বুধবার, ২১ ফেব্রুয়ারী ২০২৪, ১২:১৫ অপরাহ্ন

করোনা সুযোগে বেপরোয়া মাদকসেবী ও ব্যবসায়ীরা, গাঁজা ছেড়ে ঝুঁকছে মরণ নেশা ইয়াবার দিকে!

বর্তমানকণ্ঠ ডটকম / ২৩ পাঠক
বুধবার, ২১ ফেব্রুয়ারী ২০২৪, ১২:১৫ অপরাহ্ন

জাহিদুর রহমান তারিক, বর্তমানকন্ঠ ডটকম, ঝিনাইদহ : করোনা সুযোগে ঝিনাইদহ জেলায় মাদকের নিরাপদ রুট হিসেবে ব্যবহার হচ্ছে কালীগঞ্জ, কোটচাঁদপুর, মহেশপুর ও শৈলকুপা উপজেলা। এই এলাকার মাদক ব্যবসায়ীরা এখন গাঁজা ব্যবসার পাশাপাশি ব্যাপক হারে ঝুঁকছে মরণ নেশা ইয়াবার দিকে। যা উঠতি বয়সি তরুন-তরুনী শিক্ষার্থীদের হাতে খুব সহজেই পৌছে যাচ্ছে। ইয়াবা নামের এই মরণ নেশার বড়িটির আকৃতি ছোট হওয়ায় মাদক ব্যবসায়ীরা মাদক সেবীদের হাতে এমনকি বাড়িতে বাড়িতে খুব সহজেই পৌছে দিতে সক্ষম হচ্ছে। ওই সব এলাকার অনেক পরিবারের মধ্যে মরণ নেশা ইয়াবা ঢুকে পড়েছে। পরিবারের উঠতি বয়সী স্বজন এমনকি ভাই-বোন মিলে একসাথে বসেও এই মরণ নেশা ইয়াবা সেবন করছে বলে জানা গেছে। বিশেষ করে ৬টি উপজেলার মধ্যে শৈলকুপা অন্যতম।

জানা যায়, শৈলকুপা উপজেলার ১৪টি ইউনিয়ন আর ১টি পৌরসভার মধ্যে বিস্তীর্ণ এলাকা জুড়ে দেশের করোনা পরিস্থিতির মধ্যে দিয়েও এখন চলছে মাদক ব্যবসা। এর মধ্যে শেখাপাড়া, ভাটই, রামচন্দ্রপুর,সাধুখালী, মাইলমারী,খুলুমবাড়ী ও পৌর এলাকার কবিরপুর মাদকের অন্যতম। বিশেষ করে কবিরপুর এলাকার ১৫ থেকে ২৫ বছর বয়সী যুবকেরা ইয়াবায় আসক্ত হয়ে পড়েছে। মরণ নেশা ইয়াবার টাকা জোগাড় করতে চুরি, ছিনতাইসহ সমাজের বিভিন্ন অপকর্মের সাথে তারা জড়িয়ে পড়ছে। এছাড়া শৈলকুপা উপজেলার সীমান্ত এলাকা হরিণাকুন্ডু উপজেলার চড়পাড়া এলাকায় মদ-গাজার পাশাপাশি মরণ নেশা ইয়াবার ছাড়াছড়ি।

তথ্য অনুসন্ধ্যানে জানা যায়, ঝিনাইদহ-কুষ্টিয়ার মাদকের নিরাপদ রুট হিসেবে ব্যবহার হতো শেখপাড়া এলাকাটি। যেখানে এক সময় বস্তা বস্তা গাঁজা আমদানি হয়ে তা বিভিন্ন জেলায় ছড়িয়ে পড়তো। কিন্তু বর্তমানে মাদক সেবীরা গাঁজা ছেড়ে মরণ নেশা ইয়াবার দিকে ঝুকছে। যে কারনে অধিকাংশ গাঁজা ব্যবসায়ীরা গাঁজার ব্যবসা ছেড়ে ইয়াবা ব্যবসার দিকে ঝুকছে। ইয়াবা আকৃতিতে ছোট হওয়ায় খুব সহজেই তারা লুকিয়ে রেখে অত্যান্ত গোপনে ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। কবিরপুর, শেখপাড়া, ভাটই, রামচন্দ্রপুর ও মাইলমারী এলাকায় মাদকের অবাধ বিচরনে শংকিত হয়ে পড়েছে উঠতি বয়সী স্কুল-কলেজের ছাত্র-ছাত্রীদের অভিভাবকরা।

এলাকাবাসী জানায়, এসব বেশিরভাগ মাদক ব্যবসায়ী ও মাদকসেবীরা নিজেদের পুলিশ ও র‌্যাবের সোর্স পরিচয় দিয়ে এলাকায় প্রভাব বিস্তার করে ইয়াবা ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে।

পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, জেলায় মাদকের কোন ভয়াবহতা নেই। যেখানেই মাদক ব্যবসা বা মাদকসেবীদের খবর পাওয়া যাবে সেখানেই অভিযান চালানো হবে। মাদকের বিরুদ্ধে পুলিশ সক্রিয় রয়েছে।

এদিকে সাংবাদিকদের হাতে বেশকিছু ইয়াবা ব্যবসা ও সেবনকারীদের ভিডিও এসেছে। ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে স্কুল –পড়ুয়া শিক্ষার্থীরা মরণ নেশা ইয়াবা সেবন করছে। এলাকার সচেতন মহলের দাবী যদি মাদকের ভয়াবহতা না থাকে বা এলাকায় মাদক ব্যবসা না হয় তাহলে কিভাবে স্কুল –কলেজের শিক্ষার্থীদের হাতে এসব ইয়াবা উঠছে? কোথায়, কিভাবে হাতের নাগালে পাচ্ছে এই মরণ নেশা ইয়াবা ট্যাবলেট? তাই প্রশাসনের কাছে আকুল আবেদন এই মরণ নেশা ইয়াবার হাত থেকে যুব সমাজকে বাঁচাতে এখনই জেলা প্রশাসক,পুলিশ সুপার ও র‌্যাবের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন সচেতন মহল।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *