মঙ্গলবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৪, ০২:৩২ অপরাহ্ন

খাদ্য অধিকার বাংলাদেশ এর চট্টগ্রাম বিভাগীয় প্রতিনিধি সভা

বর্তমানকণ্ঠ ডটকম / ৪৭ পাঠক
মঙ্গলবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৪, ০২:৩২ অপরাহ্ন
কৃষকদের উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করা ছাড়া খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত ও খাদ্য সংকট দূর করা সম্ভব হবে না

নিজস্ব প্রতিনিধি, বর্তমানকন্ঠ ডটকম, চট্রগ্রাম : সরকার খাদ্য উৎপাদনে সফলতা দাবি করলেও প্রতি বছর কৃষক কোন না কোন কৃষি পণ্যের ন্যায্য মূল্য পায় না, যার কারনে কৃষকরা রাস্তায় আলু, টমেটো, পেঁয়াজ, ধান, দুধ ফেলে প্রতিবাদ জানায়। আর ঐ বছর এ শস্য উৎপাদনে কৃষক আগ্রহ হারায়। ফলশ্রুতিতে খাদ্য সংকট তৈরী হয়। আর দেশ খাদ্য আমদানি নির্ভর হয়ে যান। এ সুযোগে কিছু খাদ্য ব্যবসায়ী বিদেশ থেকে খাদ্য-শস্য আমদানিতে জঠিলতা তৈরী করে কৃত্রিম সংকট তৈরী করে জনগনের পকেট কাটে। সরকার খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিভিন্ন সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর উদ্যোগ নিলেও প্রকৃত উপকারভোগীদের কাছে এ সহায়তা পৌঁছে না। জেলা-উপজেলা পর্যায়ে অপ্রতুল ও মানসম্মত শিক্ষা, স্বাস্থ্য সেবা না থাকায় সবাই ঢাকা মুখী। অন্যদিকে ছোট উৎপাদক, নারী ও যুব উদ্যোক্তাদের স্বল্প ব্যয়ের পুঁজি এবং আর্থিক প্রণোদনাসহ নীতি থাকায় তৃণমূলে অর্থনৈতিক প্রাণ চাঞ্চল্যে গড়ি বাড়ছে না। সেকারনে পরিকল্পনা কমিশনের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের প্রাক্কলন অনুযায়ী ২০১৮ সালে দেশের মোট জনসংখ্যা ১৬ কোটি ৩৬ লক্ষ। দারিদ্রের হার ২১.৮% বা ৩ কোটি ৫৫ লক্ষ। যার মধ্যে অতি দরিদ্রের হার ১১.১৩% বা প্রায় ২ কোটি। উল্লেখ্য যে, ক্রমাগতভাবে দারিদ্র্যের হার কমা স্বত্ত্বেও অতি দরিদ্র মানুষের সংখ্যা তেমনভাবে কমছে না। বিবিএস-এর জরিপ অনুযায়ী দেশে বর্তমানে বেকারের সংখ্যা ২৬ লক্ষ ৭৭ হাজার, যাদের মধ্যে ৭৪ শতাংশই যুব। আইএলও-এর বক্তব্য অনুযায়ী এ সংখ্যা প্রায় ৬৬ লক্ষ। এই বিপুল সংখ্যক বেকারের কর্মসংস্থান তৈরী না হলে এরা মানব সম্পদ না হয়ে বোঝা হবে। দৈনিক ২১২২ ক্যালরী খাবার কিনতে অক্ষম তারাই দরিদ্র। টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য ২০৩০(এসডিজি)র উন্নয়ন কাঠামোর অন্যতম লক্ষ্য হলো ২০৩০ সালের মধ্যে সব ধরনের দারিদ্রের অবসান এবং আগামী ১৫ বছরের মধ্যে ক্ষুদামুক্তির অঙ্গিকার। তাই এসডিজির মুল লক্ষ্য অনুযায়ী দেশে সবার খাদ্য নিশ্চিত করতে দ্রুত খাদ্য অধিকার আইন প্রণয়ন যেমন জরুরী, তেমনি কৃষকের উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্য মূল্য প্রাপ্তি নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।

১৭ সেপ্টেম্বর ’১৯ নগরীর ব্র্যাক লানিং সেন্টারে খাদ্য অধিকার বাংলাদেশ এর চট্টগ্রাম বিভাগীয় প্রতিনিধি সভায় উপরোক্ত মত প্রকাশ করা হয়। খাদ্য অধিকার বাংলাদেশ কেন্দ্রিয় পর্ষদের সদস্য এস এম নাজের হোসাইনের সভাপতিত্বে সভায় মুখ্য আলোচক ছিলেন খাদ্য অধিকার বাংলাদেশ’র সাধারন সম্পাদক মহসিন আলী। বিশেষ অতিথি ছিলেন চিটাগাং ভেটেরিনারী অ্যান্ড অ্যানিমেল সাইন্স ইউনিভার্সিটির খাদ্য বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ফ্যাকাল্টির ডীন প্রফেসর ডঃ জান্নতারা খাতুন, সরকারী মহসিন কলেজের অধ্যাপক ইদ্রিস আলী, সিভয়েস২৪ডটকমের সম্পাদক এম নাসিরুল হক। খাদ্য অধিকার বাংলাদেশ চট্টগ্রামের সাধারন সম্পাদক কাজী ইকবাল বাহার ছাবেরীর সঞ্চালনায় আলোচনায় অংশনেন চিটাগাং ভেটেরিনারী অ্যান্ড অ্যানিমেল সাইন্স ইউনিভার্সিটির এপ্লাইড ফুড সাইন্স অ্যান্ড ন্উিট্রিশনের প্রধান অধ্যাপক আলতাফ হোসেন, খাদ্য অধিকার বাংলাদেশের চট্টগ্রাম জেলা কমিটির আলহাজ্ব আবদুল মান্নান, লিটন চৌধুরী, সায়েরা বেগম, নুরুল হক, সেলিম সাজ্জাদ, কুমিল্লার কোষাধ্যক্ষ নাজনীন আক্তার, বিবাড়ীয়া জেলা কমিটির সাধারন সম্পাদক এস এম শফিকুল ইসলাম, চাঁদপুরের মোহাম্মদ সাদেক সফিউল্লাহ, রাঙ্গামাটির শিমুল চাকমা, ফেনীর এ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর আলম নান্টু, লক্ষ্নীপুরের শাহজাহান কামাল, ককসবাজারের অধ্যাপক আনোয়ারুল হক, বান্দাবানের সুমিত তাংচাঙ্গিয়া প্রমুখ।

বক্তারা আরও বলেন দেশে আয় ও সম্পদের বৈষম্যের ব্যাপকতা ক্রমেই বেড়েই চলেছে। ধনী পরিবারের আয় বৃদ্ধির কারণে শীর্ষ ১০ ভাগ মানুষ দেশের ৩৮ শতাংশ সম্পদের মালিক। অপরদিকে, নি¤েœ অবস্থানকারী ১০ শতাংশ অতি দরিদ্র জনগোষ্ঠী দেশের মাত্র ১ শতাংশ সম্পদের মালিক। ২০১২ সাল থেকে বিগত ৫ বছরে দেশে ধনীর সংখ্যা বেড়েছে গড়ে ১৭% হারে। এ হার যুক্তরাষ্ট্র, চীন, জাপান, ভারতসহ ৭৫টি বড় অর্থনীতির দেশের চেয়ে বেশি।

বক্তাগন বলেন বর্তমান সরকার ও বিভিন্ন জাতীয়-আর্ন্তজাতিক উন্নয়ন সংস্থার উদ্যোগের কারনে দেশে খাদ্য নিরাপত্তায় ব্যাপক অগ্রগতি সাধিত হলেও নিরাপদ খাদ্যের বেলায় মারাত্মক হুমকিতে আছে। খাদ্য উৎপাদন ও বিপনণে বহুজাতিক কোম্পানী গুলির ক্রমাগত একছত্র আধিপত্য সবার জন্য খাদ্য নিরাপত্তাকে হুমকির মুখে ফেলে দিয়েছে। আর সে কারনে বিগত বিশ বছরে দেশে খাদ্যের মুল্য বৃদ্ধি পেয়েছে দ্বিগুনেরও অনেক বেশী, মোটা চালের দাম বিগত ০১ বছরে দ্বিগুনেরও বেশী বৃদ্ধি পেয়েছে। অথচ মার্কিন যুক্তরাস্ট্রের মতো উন্নত দেশগুলিতে খাদ্যের মূল্য সেভাবে বাড়েনি। অন্যদিকে প্রকৃত কৃষক তার উৎপাদিত খাদ্য পণ্যের ন্যায্য মুল্য পাচ্ছে না, যা মধ্যস্বত্বভোগী ও ফাড়িয়ারা এবং খাদ্য ব্যবসবায়ীরাই সিংহভাগ হাতিয়ে নিচ্ছেন। ফলে দেশীয় কৃষক প্রতিবছরই লোকসান গুনতে বাধ্য হচ্ছেন। সেকারনেই সবার জন্য খাদ্য অধিকার আইন প্রণয়ন ও নিরাপদ খাদ্যের নিশ্চয়তা প্রদানে রাস্ট্রকে বাধ্য করতে ব্যাপক সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলার বিকল্প নাই বলে মত প্রকাশ করেন। প্রতিনিধি সভায় চট্টগ্রাম বিভাগের বিভিন্ন জেলার ৩২ জন অংশগ্রহনকারী অংশনেন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *