বৃহস্পতিবার, ২৭ নভেম্বর ২০২৫, ১১:৫৮ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম:
বঙ্গোপসাগরে ভূমিকম্প, কাঁপলো টেকনাফ গোলাম রাব্বানীর এমফিলের ছাত্রত্ব বাতিল, ডাকসুর জিএস পদ নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত সিন্ডিকেটে শেখ হাসিনাকে প্রত্যর্পণের অনুরোধ পর্যালোচনা করা হচ্ছে: ভারত নতুন ইউএনও ১৬৬ উপজেলায় বৃহস্পতিবার শুরু ৪৭তম বিসিএস লিখিত পরীক্ষা, বর্জনের ঘোষণা একাংশের ৫০তম বিসিএসের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ, আবেদন শুরু ৪ ডিসেম্বর সিনহা হত্যার মাস্টারমাইন্ড ওসি প্রদীপ: পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ দুদকে শুধু দীর্ঘসূত্রিতা নয়, দুর্নীতিও আছে: ড. মোহাম্মদ আবদুল মোমেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় পাসপোর্ট করতে গিয়ে রোহিঙ্গা তরুণী আটক বাংলাদেশ ও ভুটানের মধ্যে দুইটি সমঝোতা স্মারক সই

কৌশলে ডেকে নিয়ে প্রতিবন্ধীকে ধর্ষণের পর হত্যা করেন তারা

ডেস্ক রিপোর্ট | বর্তমানকণ্ঠ ডটকম: / ৮ পাঠক
প্রকাশকাল বুধবার, ২৬ নভেম্বর, ২০২৫

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ায় আলোচিত মর্জিনা বেগম হত্যাকাণ্ডের রহস্য উন্মোচন করেছে পিবিআই। তথ্যপ্রযুক্তি ও সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণের মাধ্যমে মঙ্গলবার রাতে ও বুধবার ভোরে এ হত্যাকাণ্ডে জড়িত তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়।
নিহত মর্জিনা বেগম (৪৫) জেলার আখাউড়া পৌর শহরের দেবগ্রামের বাসিন্দা দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী ইসমাইল মিয়ার স্ত্রী। তিনি সড়ক বাজারে শ্রমিক ও পরিচ্ছন্নতার কাজ করতেন এবং সন্ধ্যায় পিঠা বিক্রি করতেন। তবে মর্জিনা বেগম তার স্বামীকে নিয়ে নয়াবাজার এলাকায় ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন।

গ্রেফতারকৃত মো. শহিদুল ইসলাম (৪৩) মুন্সীগঞ্জ জেলার শ্রীনগর উপজেলার কারিয়া গ্রামের বসিন্দা, হবিগঞ্জের জেলার রানীগঞ্জের শফিক (৪০) ও হবিগঞ্জ জেলার গয়েরপুরের মো. রুমান মিয়া (২৪)। তারা তিনজনই আখাউড়া পৌর এলাকার মসজিদপাড়ার লাল মিয়া হাজীর বাড়িতে ভাড়া থাকতেন।

জানা যায়, গত ২৫ নভেম্বর রাত আনুমানিক ৩টার দিকে একটি অজ্ঞাত নম্বর থেকে ফোন করে মিথ্যা তথ্য দিয়ে মর্জিনা বেগমকে বাড়ি থেকে ডেকে নেয়া হয়। পরদিন সকাল থেকে তার খোঁজ না পেয়ে পরিবারের সদস্যরা খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। পরে বিকেল ৫টার দিকে আখাউড়া পৌরসভা কার্যালয়ের পরিত্যক্ত টিনশেড ভবনের পাশে তার মরদেহ পাওয়া যায়। নিহতের গলায় দাগ ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়। লাশের পাশেই পড়ে ছিল একজোড়া জুতা, যা তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ আলামত হিসেবে বিবেচিত হয়।

পিবিআই জানায়, কাঁচা বাজার এলাকার দারোয়ান শহিদুল ইসলাম কৌশলে ‘মালের গাড়ি এসেছে’ এমন তথ্য দিয়ে ভিকটিমকে ফোন করে ঘটনাস্থলে নিয়ে যান। সিসিটিভির ফুটেজে দেখা যায়, ফোন করার মাত্র ১৪ মিনিট পর ভিকটিম বাজার এলাকা অতিক্রম করে ঘটনাস্থলের দিকে যান।

তদন্তে উঠে আসে, প্রথমে শহিদুল ইসলাম ভিকটিমকে ধর্ষণ করেন। এরপর তার সহযোগী হোসেন ও রুমান মিয়া ধর্ষণের চেষ্টা করলে ভিকটিম বাধা দেন। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে তারা তাকে হত্যার সিদ্ধান্ত নেন। একপর্যায়ে একজন গলা চেপে ধরে এবং অন্য দুইজন তার হাত ও পা চেপে ধরে শ্বাসরোধে হত্যা নিশ্চিত করে পালিয়ে যান।

ঘটনার পর শহিদুল ইসলাম মোবাইল হারানোর নাটক সাজালেও পিবিআইয়ের প্রযুক্তিগত বিশ্লেষণে ধরা পড়ে, তিনি একই হ্যান্ডসেটে সিম পরিবর্তন করে ব্যবহার করছিলেন।

মঙ্গলবার রাতে আখাউড়া সড়ক বাজার এলাকা থেকে শহিদুল ইসলামকে গ্রেফতার করা হয়। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে একই দিন বুধবার ভোরে আখাউড়া পৌরসভার মসজিদপাড়া থেকে হোসেন ও রুমান মিয়াকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃত তিনজনই প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন এবং স্বেচ্ছায় ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় আদালতে জবানবন্দি দিতে সম্মত হন। তাদেরকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।

এ ব্যাপারে পিবিআই ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার পুলিশ সুপার শচীন চাকমা বলেন, এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। প্রযুক্তিগত প্রমাণ ও সিসিটিভি ফুটেজের ভিত্তিতে তাদেরকে গ্রেফতার করা হয়। ঘটনায় অন্য কেউ জড়িত থাকলে তাকেও আইনের আওতায় আনা হবে।


এই ক্যাটাগরির আরো খবর
এক ক্লিকে বিভাগের খবর