বারনামাকে ড. ইউনূস জনগণ কী চায়, সেটাই বাস্তবায়নের চেষ্টা করি

বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব নেওয়া প্রসঙ্গে নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, এটি তার ব্যক্তিগত কোনো ইচ্ছা নয়, বরং বাংলাদেশের জনগণের ইচ্ছার প্রতিফলন।
মালয়েশিয়ার বারনামা সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ কথা বলেন।
তিনি বলেন, ‘এটা আমার সিদ্ধান্ত নয়, এটা জনগণের সিদ্ধান্ত। আমি শুধু তাদের পথ সহজ করছি। আমি কিছু চাপিয়ে দিই না, আমি অপেক্ষা করি মানুষ কী চায়, তারপর সেটাকেই বাস্তবায়নের চেষ্টা করি।’
মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের আমন্ত্রণে প্রফেসর ইউনূস ১১ থেকে ১৩ আগস্ট সে দেশে সফরে ছিলেন। সফরকালে তিনি বারনামাকে ওই সাক্ষাৎকার দেন।
বাংলাদেশে গত দেড় দশকে প্রাপ্তবয়স্ক অনেকে নতুন ভোটার হয়েছেন, যাদের কেউ আগে কখনো ভোট দেওয়ার সুযোগ পাননি। তাদের বিষয়ে অধ্যাপক ইউনূস বলেন, ‘কেউ ১০ বছর ধরে অপেক্ষা করছেন। কেউ ১৫ বছর ধরেও।’
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘একবার ভাবুন, আপনার ১৮ বছর বয়স হয়েছে, আপনি ভোট দিতে আগ্রহী। কিন্তু আপনি সেই সুযোগ কখনো পাননি। কারণ, সত্যিকার অর্থে কখনো নির্বাচনই হয়নি। এখন তারা ১৫ বছরের মধ্যে প্রথমবার ভোট দিতে পারবেন।’
তিনি বলেন, রাজনীতিতে আসার ইচ্ছা তার কখনোই ছিল না। কিন্তু দেশের পরিস্থিতি তাকে এই কঠিন দায়িত্ব নিতে বাধ্য করেছে। তিনি নিজেকে কোনো নেতা নয়, বরং বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার এক অভিভাবক হিসেবে ভাবেন। তবে সামনের সময় যে কঠিন চ্যালেঞ্জে ভরা, তা স্বীকার করেন তিনি।
ড. ইউনূস বলেন, ‘অনেক সমস্যা রয়েছে। অনেকেই এটা ব্যাহত করতে চায়। যেসব রাজনৈতিক শক্তিকে বাংলাদেশ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, তারা আবার অস্থিতিশীলতা তৈরির চেষ্টা করছে।’
বাংলাদেশে আগামী সাধারণ নির্বাচন আগামী বছরের ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এই মুহূর্তে দেশের জনগণের দীর্ঘ প্রতীক্ষিত ভোটাধিকার ফিরিয়ে দেওয়াই তার প্রধান লক্ষ্য বলে জানান প্রফেসর ইউনূস।