শুক্রবার, ১২ জুলাই ২০২৪, ০৭:০৩ অপরাহ্ন

পানি অপসারনে প্রতিবন্ধকতা: তদন্ত কমিটিকে গ্রামবাসির অভিনন্দন

বর্তমানকণ্ঠ ডটকম / ০ Views পাঠক
বুধবার, ৬ মে, ২০২০

স্টাফ রিপোর্টার, বর্তমানকন্ঠ ডটকম, ঝিনাইদহ : ঝিনাইদহের আশাননগর মাঠে পুকুর কেটে পানি অপসারনে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হয়ে ডুবে ৫০বিঘা জমির পাকা ধানের ব্যাপক ক্ষতি হওয়ার সংবাদ প্রকাশে সদর উপজেলা নিবার্হী কর্মকর্তা জনাব বদরুদ্দোজা শুভ স্যারকে তদন্ত পূর্বক ব্যাবস্থা নেয়ার আশ্বাসে তদন্ত কমিটি হওয়ায় খুশি হয়ে বদরুদ্দোজা শুভ স্যার ও সাংবাদিকদের অভিনন্দন জানান ধানচাষীরা।

এদিকে “ঝিনাইদহের আশাননগর ধানি জমির মাঠের পুকুরে পানি অপসারনে প্রতিবন্ধকতা : ডুবে ৫০বিঘা জমির পাকা ধানের ব্যাপক ক্ষতি, থামছে না গ্রামবাসির কান্না!” শিরোনামে বর্তমানকন্ঠে সংবাদ প্রকাশ হলে সরকারি নির্দেশনাকে পায়ে মাড়িয়ে ধানী জমি গিলে খাওয়া পুকুর ব্যাবসায়ী তৈয়ব আলী ও আইনালের পুকুরের কারনে পানি অপসারনে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হয়ে ডুবে ৫০বিঘা জমির পাকা ধানের ব্যাপক ক্ষতি সংবাদের ভিত্তিতে ঐ এলাকার অতিউৎসাহি কয়েকজন সাংবাদিক অভিযুক্তদের পক্ষ অবলম্বন করে তাদেরকে এই নিউজ প্রকাশ করা সাংবাদিকদের নামে মানহানি মামলা করার পরামর্শ দিচ্ছে।

আবার সংবাদ প্রকাশ হওয়ার পর অভিযুক্তরা নিউজ প্রকাশ করা সাংবাদিকদের নামে ব্যাপকভাবে হুমকি ধামকি ও মানহানিকর বক্তব্য দিচ্ছেন মর্মে স্থানীয়রা এই প্রতিবেদককে জানিয়েছেন। স্থানীয়রা সাংবাদিকদের আরো জানিয়েছেন পুকুর ব্যাবসায়ী তৈয়ব আলী ও আইনাল কৌশলে পানি অপসারন বন্ধ রেখে কৃষকদের ধানের ক্ষতি করে তাদের কাছে মাঠের ধানি জমি বিক্রয় করতে বাধ্য করছে ধানচাষি কৃষকদের।

উল্লেখ্য, সরকারি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ঝিনাইদহ সদরের আশাননগর গ্রামের মাঠে ধানী জমি কেটে লাখ লাখ টাকার মাটি ভাটায় বিক্রি করে পুকুর কেটেছে ঐ এলাকার দু’জন প্রভাবশালী মালিক। পুকুর কাটতে এলাকার কিছু কৃষক জমি দিতে না চাইলেও সিন্ডিকেট পূর্বক তাদেরকে এক প্রকারে বাধ্য করে পুকুর কেটেছে সদর উপজেলার আশাননগর গ্রামের মৃত. মোহাম্মদ আলীর ছেলে তৈয়ব আলী ও পাশের চুয়াডাঙ্গা সদরের জীবনা গ্রামের মৃত সোমা মন্ডরের ছেলে আইনাল বিশ্বাস। সেই পুকুর ও মটরের পানিতে ডুবে ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে আশাননগরের মাঠের প্রায় ৫০ বিঘা জমির ধান। এতে জমির পাকা ধানের ব্যাপক ভাবে ক্ষতি হয়েছে আশাননগর গ্রামের কৃষকদের।

এদিকে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ভয়াবহ করোনা ভাইরাসের ছোবলে দেশে ব্যাপক ভাবে খাদ্য সামগ্রী ঘাটতি হবে ভেবে দেশের আওয়ামী লীগ কর্মীদের কৃষকের ধান কেটে ঘরে তুলে দেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। এসব সরকারি নির্দেশনাকে পায়ে মাড়িয়ে ধানী জমি গিলে খাওয়া পুকুর ব্যাবসায়ী তৈয়ব আলী ও আইনালের পুকুর ও মটরের পানিতে ডুবে শেষ হচ্ছে মাঠের ধান। ভয়াবহ করোনা ভাইরাসে ব্যাপক ভাবে খাদ্য সামগ্রী ঘাটতি হওয়ার পরেও কোন প্রকার ব্যাবস্থা নিচ্ছে না তৈয়ব আলী ও আইনাল। আশাননগর গ্রামের ক্ষতিগ্রস্থ কৃষদের মধ্যে মুরাদ, সহিদুল, লতিফ, রহম, আবুছদ্দি ও নয়ন সাংবাদিকদের মাধ্যমে তাদের প্রায় ৫০ বিঘা জমির ক্ষতিপূরনের দাবি জানিয়েছেন জেলা প্রশাসকের নিকট।

এবিষয়ে সাধুহাটি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান কাজী নাজির উদ্দিন কৃষকদের ধানের ক্ষতির বিষয়টি স্বীকার করে সাংবাদিকদের বলেন, যেখানে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ভয়াবহ করোনা ভাইরাসের আক্রমনে দেশে ব্যাপক ভাবে খাদ্য সামগ্রী ঘাটতি হবে ভেবে দেশের আওয়ামী লীগ কর্মীদের কৃষকের ধান কেটে ঘরে তুলে দেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। সেখানে সরকারি নির্দেশনাকে পায়ে মাড়িয়ে তৈয়ব আর আইনালের পুকুর ও মটরের পানিতে ডুবে ৫০ বিঘা জমির পাকা ধানের যে ক্ষতি হয়েছে, কৃষকদের সেই পূরনের দাবি করছি।

এদিকে অভিযুক্ত তৈয়ব আলী ও আইনাল ঘটনা সম্পুর্ন অস্বীকার করে বলেন, আমার মটরের পানি দিয়ে তাদের ধান চাষ করেছে, চুক্তি অনুযায়ি এখন মটরের বিল না দিয়ে উল্টো আমার নামে অভিযোগ করছে। ৫০ বিঘা জমির পাকা ধানের ক্ষতির বিষয়টি তদন্ত করতে উপজেলা নিবার্হী কর্মকর্তা বদরুদ্দোজা শুভ ৫ মে মঙ্গলবার তিন জনকে পাঠিয়ে তদন্ত পূর্বক ব্যাবস্থা নিবেন বলে সাংবাদিকদের জানান।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই পাতার আওর সংবাদ