বুধবার, ১৫ মে ২০২৪, ০৯:৪৮ অপরাহ্ন

রূপগঞ্জে দুই পক্ষের সংঘর্ষ, শিশুসহ গুলিবিদ্ধ ৮

বর্তমানকণ্ঠ ডটকম / ৫৩ পাঠক
বুধবার, ১৫ মে ২০২৪, ০৯:৪৮ অপরাহ্ন

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলায় পুরোনো দ্বন্দ্বের জেরে দুইপক্ষের সংঘর্ষের ঘটনায় অন্তত আটজন গুলিবিদ্ধ হয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

সোমবার সকাল সাড়ে ৬টার দিকে উপজেলার কায়েতপাড়া ইউনিয়নের নাওড়া গ্রামে সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম ও সাবেক ইউপি সদস্য মোশারফ হোসেনের সমর্থকদের মধ্যে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

গুলিবিদ্ধরা হলেন, ৯ বছরের শিশু মো. আরিফ, মুক্তার হোসেন (৬০), মো. আকবর (২৪), তাজেল (৩৬), জয়নাল (৩৫), শামীম (২৫), নুর হোসেন (২৪) ও রোমান (২০)। তারা সবাই মোশারফ হোসেনের অনুসারী বলে জানা গেছে। এ ঘটনায় রফিকুলের কোনো অনুসারীর আহত হওয়ার খবর জানা যায়নি।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক বাচ্চু মিয়া জানান, আহত ব্যক্তিরা শর্টগানের ছোড়া ছররা গুলিতে আহত হয়েছেন। তারা সবাই আশঙ্কামুক্ত বলে জানিয়েছেন চিকিৎসক।

পুলিশ ও স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা বলেন, বিভিন্ন আবাসন কোম্পানির পক্ষে জমি বেচাকেনা ব্যবসা ও দখল নিয়ে রফিকুল ইসলাম ও তার ভাই নারায়ণগঞ্জ জেলা পরিষদের সাবেক সদস্য মিজানুর রহমানের সমর্থকদের সঙ্গে কায়েতপাড়া ইউনিয়নের সাবেক ইউপি সদস্য মোশারফ হোসেনের দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছে। পাশাপাশি বাড়ির বাসিন্দা এই দুই পক্ষের মধ্যে প্রায় সময়ই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এর জেরে গত রোববার রাতে রফিকুল ইসলামের অনুসারী নাওড়া এলাকার বাসিন্দা নাজমুল হোসেন নামে এক তরুণকে মোশারফের অনুসারীরা পিটিয়ে আহত করেন। এ ঘটনার জেরে সোমবার সকালে উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষের সময় উভয় পক্ষ দেশীয় ও আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করে। পরে রূপগঞ্জ থানা পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

এ বিষয়ে কথা বলতে মোশারফ হোসেনের মুঠোফোনে ফোন করা হলে তার নম্বরটি বন্ধ পাওয়া যায়। পরে তার ছেলে নিরব হোসেন অভিযোগ করে বলেন, রফিকুল ইসলামের লোকজন সোমবার সকালে বিনা উসকানিতে অস্ত্রসস্ত্র নিয়ে তাদের বাড়িঘর ঘেরাও করে হামলা চালান। এর প্রতিবাদ করতে গেলে তাদের লোকজনের ওপর শর্টগানের গুলি ছোড়া হয়। এতে তাদের কয়েকজন লোক গুলিবিদ্ধ হন। তবে রোববার রাতে নাজমুল নামের এক তরুণকে মারধর করার হামলার অভিযোগ অস্বীকার করেন নিরব।

বাড়িঘরে হামলার কথা অস্বীকার করেছেন মিজানুর রহমান। তার দাবি তিনি ঢাকায় আছেন। এমন কোনো সংঘর্ষের বিষয়ে তার জানা নেই।

মিজান বলেন, আমি শুনেছি নাজমুল নামের গ্রামের এক নিরীহ ছেলেকে গত রাতে মারধর করেন মোশারফ ও তার লোকজন। এতে গ্রামবাসী ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। সকালে গ্রামবাসীর ওপর আবারও মোশারফের লোকজন হামলা চালিয়েছেন বলে শুনেছি। হামলায় গ্রামের কয়েকজন আহত হয়েছেন।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (‘গ’ সার্কেল) আবির হোসেন বলেন, পুরোনো বিরোধ থেকে গতকাল রাতে দুই পক্ষের মধ্যে হাতাহাতি হয়। এর জেরে সকালে তারা সংঘর্ষে জড়ান। এ ঘটনায় আটজন আহত হয়ে ঢাকা মেডিকেলে ভর্তি আছেন বলে জেনেছি। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নাওড়া গ্রামে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। বেলা ৩টা পর্যন্ত এ ঘটনায় কোনো মামলা হয়নি। পুলিশ দোষীদের খুঁজে বের করার চেষ্টা করছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *