মঙ্গলবার, ০৯ জুলাই ২০২৪, ০৫:৩৩ অপরাহ্ন

নরসিংদীতে ট্রেনে কাটা পাঁচ জন নিহত: বেওয়ারিশ হিসেবে দাফন

নিজস্ব প্রতিবেদক | নরসিংদী প্রতিদিন- / ২ পাঠক
মঙ্গলবার, ৯ জুলাই, ২০২৪

নরসিংদীর রায়পুরায় রেললাইনের পাশ থেকে ৫ জনের মরদেহ পাওয়ার ঘটনার ২৪ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও এখনও পরিচয় শনাক্ত করা যায়নি। মঙ্গলবার (৯ জুলাই) ভোরে পরিচয় না পাওয়া গেলেও নরসিংদী রেলওয়ে স্টেশনের বেওয়ারিশ কবরস্থানে তাদের দাফন করা হয়। এদিন বেলা ১১টার দিকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন নরসিংদী রেলওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ (এসআই) মো. শহিদুল্লাহ।

তিনি বলেন, সোমবার রাতে ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করা হয় নরসিংদী সদর হাসপাতালের মর্গে। এরপর মরদেহগুলো পুলিশ ফাঁড়িতে নিয়ে আসা হলে প্রচন্ড দুর্গন্ধ ছড়াতে থাকে। বাধ্য হয়েই পরবর্তীতে সেগুলো স্টেশন নিকটস্থ বেওয়ারিশ কবরস্থানে দাফন করা হয়। তবে তাদের পরনের কাপড় সংগ্রহে রাখা হয়েছে। মুখের লালা ও দাঁত রাখা হয়েছে ফরেনসিক এবং ডিএনএ টেস্ট করার জন্য।

এর আগে, সোমবার ভোর সাড়ে ৫টায় উপজেলার খাকচক এলাকায় তূর্ণা নিশিতা অথবা ঢাকা ট্রেনের নিচে কাটা পড়ে ৫ জনের মৃত্যু হয় বলে ধারণা পুলিশের। এদিন সকাল সাড়ে ৮টার দিকে রেললাইনের পাশে ৫টি মরদেহ ও এর অদুরে আরো একটি মরদেহ সহ ৬ জনের মরদেহ ছিন্নবিচ্ছিন্ন অবস্থায় দেখা যায়। পরে খবর দিলে রেলওয়ে পুলিশ সকাল পৌনে ১০টায় ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। নিহতরা ট্রেন থেকে পড়ে গিয়ে কাটা পড়েছে নাকি রেললাইনে বসা অবস্থায় কাটা পড়েছে অথবা অন্য কেউ মেরে মরদেহ রেললাইনে ফেলে রাখার পর মরদেহ কাটা পড়েছে- এসব নিশ্চিত করতে পারেনি পুলিশ। পরে দুপুর ১২টা নাগাদ পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) ঘটনাস্থলে গিয়ে কাজ শুরু করলে তারাও মরদেহের পরিচয় বের করতে পারেনি। পাঁচ মরদেহের কারও ফিঙ্গারের সঙ্গেই কোনও জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) মেলেনি। তবে একজনের পরিচয় মেলেছে। ঘটনার পর ২৪ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও মৃতদের কোনও পরিচয় না পাওয়ায় তৈরি হয়েছে ধোঁয়াশা।

অনেকেই ধারণা করছেন, নিহতরা ৫ জন পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ডের শিকার কিংবা মাদকাসক্ত হয়ে রেললাইনে পড়ে ছিল। তারপর তাদের ওপর দিয়ে ট্রেন গিয়ে ছিন্নভিন্ন করে দেয়।

এটা পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে রেলওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মো. শহিদুল্লাহ বলেন, মৃতদের মুখের লালা রাখা হয়েছে। ফরেনসিক রিপোর্ট এলেই বোঝা যাবে। আর পরিচয় শনাক্তে নরসিংদীসহ পার্শ্ববর্তী বিভিন্ন জেলায় আমাদের সদস্যরা কাজ করছে।

পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) উপপরিদর্শক (এসআই) মো. জমির বলেন, পাঁচ মরদেহের কারও ফিঙ্গারের ছাপের সঙ্গে কোনও আইডি কার্ডের যোগসূত্র পাওয়া যায়নি। নিহতরা উদ্বাস্তু ধরনের মানুষ ছিলেন বলেন ধারণা করা হচ্ছে।

এছাড়া তাদের বয়স নিয়েও নিশ্চিত হওয়া যাচ্ছে না। ঢাকা রেলওয়ে পুলিশের পুলিশ সুপার আনোয়ার হোসেন বলেন,আসল ঘটনা স্পষ্ট নয় এখনো। কীভাবে ঘটনা ঘটেছে তা এখনো আমরা নিশ্চিত নই। তবে মরদেহগুলো ট্রেনে কাটা প্রাথমিকভাবে এটা নিশ্চিত। কিন্তু এর আগে কোনো কিছু ঘটেছে কিনা সেটি তদন্ত শেষে বলা যাবে। পিবিআইও এটা নিয়ে কাজ করছে। নিহতরা সবাই পুরুষ এবং তাদের বয়স ২০ থেকে ৩০ এর মধ্যে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই পাতার আওর সংবাদ