শনিবার, ১৮ মে ২০২৪, ০৩:৫৪ পূর্বাহ্ন

করোনা নিয়ে উদাসীনতায় চাঁদপুরে বাড়ছে আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা

বর্তমানকণ্ঠ ডটকম / ৭৭ পাঠক
শনিবার, ১৮ মে ২০২৪, ০৩:৫৪ পূর্বাহ্ন

এ কে আজাদ, ব্যুরো প্রধান, বর্তমানকন্ঠ ডটকম, চাঁদপুর : চাঁদপুুর জেলায় করোনা ভাইরাস নিয়ে উদাসীনতা রয়েছে বেশীর ভাগ মানুষের মাঝে। এতে করে আশংঙ্কাজনক হারে বেড়েই চলছে আক্রান্তের সংখ্যা। সেই সাথে পাল্লা দিয়ে বৃদ্ধি পাচ্ছে করোনায় আক্রান্ত ও উপসর্গ নিয়ে মৃতের সংখ্যাও। প্রতিদিনই জেলার বিভিন্ন উপজেলায় করোনা উপসর্গ নিয়ে ঘটছে একাধিক মৃত্যুর ঘটনা। চিকিৎসকরা বলছেন, অধিকাংশ ক্ষেত্রেই রোগী বা তার আত্মীয়-স্বজনরা গোপন রাখছে করোনা উপসর্গের কথা। এতে করে চিকিৎসা করার সুযোগ কম পাচ্ছেন তারা। ফলে জেলায় বাড়ছে করোনা আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা। সবচেয়ে খারাপ অবস্থা চাঁদপুর পৌরসভাসহ সদর উপজেলার। এখানে এ পর্যন্ত আক্রান্তের সংখ্যা প্রায় ১৮১ জন। এপর্যন্ত জেলায় করোনায় মৃত্যু ৪৩এ’ পৌঁচেছে । আর করোনার উপসর্গে মৃতের সংখ্যা অনেক।

করোনা ভাইরাস নিয়ে চাঁদপুরের সাধারন মানুষের উদাসীনতা রয়েছে সেটার প্রমান হলো, পৌরসভার গুণরাজদি এলাকার আবদুর রশিদ সড়কে করোনা রোগীর সংখ্যা বেশি ও ইতিমধ্যেই ২জন মারা যাওয়ার ঘটনাও ঘটে সেই এলাকায়। জেলা করোনা প্রতিরোধ কমিটি ও মাননীয় শিক্ষামন্ত্রী মহোদয়ের পরামর্শে জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে প্রশাসনের নিজস্ব অর্থায়নে বাঁশ দিয়ে ঐ রাস্তার তিনটি প্রবেশ মুখ বন্ধ করে ব্যানার টনিয়ে দিয়ে লকডাউন করে দিয়ে আসা হয়।

সেখানে লক্ষ করা গেল মাত্র দুইদিন যেতে না যেতেই সকল বাশঁ উপড়ে ফেলে দুরে ফেলে দিয়ে সব রাস্তা পরিষ্কার করে দিয়েছে কে বা করা। এই হচ্ছে আমাদের করোনা দিয়ে সচেতনতা। কিন্তু আমরা অনেকেই আবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে প্রশাসন কি করছে শক্ত লকডাউন অথবা কারফিউ দেন, রেড জোন দেন ইত্যাদি ইত্যাদি লিখে দিচ্ছি।

রেড জোন , ইয়োলো জোন এবং গ্রীন জোন নিয়ে যে তথ্য রয়েছে ডিজি হেল্থ এর পরিপত্রে তা হলো ঢাকা শহরের বাইরে কোন এলাকায় গত ১৪ দিনে এক লক্ষ জনসংখ্যার মধ্যে যদি ১০ জন করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয় তবে সেটা হবে রেড জোন। যদি ৩-৯ জন আক্রান্ত হয় তবে সেটা হবে হলুদ জোন, আর ০-২ জন আক্রান্ত হলে সেটা হবে গ্রীন জোন। ডিজি হেল্থ এর সার্কুলার অনুযায়ী ১ লক্ষে যদি ১০ জনের অধিক আক্রান্ত হয় তবে সেটা হবে রেড জোন । যদি কোন ওয়ার্ডের লোক সংখ্যা ২০ হাজার হয় তবে সেখানে ২ জন আক্রান্ত হলে সেটাও হবে রেড জোন । অর্থাৎ প্রতি ১০ হাজারে একজন আক্রান্ত হলেই সেটাকে রেডজোন ঘোষণা করতে হবে।

চাঁদপুর পৌরসভায় লোকসংখ্যা প্রয় ১ লক্ষ পয়ষট্টি হাজার। এর মধ্যে কতজন আক্রান্ত হয়েছে ওয়ার্ড ভিত্তিক পরিসংখ্যান করে সেই ওয়ার্ড অথবা পুরো পৌরসভায় লোক সংখ্যা অনুযায়ী আক্রান্তের হিসাব করে লকডাউন দেয়ার দাবী পৌরসভার সচেতন নাগরিকদের।

ডিজি হেল্থ এর পরিপত্র অনুযায়ী আক্রান্তের সংখ্যা হিসেব করলে চাঁদপুরের অবস্থা কোন পর্যায়ে রয়েছে তা প্রশাসন অবশ্যই বিবেচনা করবেন। সনাক্ত অনুযায়ী পৌর এলাকারসহ চাঁদপুর জেলার কোন কোন এলাকা রেড জোনের মধ্যে রয়েছে তা নিরুপন করে জনগনকে অবহিত করে দেওয়া হউক। তা হলেই সাধারন মানুষ সেভাবেই সাবধানতা অবলম্বন করে চলাচল করবে।

চাঁদপুর জেলা সিভিল সার্জন ডা. মো. সাখাওয়াত উল্লাহ বলেন, বুধবার পর্যন্ত চাঁদপুর জেলায় করোনা আক্রান্ত হয়েছে ৫শ’ ৮জন। এদের মধ্যে করোনার উপসর্গে জেলায় ৯৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। এদের মধ্যে ৪জন করোনায় আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেন। মৃত্যুর পরে নমুনা সংগ্রহে ৩৭ জনের রিপোর্ট করোনা পজেটিভ এসেছে। বাকিদের রিপোর্ট করোনা নেগেটিভ এসেছে। বাকি ১৩ জনের রিপোর্ট এখনো পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। জেলায় করোনা আক্রান্ত হওয়ার পরে সুস্থ্য হয়েছেন প্রায় দেড় শতাধীক।

তিনি বলেন, পরিবারের অসেচতনতা ও গোপনীয়তার কারণেই মূলত চাঁদপুরে করোনার উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুর ঘটনা বৃদ্ধি পাচ্ছে। বিষয়টি গোপন না রেখে চিকিৎসকের স্মরণাপন্ন হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন স্বাস্থ্য বিভাগের এই কর্মকর্তা।

চাঁদপুর জেলা সিভিল সার্জন সূত্রে জানা যায়, বুধবার পর্যন্ত জেলায় মোট করোনা আক্রান্ত হয়েছে ৫০৮জন। এর মধ্যে চাঁদপুর সদরে ১৮১জন, মতলব উত্তরে ২৭জন, ফরিদগঞ্জে ৬১জন, হাইমচরে ৩৩জন, হাজীগঞ্জে ৫৯জন, কচুয়া ২৮জন, শাহরাস্তি ৬৩জন, মতলব দক্ষিন উপজেলায় ৫৬জন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *