মঙ্গলবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৪, ০১:৩৯ অপরাহ্ন

রাজশাহীর পুঠিয়ায় বাপ-বেটার রাজত্ব!

বর্তমানকণ্ঠ ডটকম / ৩১ পাঠক
মঙ্গলবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৪, ০১:৩৯ অপরাহ্ন

রাজশাহী,বর্তমানকণ্ঠ ডটকম,সোমবার, ৪ ডিসেম্বর ২০১৭: রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলার বানেশ্বর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ। তাঁর বিরুদ্ধে রয়েছে মাদক, অপহরণ সাজানো মামলাসহ প্রতারণার অভিযোগ। কয়েক দিন আগে জামিনে বের হয়েছেন।

তাঁর ছেলে রাজশাহী জেলা ছাত্রলীগের সদস্য আবু সাঈদ ওরফে দোয়েল। তাঁকে গত শনিবার (২ ডিসেম্বর) অস্ত্রসহ আটক করেছে র‌্যাব। র‌্যাবের দাবি, দোয়েল অস্ত্র ব্যবসায়ী।

স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের দাবি, আজাদ এবং তাঁর ছেলে দোয়েল রাজনীতির আড়ালে নানা অপকর্মে জড়িত। তাঁদের অপকর্মে এলাকাবাসী তটস্থ। সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে এলাকার প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ীকে তাঁরা নানাভাবে হয়রানি করে থাকেন। এমনকি এদের নানা কাণ্ডে প্রশাসনকেও বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়তে হয়।

এরই মধ্যে পুঠিয়া উপজেলার বানেশ্বর বাজার ব্যবসায়ী সমিতির অফিস দখলের অভিযোগ উঠেছে ব্যবসায়ী সমিতির বহিস্কৃত সভাপতি ও বানেশ্বর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ ওরফে ডিশ কালামের বিরুদ্ধে। আবুল কালাম আজাদ রবিবার সন্ধ্যায় তার সহযোগীদের নিয়ে বণিক সমিতির সভাপতির চেয়ার দখল করেন। এসময় তিনি জোর পূর্বকভাবে সভাপতি হিসেবে নিজেকে দাবিও করেন।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বানেশ্বর ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ও বানেশ্বর হাট-বাজার কমিটির সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা গাজী সুলতান। পুঠিয়া থানার পরিদর্শক সায়েদুর রহমান ভুইয়া জানান, নামাজগ্রামের বাসিন্দা দোয়েলের বিরুদ্ধে শনিবার রাতে র‌্যাব অস্ত্র ও বিস্ফোরক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করেছে। এর আগে সন্ধ্যায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বেলপুকুরে অভিযান চালিয়ে তাঁকে আটক করে র‌্যাব।

দোয়েলের কাছে থেকে একটি বিদেশি পিস্তল, একটি ম্যাগাজিন এবং তিন রাউন্ড গুলি জব্দ করা হয়েছে। এর আগেও ব্যবসায়ীর ওপর হামলার ঘটনায় তাঁকে গ্রেফতার করেছিল পুলিশ। জামিনে মুক্ত হয়ে তিনি নানা অপকর্মে জড়িয়ে পড়েন।

স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানায়, গত ৩০ আগস্ট আজাদ বানেশ্বর বাজার থেকে অপহরণ হন বলে তাঁর ছেলে দোয়েল থানায় মামলা করেন। ওই মামলায় কাউকে আসামি করা হয়নি। তবে দোয়েলের পক্ষ থেকে বানেশ্বর বাজারের প্রতিষ্ঠিত ডাল ব্যবসায়ী ওবাইদুর রহমানকে আটক করার জন্য পুলিশকে চাপ দেওয়া হয়।

ওবাইদুর জেলা যুবলীগের সহসভাপতি। পুলিশের চাপে তিনি পুঠিয়া থেকে সরে যেতে বাধ্য হন। মামলাটি তদন্ত করতে গিয়ে পুলিশ জানতে পারে, আজাদ স্বেচ্ছায় আত্মগোপন করেছেন। এরপর গত ২ আগস্ট তাঁকে গ্রেফতার করে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠায় পুলিশ। এ মামলায় সম্প্রতি কারাগার থেকে জামিনে বেরিয়ে আসেন।

বানেশ্বর বাজারের ব্যবসায়ী ওবাইদুর রহমান অভিযোগ করেন, গত ২০ আগস্ট কালাম এবং তাঁর দুই ছেলে চাঁদার দাবিতে তাঁর ওপর হামলা করেন। এ ঘটনায় মামলা করা হলে পুলিশ তাঁর ছেলে দোয়েলকে আটক করেছিল। এরপর ব্যবসায়ীকে ফাঁসাতে দোয়েলের বাবা অপহরণ নাটক সাজান।

ওবাইদুর রহমান বলেন, তাঁরা বাপ-ছেলে রাজনীতির আড়ালে নানা অপকর্মের সঙ্গে যুক্ত। তাঁদের অত্যাচারে পুঠিয়াবাসী ভীতসন্ত্রস্ত। কিন্তু তাঁদের ভয়ে কেউ মুখ খুলতে সাহস পায় না। তাঁদের শাস্তি হওয়া দরকার। তা না হলে তাঁরা এলাকায় ফিরে আবারও নানা অপকর্মে জড়িত হবেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পুঠিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের শীর্ষপর্যায়ের একজন নেতা বলেন, কালাম এবং তাঁর ছেলে রাজনীতির দোহাই দিয়ে এলাকায় নানা অপকর্ম করছে। তাঁদের অবৈধ ব্যবসার প্রতিবাদ করলেও সাধারণ মানুষকে তটস্থ থাকতে হয়। তাঁদের বিরুদ্ধে প্রশাসন বড় ধরনের ব্যবস্থা না নিলে একের পর এক অপকর্ম করতে থাকবেন।

বানেশ্বর বাজার ব্যবসায়ী সমিতির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ইউএনও আবদুল্লাহ আল মাহমুদ বলেন, আবুল কালাম আজাদ সমিতির কার্যালয় দখল করার বিষয়টি চেয়ারম্যানের মাধ্যমে শুনেছি। তবে এভাবে তিনি সভাপতির চেয়ারে বসতে পারেন না। সোমবার (৪ ডিসম্বর) সন্ধ্যায় এ ব্যপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *