বুধবার, ২১ ফেব্রুয়ারী ২০২৪, ১০:৪৯ পূর্বাহ্ন

প্রিয়দার কাছে রাস্তায় বসে কেঁদেছিলেন মমতা

বর্তমানকণ্ঠ ডটকম / ২৭ পাঠক
বুধবার, ২১ ফেব্রুয়ারী ২০২৪, ১০:৪৯ পূর্বাহ্ন

ভারত ডেস্ক,বর্তমানকণ্ঠ ডটকম,সোমবার, ২০ নভেম্বর ২০১৭: পশ্চিমবঙ্গ রাজনীতির এক বড় অধ্যায় জুড়ে রয়েছেন প্রিয়রঞ্জন দাসমুন্সী। অনেক ইতিহাসের, অনেক উত্থান, পতনের সাক্ষী তিনি। ২০০৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে জিতে ক্ষমতায় এসেই সিঙ্গুরে ন্যানো প্রকল্পের ঘোষণা করেছিলেন তৎলীন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য। কিন্তু তখনও জানা ছিল না বাংলার রাজনীতি কোন দিকে প্রবাহিত হবে।

বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের নির্দেশ মতো রাজ্য সরকার সিঙ্গুরে জমি অধিগ্রহণের কাজ শুরু করে। কিন্তু, অনেক জমি মালিকই জমি দিতে অস্বীকার করেন। সেই অনিচ্ছুক চাষিদের পাশে দাঁড়িয়ে বিষয়টি নিয়ে আন্দোলনে নামে সেই সময়কার বিরোধী দল তৃণমূল। বিধানসভায় বিরোধী দল হলেও সংসদে দলের একমাত্র প্রতিনিধি তখন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই অবস্থাতেই ধারাবাহিক আন্দোলন চালিয়ে যান মমতা।

যার জেরে অনেক টানাপড়েনের পরে টাটা গোষ্ঠী এ রাজ্য থেকে ন্যানো প্রকল্প তুলে নিয়ে কার্যত বাধ্য হয়। ২০১১ সালে এই সিঙ্গুর আন্দোলনে ভর করেই রাজ্যের মসনদে বসার পথ নিশ্চিত করে ফেলেন তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

ইতিহাস বলছে, ১৮ মে, ২০০৬
রতন টাটা এবং বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য যৌথ সাংবাদিক সম্মেলনে সিঙ্গুরে ন্যানো প্রকল্পের ঘোষণা করলেন।

২০ সেপ্টেম্বর, ২০০৬ রাজ্য সরকার এবং টাটা গোষ্ঠী কারখানা তৈরির জন্য সিঙ্গুরে জমি অধিগ্রহণ করে।

মমতা চূড়ান্ত আন্দোলনের ডাক দেন ডিসেম্বরে। ২৮ ডিসেম্বর, ২০০৬ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ২৫ দিন পরে অনশন ভাঙেন।

এর মাঝেই ছিল একটা দিন। ২০০৬ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর। সিঙ্গুরে বিক্ষোভ দেখাতে গিয়ে পাল্টা বিক্ষোভের মুখে পড়েন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়-সহ তাঁর অনুগামীরা। সিঙ্গুরে তুমুল বিক্ষোভের মুখে পড়েও জমি ছাড়েননি মমতা। গোটা রাত সিঙ্গুরে কাটিয়ে সকাল হতে কলকাতায় আসেন। সোজা এসে ধর্নায় বসেন গান্ধী মূর্তির পাদদেশে।

পুজোর তখন মাত্র কয়েকটা দিন। খবর পেয়েই সেখানে চলে আসেন তৎকালীন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী প্রিয়রঞ্জন দাসমুন্সী। সময়টা ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০০৬। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে অনেক সময়েই মতের অমিল ছিল প্রিয়রঞ্জনের। তবু জোট সঙ্গি মমতার কাছে এসেছিলেন তিনি।

সেদিনের গান্ধী মূর্তির পাদদেশে যাঁরা হাজির ছিলেন তাঁরা দেখেছিলেন এক ভেঙে পড়া মমতাকে। সত্যিই তিনি সেদিন রাজনীতি ছেড়ে দেওয়ার কথা মুখে উচ্চারণ করেছিলেন। বলেছিলন, ‘‘আমাকে ওরা রাজনীতি করতে দেবে না, আমাকে ওরা মেরে ফেলবে।’’

কংগ্রেস নেতা, কেন্দ্রের কংগ্রেস সরকারের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী প্রিয়রঞ্জন দাসমুন্সী হাত বাড়িয়ে দিয়েছিলেন মমতার দিকে। প্রিয়রঞ্জনের আশ্বাসেই সত্যাগ্রহ তুলে নিয়েছিলেন মমতা।

এর পরের ইতিহাস সকলের জানা। সেদিনের ভেঙে পড়া মমতা সেই সিঙ্গুর আন্দোলন দিয়ে শুরু করে পরে নন্দীগ্রাম আন্দোলন তৈরি করে আজ ক্ষমতায়।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *