শনিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৫, ০২:২৪ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম:
রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে ৭ প্রস্তাব দিলেন প্রধান উপদেষ্টা নির্বাচনে অংশগ্রহণ ও সফলতার চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে সংস্কার: নাহিদ রোহিঙ্গা সমস্যার উৎপত্তি ও সমাধান মিয়ানমারে: প্রধান উপদেষ্টা দেশ সংস্কার কোনো নির্দিষ্ট দায়িত্ব নয়, এটা প্রকৃতির মতোই চলবে : ড. আব্দুল মঈন খান ডা. নারায়ণ হত্যায় ৫ জনের মৃত্যুদণ্ড, ৪ জনের আমৃত্যু কারাদণ্ড বারনামাকে ড. ইউনূস জনগণ কী চায়, সেটাই বাস্তবায়নের চেষ্টা করি নির্বাচনে অংশ নেব না, সংস্কারই অগ্রাধিকার: ড. ইউনূস অতিরিক্ত আইজি হলেন পুলিশের ৭ কর্মকর্তা নির্বাচনে ৮০ হাজারের বেশি সেনা সদস্য মোতায়েন থাকবে: স্বরাষ্ট্র উপেদষ্টা মতভেদ থাকলেও জাতীয় স্বার্থে সকলের ঐক্যবদ্ধ থাকা প্রয়োজন: তারেক রহমান

খুলনায় জলাবদ্ধতা নিয়ে চাপে কেসিসি

ডেস্ক রিপোর্ট | বর্তমানকণ্ঠ ডটকম: / ১৫৪ পাঠক
প্রকাশকাল শনিবার, ২১ জুন, ২০২৫

জলাবদ্ধতা নিরসনে খুলনায় প্রায় ৮২৩ কোটি টাকার মেগা প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে খুলনা সিটি করপোরেশন (কেসিসি)। এই প্রকল্পের মাধ্যমে ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন, খাল খনন, পাম্প স্টেশন নির্মাণসহ শহরের পানি দ্রুত নিষ্কাশন নিশ্চিত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

তবে বর্ষার শুরুতে দুই দিনের ভারী বৃষ্টিতে নগরীর প্রধান সড়ক, অলিগলিসহ নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়। শহরের মধ্যে বিভিন্ন সড়কে ঘণ্টার পর ঘণ্টা পানি জমে থাকে। কোথাও পানি সরতে এক দিনেরও বেশি সময় লাগে। এতে নগরবাসীকে চরম ভোগান্তি পোহাতে হয়। বিভিন্ন নাগরিক সংগঠনের নেতারা ও রাজনৈতিক নেতারা প্রকল্প বাস্তবায়নের নামে লুটপাটের অভিযোগ তুলেছেন।

অপরদিকে চাপের মুখে জলাবদ্ধতার কারণ চিহ্নিত করে তাৎক্ষণিক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার লক্ষ্যে জরুরি সভাসহ তিনটি মোবাইল টিম গঠন করেছে সিটি করপোরেশন। নিজ নিজ এলাকায় সৃষ্ট জলাবদ্ধতার স্থানে জনবল ও যন্ত্রপাতিসহ উপস্থিত হয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য টিমের সদস্যদের নির্দেশ দেওয়া হয়।

জানা গেছে, বৃহস্পতিবার (১৯ জুন) সকাল ৬টা পর্যন্ত শুক্রবার( ২০ জুন) সকাল ৬টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় ২০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়। এ ছাড়া দুপুরের দিকেও বিভিন্ন স্থানে ভারী বৃষ্টিপাত হয়। এতে নিম্নাঞ্চলে জলাবদ্ধতা সৃষ্টির শঙ্কা তৈরি হয়েছে। এর আগে গত মঙ্গলবার সকাল ৬টা থেকে গত বুধবার সকাল ৬টা পর্যন্ত খুলনায় ১০১ দশমিক ৪ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ২০১৮-১৯ অর্থবছর থেকে ৮২৩ কোটি ৭৯ লাখ টাকা ব্যয়ে ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন কাজ করছে কেসিসি। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে প্রকল্পের কাজের মেয়াদ শেষ হলেও দ্বিতীয় দফায় সময় বাড়ানো হয়েছে।

মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শফিকুল আলম তুহিন বলেন, অপরিকল্পিত উন্নয়ন, খাল দখল ও নিয়মিত ড্রেন পরিষ্কার না করায় একই দুর্ভোগের পুনরাবৃত্তি ঘটছে। সাড়ে ৫ বছরে কেসিসি প্রায় ৬০০ কোটি টাকা ব্যয় করে ড্রেন নির্মাণ, খাল খনন করলেও সুফল মেলেনি।

জলাবদ্ধ এলাকা পরিদর্শন করে মহানগর বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট মনা বলেন, মহানগরীর পানি নিষ্কাশনের প্রধান মাধ্যম ২২টি খাল দখলমুক্ত ও সংস্কার না করা, নিয়মিত ড্রেন পরিষ্কার না করা এবং জলাধার ভরাট হয়ে যাওয়াতেই এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। জলাবদ্ধতা নিরসনের নামে হাজার হাজার কোটি টাকা লুটপাট করা হয়েছে। দ্রুত পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা উন্নত করার পাশাপাশি খুলনাবাসী এখন গেল ১৫ বছরে খাল খনন, ড্রেন নির্মাণ ও পরিষ্কার এবং বর্জ্য অপসারণ খাতে লুটপাটের শ্বেতপত্র দেখতে চায়।

তবে মহানগরীর কিছু কিছু এলাকার জলাবদ্ধতার কারণ চিহ্নিত করে তাৎক্ষণিক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার লক্ষ্যে জরুরি সভা করে সিটি করপোরেশন। এতে জলাবদ্ধতার কারণ চিহ্নিত করে তাৎক্ষণিক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন কেসিসি প্রশাসক ফিরোজ সরকার। সৃষ্ট জলাবদ্ধতা নিরসনে ১ থেকে ১৫নং ওয়ার্ড এলাকার জন্য সহকারী প্রকৌশলী ওবায়দুল্লাহ খানকে প্রধান করে ৭ সদস্য বিশিষ্ট; ২২, ২৩ ও ২৯নং ওয়ার্ড এলাকার জন্য উপসহকারী প্রকৌশলী অমিত কান্তি ঘোষকে প্রধান করে ৭ সদস্য বিশিষ্ট এবং ২৭, ২৮, ৩০ ও ৩১নং ওয়ার্ড এলাকার জন্য উপসহকারী প্রকৌশলী শেখ নজরুল ইসলামকে প্রধান করে ৭ সদস্য বিশিষ্ট ৩টি মোবাইল টিম গঠন করা হয়।
এ ছাড়া টিমের মূল সমন্বয়কারী হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন নির্বাহী প্রকৌশলী শেখ মো. মাসুদ করিম ও কনজারভেন্সি অফিসার ওয়াহিদুজ্জামান খান।


এই ক্যাটাগরির আরো খবর
এক ক্লিকে বিভাগের খবর