1. azadkalam884@gmail.com : A K Azad : A K Azad
  2. bartamankantho@gmail.com : বর্তমানকণ্ঠ ডটকম : বর্তমানকণ্ঠ ডটকম
  3. cmisagor@gmail.com : বর্তমানকণ্ঠ ডটকম : বর্তমানকণ্ঠ ডটকম
  4. hasantamim2020@gmail.com : হাসান তামিম : হাসান তামিম
  5. khandakarshahin@gmail.com : Khandaker Shahin : Khandaker Shahin
বুধবার, ০৬ জুলাই ২০২২, ১২:৩১ পূর্বাহ্ন
১০ বছরে বর্তমানকণ্ঠ-
১০ বছর পদার্পণ উপলক্ষে বর্তমানকণ্ঠ পরিবারের পক্ষ থেকে সবাইকে অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা....

মন্ত্রীদের চোর বললেও, কেউ প্রতিবাদ করার সাহস পাননি

বর্তমানকণ্ঠ ডটকম
  • প্রকাশিত : সোমবার, ২৫ ডিসেম্বর, ২০১৭

নিউজ ডেস্ক,বর্তমানকণ্ঠ ডটকম, সোমবার,২৫ ডিসেম্বর ২০১৭: শিক্ষা সংবাদ:শিক্ষা মন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ বলেছেন, শুধু কর্মকর্তারাই ঘুষ খান না, মন্ত্রীরাও দুর্নীতি করেন। মন্ত্রীরাও চোর, আমিও চোর। কর্মকর্তারা যাতে সহনশীল হয়ে ঘুষ খান এ জন্য তিনি আকুতি জানান। তিনি বলেন, এ অবস্থার পরিবর্তন করতে হবে। তাই অনুরোধ করছি, আপনারা ঘুষ খান। কিন্তু সহনশীল হয়ে খান। কেন না আমার সাহস নেই বলার, ঘুষ খাবেন না, তা হবে অর্থহীন।

রোববার শিক্ষা ভবনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। পুরো অনুষ্ঠানের দুই ঘণ্টার বেশি লাইভ প্রচার হয়। যার বড় অংশজুড়ে ছিল মন্ত্রীর বক্তব্য। দুর্নীতির চিত্র তুলে ধরে শিক্ষা মন্ত্রী বলেন, আপনারা স্কুলে যান খাম রেডি থাকে। সেটি নিয়ে আসেন আর পজিটিভ রিপোর্ট দেন। এটার পরিবর্তন করতে হবে। তিনি বলেন, কিছুদিন আগে একজন কর্মকর্তাকে দুদক দিয়ে ধরিয়েছি। কারণ থানা-পুলিশ দিয়ে ধরালে ঘুষ খেয়ে তারাও ছেড়ে দেবে। বাধ্য হয়ে দুদক দিয়ে ধরাতে হয়েছে। মন্ত্রী বলেন, ওই কর্মকর্তার তথ্য সংগ্রহ করে দেখলাম তিনি ৫টি স্কুলের প্রধান শিক্ষক থেকে পিওন পর্যন্ত সবার এক মাসের বেতন দিতে বলেন। সে অনুযায়ী শিক্ষকরা টাকা রেডি করে। অনেক কষ্টে তাকে ধরতে হয়েছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, ঢাকায় আটককালে তাঁর সঙ্গে আড়াই লাখ টাকা পাওয়া যায়। তিনি বলেন, এখন এক মাসের বেতন মানে অনেক টাকা। কারণ শিক্ষকদওে বেতন দিগুন হয়েছে।

তাই এই অবস্থার পরিবর্তন করতে হবে। তিনি আরও জানান, ওই দপ্তরে চাকরি করে একজন ঢাকায় ১৩টি বাড়ি করেছে। তিনি আরও বলেন, অবস্থার কিছু পরিবর্তন হয়েছে। এখন কেউ চা পর্যন্তও খান না। আমি বলব, এটা করা দরকার নাই। আপনি আপসে চা কেন মাংস খান, কিন্তু খাম না নিলেই হয়। তিনি বলেন, বিসিএস কর্মকর্তাদের মধ্যে রেষারেশি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, মেয়েরা মেয়েদের সম্পর্কে এমন কথা বলে যা কল্পনা করা যায় না। আমার শোনার দরকার নেই, আপনারা ভাল হয়ে যান। আপনারা খারাপ দিকগুলো বাদ দিয়ে ভাল দিকগুলো কাজে লাগান। তিনি বলেন, বর্তমান সরকারের আমলে দুর্নীতি কমেছে। সব কার্যক্রম ডিজিটাল হলে তা আরও কমে আসবে।

শিক্ষা মন্ত্রীর বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও নিউজ পোর্টালে ভাইরাল হয়ে যায়। সংবাদ দিনভর সারাদেশে এটিই ছিল টক অব দ্যা কান্ট্রি। সর্বত্র ছিল এক আলোচনা। শিক্ষা মন্ত্রী যে কথা বলেছেন তা গোটা দেশের মনের ভাষাকে তুলে ধরেছেন। মনে হয়েছে, তাঁর হৃদয় মিশ্রিত বক্তব্যে কেবল একজন মন্ত্রীর অসহায়ত্বই ফুটে ওঠেনি। দেশের মানুষের আকুতি তাঁর কণ্ঠে লালন করেছেন। শিক্ষা ভবন নিয়ে সারা দেশের অভিযোগ হচ্ছে, গেট থেকে এখানে ঢুকতে ঢুকতে টাকা দিতে হয়। টেবিলে টেবিলে ঘুষ দিতে দিতে নিঃস্ব হয়ে বের হয়ে আসতে হয়। যুগের পর যুগ শিক্ষা ভবন ঘিরে মানুষের অভিযোগের শেষ নেই। এই ভবন থেকে সারাদেশের স্কুল-কলেজের যারাই পরিদর্শনে যান, তাঁরাই ফুলে-ফেঁফে ওঠেন। অগাধ বিত্ত-বৈভবের মালিক হন।

এক সময় উচ্চ শিক্ষা নিয়ে স্কুল-কলেজের শিক্ষকরা সম্মান ও পবিত্র এবং মর্যাদাকর পেশা হিসেবে মানুষের শ্রদ্ধা কুড়াতেন। একালে এসে দেখা যায়, বছরের পর বছর স্কুল-কলেজ শিক্ষক সংকটে ভুগে। স্কুল-কলেজের শিক্ষকরা নজর দেন শিক্ষা ভবনের দিকে। একবার শিক্ষা ভবনে কর্মকর্তা হয়ে ঢুকলেই হলো, অগাধ বিত্ত-বৈভব গড়ার আলাদিনের চেরাগ পেয়ে যান তারা। যে শিক্ষা ভবন একটি জাতির আলো ছড়ানোর কথা সেটিই ঘুষ-দুর্নীতিতে দিনের পর দিন, বছরের পর বছর, যুগের পর যুগ ধরে আজ অন্ধকার অভিশপ্ত হয়ে উঠেছে। শিক্ষকতার চেয়ে শিক্ষা ভবনের চেয়ার-টেবিলে যাদের কুদৃষ্টি এবং শিক্ষা ভবন থেকে যারা আর শিক্ষকতায় ফিরে যেতে চান না, তাদের মন ও মগজজুড়ে কেবলই লোভ আর লোভ।

শরীরের শিরায় শিরায় রয়েছে, দুর্নীতির শ্রোত। শিক্ষা ভবন থেকে ঘুষ-দুর্নীতির পথে দুহাতে টাকা কামিয়ে সমাজেও তারা দম্ভের সঙ্গে চলছেন। ঘুষ-দুর্নীতির পাহাড়ের উপর দাঁড়ানো কর্মকর্তা ও মন্ত্রীদেরকে শিক্ষা মন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ বুকভরা ক্রন্দন নিয়েই হোক, হাতাশা বা ক্রোধ নিয়েই হোক কার্যত যে কথা বলেছেন, তাতে জনগণের টাকায় পড়ালেখা করে জনগণের টাকায় খেয়েপড়ে যারা দুর্নীতির উল্লাস নিত্য করছেন তাদের গালে কষে থাপ্পড় বসিয়েছেন। নুরুল ইসলাম নাহিদ তাঁর সারাজীবনের রাজনীতিতে এই প্রথম সৎসাহসিকতার সঙ্গে যে অপ্রিয় সত্য উচ্চারিত করেছেন, তাতে কর্মকর্তা ও ।

দুর্নীতি দমন সংস্থা থেকে সরকারের প্রতিটি প্রতিষ্ঠানে এসব বর্ণচোরা, দাম্ভিক, অসৎ চক্রের মুখোশ উন্মোচন করার দায়িত্ব সবার। দুর্নীতিবাজদের হাতে, লুটেরাদের হাতে, দেশ তুলে দেয়া যায় না। সরকার আসে সরকার যায়, বর্ণচোরা দুর্নীতিবাজরা বিদায় হয় না, রং বদলায়। শিক্ষা মন্ত্রীকে অনুরোধ করব, শুধু শিক্ষা ভবন নয়, মন্ত্রণালয়ও নয়, তাঁর চারদিকে যারা চাটুকারের মতো আছেন তাদের দিকেও খেয়াল করুন। শিক্ষা মন্ত্রী কর্মকর্তা ও মন্ত্রীদের চোর বললেও সোমবার পর্যন্ত কেউ প্রতিবাদ করার নৈতিক সাহসটুকু দেখাতে পারেননি এই বলে যে, আমি চোর নই। তার মানে ভয়ে চোরেরা গুটিশুটি মেরে আছে।




এই পাতার আরো খবর

















Bartaman Kantho © All rights reserved 2020 | Developed By
Theme Customized BY WooHostBD