বৃহস্পতিবার, ১৬ মে ২০২৪, ০৬:৫৩ অপরাহ্ন

চাঁদপুরে ভাবীকে হত্যার দায়ে দেবরের যাবজ্জীবন কারাদন্ড

বর্তমানকণ্ঠ ডটকম / ৩৩ পাঠক
বৃহস্পতিবার, ১৬ মে ২০২৪, ০৬:৫৩ অপরাহ্ন

এ কে আজাদ, চাঁদপুর ব্যুরো প্রধান, বর্তমানকন্ঠ ডটকম : চাঁদপুর সদর উপজেলার বাগাদী ইউনিয়নের রামচন্দ্রপুর গ্রামে চাকুরীর জন্য বিদেশ পাঠানোকে কেন্দ্র করে বড় ভাইয়ের স্ত্রী শারমীন আক্তার (২১) কে ছুরিকাঘাত করে হত্যার দায়ে দেবর মো. ইয়াছিন মিজি (২২) কে যাবজ্জীবন কারাদন্ড ও ১০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে চাঁদপুরের আদালত।

রোববার (১৪ ফেব্রæয়ারি) বিকেলে চাঁদপুর জেলা ও দায়রা জজ এস.এম. জিয়াউর রহমান এই রায় দেন।

যাবজ্জীবন প্রাপ্ত আসামী ইয়াছিন সদর উপজেলার বাগাদী ইউনিয়নের রামচন্দ্রপুর (মমিনপুর) গ্রামের মিজি বাড়ীর আবদুর রহিম মাওলানার ছেলে।

হত্যার শিকার শারমীন আক্তার আসামীর বড় ভাই ইউসুফ মিজির স্ত্রী এবং ফরিদগঞ্জ পৌরসভার ১নম্বর ওয়ার্ড উত্তর কেরোয়া পাটওয়ারী বাড়ীর তাজুল ইসলাম পাটওয়ারী মেয়ে।

মামলার বিবরণ থেকে জানাগেছে, শারমিন আক্তার ও ইউসুফের সাথে ২০১৫ সালে বিয়ে হয়। ইউসুফ সৌদি প্রবাসি। বিয়ের পরে বিদেশে চলে যান। এরপরে ইউসুফের ছোট ভাই আসামী ইয়াছিন তাকে বিদেশে পাঠানোর জন্য ভাই-ভাবীকে চাপ প্রয়োগ করেন। দীর্ঘ দিন তাকে বিদেশে না পাঠানোর কারণে ভাবীকে সন্দেহ করেন। ভাবীর কারণেই তাকে বিদেশে পাঠানো হচ্ছে না। এমন অবস্থায় ঘটনার রাত অর্থাৎ ২০১৭ সালের ৫ সেপ্টেম্বর রাত আনুমানিক ৯টার দিকে ইয়াছিন তার বড় ভাইয়ের অনপুস্থিতিতে কথা কাটাকাটির এক পর্যায় হাতে থাকা ছুরি দিয়ে ভাবী শারমিনকে উপর্যপুরি ছুরিকাঘাত করলে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। সংবাদ পেয়ে তার ভাই ঘটনাস্থল থেকে শারমিনকে উদ্ধার করে চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপালে নিয়ে আসলে কর্তব্যরত চিকিৎসক শারমীন আক্তারকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।

এই ঘটনার সংবাদ পেয়ে শারমিনের পিতা তাজুল ইসলাম পাটওয়ারী হাসপাতালে ছুটে আসেন এবং মেয়ের মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন। পরদিন ৬ সেপ্টেম্বর তাজুল ইসলাম বাদী হয়ে ইয়াছিন মিজিকে আসামী করে চাঁদপুর মডেল থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। পরবর্তীতে পুলিশ আসামী ইয়াছিনকে গ্রেফতার করেন।

চাঁদপুর সদর মডেল থানার তৎকালীন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. মফিজুল ইসলাম তদন্ত শেষে ওই বছর ৩০ নভেম্বর আদালতে চার্জশীট দাখিল করেন।

রষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর (এপিপি) মোক্তার আহমেদ অভি বলেন, তিন বছরের অধিক সময় মামলাটি চলমান অবস্থায় ১৮জন সাক্ষীর মধ্যে আসামীর পিতা, মাতা ও বোনসহ ১৬ জনের সাক্ষ্য গ্রহন করেন। সাক্ষ্য প্রমান ও মামলার নথিপত্র পর্যালোচনা করে আসামী ইয়াছিনের উপস্থিতিতে যাবজ্জীবন কারাদন্ড ও ১০ হাজার টাকা জরিমানা করেন।

আসামী পক্ষের আইনজীবী ছিলেন অ্যাড. মাসুম ভুঁইয়া ও সফিকুল ইসলাম ভুঁইয়া।

মামলার বাদী তাজুল ইসলাম পাটওয়ারী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আমি আমার মেয়ে হত্যার সঠিক বিচার পাইনি। আমি ন্যয় বিচারের জন্য উচ্চ আদালতে যাব।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *