বৃহস্পতিবার, ২২ ফেব্রুয়ারী ২০২৪, ০২:৫৩ পূর্বাহ্ন

চাঁদপুর : করোনা প্রতিরোধে নিরন্তন ছুটে চলা মানবিক ইউএনও কানিজ ফাতেমা

বর্তমানকণ্ঠ ডটকম / ৩৯ পাঠক
বৃহস্পতিবার, ২২ ফেব্রুয়ারী ২০২৪, ০২:৫৩ পূর্বাহ্ন

এ কে আজাদ, ব্যুরো প্রধান, বর্তমানকন্ঠ ডটকম, চাঁদপুর : বৈশ্বিক মহামারি করোনা আমাদের দেশে সংক্রমণ ছড়াতে শুরু করেছে। এই মহামারি থেকে দেশের মানুষকে বাঁচাতে বর্তমান সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ হাতে নিয়েছে। সরকারের নির্দেশনা বাস্তবায়নে একটি পৌরসভাসহ ১৪টি ইউনিয়ন দিন রাত চষে বেড়াচ্ছেন চাঁদপুর সদর ইউএনও কানিজ ফাতেমা। যদিও তার একজন সহকর্মী ইতিমধ্যে করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। তার পরও বিরামহীন ছুটে চলেছেন তিনি।

সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত ছুটে যাচ্ছেন উপজেলার এক প্রান্ত থেকে আরেক প্রান্তে। জনগণকে সচেতন করা, সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করা, হোম কোয়ারেন্টাইন নিশ্চিত করা, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখার পাশাপাশি নিন্ম আয়ের মানুষের খোঁজ-খবর নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর উপহার খদ্য সামগ্রী তার বাড়ী পৌঁছে দেয়ার মত কাজটি করে চলেছেন প্রতিনিয়ত এই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কানিজ ফাতেমা ।

এছাড়া এই দুঃসময়ে য়ে নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নিজ কর্মস্থলে অসংখ্য গরিব দুঃখী ও অসহায় মানুষকে নিজের ব্যাক্তিগত অর্থ দিয়ে তাদের কষ্ট লাঘবে পাঁশে দাঁড়িয়েছেন। এরই মধ্যে তাঁর এসব কর্মকান্ডের কারণে মানবিক একজন ইউএনও হিসেবে কানিজ ফাতেমাকে সাধারণ মানুষ মনে করছেন।

তাঁর কর্মকান্ড প্রশংসনীয় এবং দৃশ্যমান। জানা গেছে, করোনা ভাইরাস সংক্রমণ প্রতিরোধে জনগণকে সচেতন এবং হোম কোয়ারেন্টাইন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সকাল থেকে রাত পর্যন্ত উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়নের বিভিন্নস্থানে ছুটে চলছেন তিনি। কোথাও কোন রকম আইনের ব্যত্যয় ঘটলে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে আইন অমাণ্যকারীদের বিরুদ্ধে জরিমানাও করছেন তিনি।

অপর দিকে করোনাভাইরাসকে পুঁজি করে অসাধু ব্যাবসায়ীরা দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি করে দিয়েছেন। এ জন্য উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলে বাজার নজরদারি করে জরিমানাও করেছে অসাধু দোকানীদের বিরুদ্ধে। করোনা মহামারির শুরু থেকেইে রাস্তায় রাস্তায় ঘুরে সাধারন মানুষকে সচেতন করতে বিতরণ করছেন লিফলেট, মাস্ক. স্যানিটাইজার, সাবান।

লকডাউনে বিপাকে পড়া নিম্ন আয়ের মানুষের কথা চিন্তা করে তাদের পাশে গিয়ে দাঁড়িয়েছেন। তাদের জন্য প্রধানমন্ত্রীর উপহার খাদ্য সামগ্রীর পাশা-পাশী নিজের ব্যক্তিগত উদ্যোগে সহযোগীতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন তিনি। নিজ হাতে অসহায়দের মাঝে তুলে দিয়েছে নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্য সামগ্রী।

ইউএনও কানিজ ফাতেমা বলেন, ছাত্রজীবন থেকে মানব সেবার প্রতি দুর্বলতা ছিল আমার। প্রশাসনিক ক্যাডারে চাকরি করে নিজ দায়িত্ব থেকে মানবসেবা করার আরো বেশি সুযোগ পেয়ে যাই। যতটুকু পেরেছি নিজ থেকেই অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছি।

কানিজ ফাতেমা আরো বলেন, বৈশ্বিক মহামারি করোনা ভাইরাসের প্রভাব আমাদের দেশে যখন শুরু হয়, এর রোধ কল্পে সরকার লকডাউন ঘোষণা করেন। এর পাশা-পাশী দরিদ্র বা দিনমজুর পরিবার গুলো যেন না খেয়ে থাকে সেই দিকে আমাদেরকে নজর দেয়ার নির্দেশনা প্রদান করা হয়।

যেহেতু আমাদের খাদ্য সামগ্রী পর্যাপ্ত মজুদ রয়েছে তাই সরকারের নির্দেশে প্রথমেই আমি সদর উপজেলায় যে সকল গুচ্ছগ্রাম, আশ্রয়ন প্রকল্প, বস্তি এলাকা এবং পরিচ্ছন্নতায় নিয়োজিত হরিজন কলোনি গুলো রয়েছে সেই দিকে নজর দেই। তারা যেন কোনভাবেই আহারের জন্য কষ্ট না পায়, প্রথমেই আমি তাদের ঘরে ঘরে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর খাদ্য সহায়তা পৌঁছে দিয়ে আসছি। যাতে করে তারা যেন ঘর থেকে বের হয়ে সামাজিক দূরত্ব ভঙ্গ করতে না পারে।

অভাবের জন্য অনেক দিন মজুরকে রাস্তায় বের হতে হয় । আমাদের স্থানীয় সংসদ সদস্য মাননীয় শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি এমপি মহদয়ের সহযোগিতায়, জেলা প্রশাসক মাজেদুর রহমান খান স্যারের নির্দেশে প্রত্যেকটি অভাবী মানুষের দোড়গোড়ায় প্রধানমন্ত্রীর উপহার খাদ্য সামগ্রী পৌচ্ছে দিচ্ছি আমরা। অপরদিকে প্রতিটা ইউনিয়নে সঠিক ও সুন্দর ভাবে সরকারের নির্দেশনা গুলো বাস্তবায়ন হচ্ছে কিনা সেদিকেও নজর রাখতে হচ্ছে।

তিনি জানান, এমন কিছু মধ্যবিত্ত পরিবার ফোনে তাদের অসহায়েত্বের কথা বলেন। কি করবো বাধ্য হয়ে নিজ থেকে সামর্থ অনুযায়ী তাদের সস্মান রক্ষার্থে বিকাশের মাধ্যমে অর্থ পাঠাতে হয়।

সর্বপরি একান্ত অত্যাবশকীয় না হলে ঘর থেকে বের হবেননা। আমাদেরকে সহযোগিতা করুন দয়া করে ঘরে থাকুন সুস্থ্য থাকুন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *