টাকার বিনিময়ে আর বিচার বিক্রি হবে না: শফিকুর রহমান
গরিব ও অসহায় মানুষ দেশে ন্যায় বিচার পায় না, বিচার ব্যবস্থা সব সময় প্রভাবশালীদের পক্ষে কাজ করে। টাকার বিনিময়ে আর বিচার বিক্রি হবে না বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) হবিগঞ্জ সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত নির্বাচনি জনসভায় তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, ‘আমরা ন্যায় বিচার কায়েম করতে চাই। একজন সাধারণ মানুষ যে অপরাধ করলে যে শাস্তি পায়, সেই একই আইনে যদি দেশের প্রধানমন্ত্রী বা রাষ্ট্রপতিও অপরাধ করেন, তাদেরও একই বিচার হতে হবে। টাকার বিনিময়ে আর বিচার বিক্রি হবে না।’
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, গত সাড়ে ১৫ বছরে বাংলাদেশ থেকে প্রায় ২৮ লাখ কোটি টাকা বিদেশে পাচার হয়েছে। এই অর্থ দেশের ১৮ কোটি মানুষের সম্পদ। রাস্তায় দাঁড়িয়ে আন্দোলনকারী একজন মানুষ কিংবা আজ যে শিশুটি জন্ম নিচ্ছে, সবারই এই টাকায় অংশ আছে। কিন্তু একটি গোষ্ঠী পরিকল্পিতভাবে এই টাকা বিদেশে পাচার করে দিয়েছে।
চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাস প্রসঙ্গে জামায়াত আমীর বলেন, আমরা ক্ষমতায় গেলে চাঁদাবাজি বন্ধ হবে। ব্যবসায়ীরা আর রাতের ঘুম হারাবে না। ফুটপাতের সাধারণ মানুষের চোখের পানি আর কেউ ফেলতে পারবে না। এমনকি ঢাকায় শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষকেও চাঁদা দিতে হয়, এই অবস্থা আর চলবে না।
নারী সম্মান ও ধর্মীয় মূল্যবোধ নিয়ে কঠোর ভাষায় তিনি বলেন, একটি গোষ্ঠী আমাদের মা-বোনদের ইজ্জত রক্ষা করতে দেয় না। তারা কীভাবে হিজাব খুলে দেওয়ার কথা বলে? তারা কি কোনো মায়ের গর্ভ থেকে জন্ম নেয়নি? আগে নিজের মা-বোনদের সম্মান করতে শিখুক। প্রয়োজনে আমরা জীবন দেব, তবুও মায়ের ইজ্জত কেড়ে নিতে দেওয়া হবে না। দেশের কোথাও যদি দুষ্কৃতকারীরা মাথাচাড়া দেয়, জনগণই তাদের উপযুক্ত শিক্ষা দেবে।
দুর্নীতিবিরোধী অবস্থান তুলে ধরে তিনি বলেন, আমাদের অঙ্গীকার স্পষ্ট। আমাদের দলের যারা নির্বাচিত হবেন, তারা প্রতি বছর নিজেদের এবং পরিবারের সদস্যদের আয়-ব্যয়ের হিসাব জনগণের সামনে প্রকাশ করবেন। জনপ্রতিনিধিরা জনগণের সম্পদে হাত দিয়েছেন কি না, তা জানার অধিকার জনগণের রয়েছে। এমপি-মন্ত্রীদের স্বল্পমূল্যের প্লট কিংবা শুল্কমুক্ত গাড়ি আমরা গ্রহণ করব না। সাধারণ মানুষ যেভাবে জীবনযাপন করে, আমরাও সেভাবেই চলব।
হবিগঞ্জ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমি শুনেছি হবিগঞ্জও সন্ত্রাসে আক্রান্ত। আপনারা যদি সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে চান, তাহলে ১২ তারিখ ন্যায় ও ইনসাফের পক্ষে ভোট দিন। যে এলাকা সবচেয়ে বেশি উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত হয়েছে, আল্লাহ তায়ালা আমাদের সুযোগ দিলে সেখান থেকেই উন্নয়নের ধারা শুরু করব।
যুবকদের উদ্দেশে জামায়াত আমীর বলেন, আমরা যুবকদের হাতে বেকার ভাতা তুলে দেব না। আমরা তাদের হাতে তুলে দেব মর্যাদার কাজ। গ্রামকে শিল্পে রূপান্তর করা হবে, গড়ে উঠবে কৃষিভিত্তিক শিল্প। শিক্ষিত যুবকরাই তাদের মেধা ও যোগ্যতা দিয়ে গ্রামের চেহারা বদলে দেবে। যুবকরা প্রস্তুত হও, আমরা এই বাংলাদেশ তোমাদের হাতেই তুলে দিতে চাই।







