে মুসলিম জাতির বৃহত্তর স্বার্থ রক্ষা ও কল্যাণ হতে পারে।

এই পাতার আরো খবর

প্রধান সম্পাদক:
মফিজুল ইসলাম সাগর












Bartaman Kantho © All rights reserved 2020 | Developed By
Theme Customized BY WooHostBD