বৃহস্পতিবার, ৩০ মে ২০২৪, ০২:০৫ পূর্বাহ্ন

‘মেয়াদোত্তীর্ণ বাস ও বেপরোয়া গতিই এক্সপ্রেসওয়ে দুর্ঘটনার কারণ’

নিউজ ডেস্ক | বর্তমানকণ্ঠ ডটকম- / ৪৩ পাঠক
বৃহস্পতিবার, ৩০ মে ২০২৪, ০২:০৫ পূর্বাহ্ন

মেয়াদোত্তীর্ণ বাস, মধ্যম যানের লাইসেন্সে ভারী যান চালানো এবং বেপরোয়া গতি- এই তিনটি বিষয়ই ছিল মাদারীপুরের শিবচরে পদ্মা সেতুর এক্সপ্রেসওয়েতে ভয়াবহ দুর্ঘটনার মূল কারণ। দুর্ঘটনার পর জেলা প্রশাসনের গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইমাদ পরিবহনের যে বাসটি দুর্ঘটনার শিকার হয়, সেই বাসটি ছিল মেয়াদোত্তীর্ণ। এ ছাড়া চালকের মধ্যম যান চালানো লাইসেন্স থাকলেও তিনি বৃষ্টিভেজা সড়কে বেপরোয়া গতিতে বাসটি চালিয়েছেন।

বুধবার দুপুর ১২টায় তদন্ত কমিটির প্রধান ও মাদারীপুরের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট পল্লব কুমার হাজরা এ তথ্য তুলে ধরেন। এ সময় এক্সপ্রেসওয়েটিতে দুর্ঘটনা রোধে ১৪টি সুপারিশ তুলে ধরা হয়।

পল্লব কুমার হাজরা বলেন, ‘বেপরোয়া গতির কারণে গেল বছরের ১৭ নভেম্বর ইমাদ পরিবহনের দুর্ঘটনাকবলিত বাসটির রেজিস্ট্রেশন স্থগিত করে গোপালগঞ্জ বিআরটিএ অফিস। পরিবহনটি মেয়াদোত্তীর্ণ হয় এ বছরের ১৮ জানুয়ারি। এর পরেও সদর্পে চলছিল সেটি। যে কারণে গেল ১৯ মার্চ সকাল ৮টায় মাদারীপুরের কুতুবপুরে এক্সপ্রেসওয়েতে ঘটে মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনা। এ ছাড়া মধ্যম যান চালানোর লাইসেন্সে ভারী যান চালিয়েছেন চালক। শুধু তাই নয়, ঘটনার দিন বৃষ্টিভেজা রাস্তায় চালকের অসচেতনাতাও দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ।’

তদন্ত কমিটির প্রধান বলেন, ‘সড়কে মৃত্যুর মিছিল কমাতে তদন্ত প্রতিবেদনে ১৪টি সুপারিশ করা হয়েছে। তার মধ্যে রয়েছে, চালক ও সংশ্লিষ্টদের লাইসেন্স এবং একটি গাড়ির সব বৈধ কাগজপত্র নিশ্চিত করে মহাসড়কে গাড়ি চালানো নিশ্চিত করতে হবে, এক্সপ্রেসওয়েতে চলাচলকারী দ্রুতগতিসম্পন্ন গাড়ির চালক ও যাত্রীদের সিটবেল্ট পরিধান করতে হবে, গাড়ির ইন্টেরিয়র (ভেতরের অংশ) নরম বস্তু দিয়ে করা এবং এক্সপ্রেসওয়ের উভয় পাশে গার্ড রেইল স্থাপন করা।

সুপারিশে আরও বলা হয়, এই রাস্তায় কমপক্ষে তিন লেন ব্যবস্থা রাখা জরুরি। এ ছাড়া মহাসড়কে চলাচলকারী সব পরিবহনের হালনাগাদ তথ্য সংবলিত ডেটাবেজ রাখা।’

তদন্ত কমিটির আরেক সদস্য ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ট্রাফিক) মনিরুজ্জামান ফকির বলেন, ‘এক্সপ্রেসওয়েতে চলাচলকারী গাড়ির গতিসীমা নিয়ন্ত্রণে আইনপ্রয়োগকারী সংস্থার কার্যক্রম বৃদ্ধির জন্য লোকবল ও টহল গাড়িতে আধুনিক যন্ত্রপাতি নিশ্চিত করতে হবে। দিনের নির্দিষ্ট সময়ে বিশেষ করে রাত, ভোর ও দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ায় গাড়ির গতি অপেক্ষাকৃত কম রাখতে হবে। দুর্ঘটনা কমাতে সড়ক ও মহাসড়কের সিসিটিভি, ট্র্যাকার ও অনলাইন মনিটরিং জোরদার করতে হবে।’

গত ১৯ মার্চ ভোরে খুলনা থেকে ইমাদ পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাস ঢাকার উদ্দেশে ছেড়ে আসে। বাসটি গোপালগঞ্জের ঘোনাপাড়া থেকে ১৫ জন যাত্রী নেয়। পদ্মা সেতুর আগে ঢাকা-খুলনা এক্সপ্রেসওয়ের মাদারীপুরের শিবচরের কুতুবপুর এলাকায় পৌঁছালে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বাসটি নিচে পড়ে যায়। এক্সপ্রেস হাইওয়ের নিচের আন্ডারপাসের গাইডওয়ালের সঙ্গে ধাক্কা লেগে দুমড়ে-মুচড়ে যায় গাড়িটি। এতে ঘটনাস্থলেই ১৪ জন নিহত হন। ওই সময় অন্তত ২৫ জনকে আহতাবস্থায় উদ্ধার করে শিবচর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, পাচ্চর রয়েল হাসপাতালসহ বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। হাসপাতালে নেয়ার পর আরও তিনজনের মৃত্যু হয়।

এ ছাড়া আহতদের মধ্যে কয়েকজনকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আনার পর দুইজন মারা যান। সব মিলিয়ে ভয়াবহ এ দুর্ঘটনা ১৯ জনের মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় শিবচর হাইওয়ে থানার সার্জেন্ট জয়ন্ত সরকার বাদী হয়ে ইমাদ পরিবহন লিমিটেডের মালিক ও সংশ্লিষ্ট সবার নামে একটি মামলা করেন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *