সোমবার, ১৫ ডিসেম্বর ২০২৫, ০৯:০১ অপরাহ্ন
শিরোনাম:
ওসমান হাদিকে নিয়ে সিঙ্গাপুরের পথে এয়ার অ্যাম্বুলেন্স শান্তিরক্ষীদের ঘাঁটিতে সন্ত্রাসী হামলা, বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ৬ শান্তিরক্ষী নিহত, আহত ৮- আইএসপিআর ওসমান হাদিকে গুলি, হামলাকারীদের সম্পর্কে যা জানা গেল ওসমান হাদি ‘লাইফ সাপোর্টে’, ব্রেইনে প্রচুর রক্তক্ষরণ: চিকিৎসক হাদিকে বহুবার ভারতীয় নম্বর থেকে হুমকি দেওয়া হয়েছিল: ফারুকী হাদির অবস্থা আশঙ্কাজনক, চলছে অস্ত্রোপচার হাদির ওপর হামলাকারীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার নির্দেশ প্রধান উপদেষ্টার স্বতন্ত্র প্রার্থী ওসমান হাদী গুলিবিদ্ধ, ঢাকা মেডিকেলে ভর্তি ৪০ ফুট মাটির গর্তে পড়ে গেল শিশু, উদ্ধারে ফায়ার সার্ভিস ধানের শীষকে জেতানোর বিকল্প নেই: তারেক রহমান

রাজশাহীতে আর কোনো পুকুর ভরাট হবে না: বিভাগীয় কমিশনার

ডেস্ক রিপোর্ট | বর্তমানকণ্ঠ ডটকম: / ১৯ পাঠক
প্রকাশকাল বুধবার, ২৬ নভেম্বর, ২০২৫

রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার ড. অ.ন.ম বজলুর রশীদ বলেছেন, রাজশাহীতে আর কোনো পুকুর ভরাট হতে দেওয়া হবে না। বুধবার (২৬ নভেম্বর) বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) ও রাজশাহী রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের সঙ্গে মতবিনিময় ও স্মারকলিপি গ্রহণ অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

বিভাগীয় কমিশনার বলেন, একসময় রাজশাহী ছিল পুকুরের শহর, কিন্তু বর্তমানে অনেক পুকুর দখল ও ভরাট হয়ে গেছে। আমরা ইতোমধ্যে এসব বিষয়ে কাজ শুরু করেছি। একটি ভরাট পুকুর পুনঃখননের কাজও শুরু করা হয়েছে। আমাদের পরিষ্কার সিদ্ধান্ত, রাজশাহীতে আর কোনো পুকুর ভরাট করা যাবে না। যেগুলো ইতোমধ্যেই ভরাট হয়ে গেছে, নির্বাচনের পর সেগুলো নিয়েও আমরা বসে সিদ্ধান্ত নিয়ে কাজ করবো।

রাজশাহীর যানজট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, শহরের চলমান উন্নয়নকাজের কারণে সাময়িকভাবে মানুষের চলাচলে ভোগান্তি হচ্ছে। আমরা কাজগুলোকে সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার নির্দেশনা দিয়েছি। একাধিক কাজ একসঙ্গে শুরু না করে একটি কাজ শেষ করার পর অন্যটিতে হাত দিলে মানুষের দুর্ভোগ কমবে। এরই মধ্যে আমি প্রেকৌশলীদের সাথে আজকে এই বিষয়ে সভা করবো। এবং তাদের নির্দেশনা দিবো।

তিনি আরও জানান, নগরীর সৌন্দর্য নষ্ট হওয়ায় তিনি সিটি কর্পোরেশনকে ক্ষতিপূরণস্বরূপ গাছ লাগানোর নির্দেশ দিয়েছেন। আমি বলেছি, আপনাদের কারণে অনেক কিছু নষ্ট হয়েছে তা আপনারা ফিরিয়ে দেবেন। ৫০ মিটার ফুলের গাছ দেবেন, এরপর ৫০ মিটার বড় গাছ দেবেন।

পরে বাপা ও রাজশাহী রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের পক্ষ থেকে বিভাগীয় কমিশনারকে একটি স্মারকলিপি প্রদান করা হয়।

স্মারকলিপিতে বলা হয়, পদ্মা তীরবর্তী রাজশাহী জেলার নদী, খাল ও জলাশয় অবৈধ দখল, দূষণ, অপরিকল্পিত উন্নয়ন এবং সরকারি দপ্তরের পর্যাপ্ত নজরদারির অভাবে প্রায় মৃতপ্রায় অবস্থায় পৌঁছেছে। নাব্যতা কমে যাওয়ায় সাম্প্রতিক বর্ষণে জলাবদ্ধতা ও কৃষির ক্ষতি হয়েছে। গবেষণায় দেখা যাচ্ছে, অতিরিক্ত ভূগর্ভস্থ পানি উত্তোলন, নদীর প্রবাহ হ্রাস এবং জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে রাজশাহীসহ উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে পানির স্তর দ্রুত নিচে নেমে যাচ্ছে।

স্মারকলিপিতে আরও উল্লেখ করা হয়, পদ্মা নদীর পাড় দখল, দূষণ ও চর গঠনের কারণে ভবিষ্যতে নৌপথ ও সম্ভাব্য নৌবন্দর নির্মাণ হুমকিতে পড়তে পারে। পদ্মা ছাড়া অন্য কোনো নদীতে নৌযান চলাচল নেই; অনেক নদী দখল, ভরাট ও বর্জ্য ফেলার কারণে অস্তিত্ব সংকটে। অপরিকল্পিত ছোট ব্রিজ, নদীর ওপর আড়াআড়ি বাঁধ এবং পলিথিন আবর্জনার কারণে নদীগুলো প্রায় প্রাণহীন হয়ে গেছে।

স্মারকলিপি প্রদানকালে উপস্থিত ছিলেন, বাপা জাতীয় কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ও রাজশাহী রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মো. জামাত খান, আফজাল হোসেন, বাপা রাজশাহী জেলা সভাপতি প্রকৌশলী মাহমুদ হোসেন, সহ-সভাপতি অধ্যাপক জুয়েল কিবরিয়া, সাধারণ সম্পাদক সেলিনা বেগম, উপদেস্টা সাংবাদিক আকবারুল হাসান মিল্লাত, শ ম সাজু, বাপা কোষাধ্যক্ষ মোহা. জাহিদ হাসান, বাপা রাজশাহী জেলার সদস্য হাসিনুর রহমান, বাপার পবা উপজেলার সংস্কৃতিক সম্পাদক রায়হান আলী জুয়েল, গ্রীণ ভয়েস রাজশাহীর সভাপতি রাবেয়া খাতুন, সাবেক ছাত্রনেতা ও সামাজিক কল্যাণ সংস্থার নির্বাহী পরিচালক রায়হান সম্রাট, রাশেদা বেগম, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ ও সমাজকর্মী আহসান হাবীব, চিকিৎসক স্বাপ্না কাজল প্রমুখ।


এই ক্যাটাগরির আরো খবর
এক ক্লিকে বিভাগের খবর