বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১১:১৭ অপরাহ্ন

জাতিসংঘের অফিসিয়াল ভাষা হিসেবে বাংলার স্বীকৃতি আদায়ে কাজ করতে হবে: প্রধানমন্ত্রী

ডেস্ক রিপোর্ট | বর্তমানকণ্ঠ ডটকম: / ২৯ পাঠক
প্রকাশকাল বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬

বাংলাকে জাতিসংঘের অফিশিয়াল ভাষা হিসেবে স্বীকৃত আদায়ে কাজ শুরু করা প্রয়োজন বলে উল্লেখ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, বর্তমান গ্লোবাল ভিলেজে এই সময় মাতৃভাষা ছাড়াও আরো একাধিক ভাষার সঙ্গে পরিচিত হওয়া অত্যন্ত জরুরি। প্রতিযোগিতামূলক বিশ্বে সমৃদ্ধি এবং সম্মানের সঙ্গে টিকে থাকতে হলে জ্ঞান এবং মেধাভিত্তিক রাষ্ট্র ও সমাজ প্রতিষ্ঠার মনে হয় বিকল্প নেই। এজন্য আমাদেরকে জ্ঞানে বিজ্ঞানে প্রযুক্তিতে মেধায় নিজেদেরকে সমৃদ্ধ করে সমৃদ্ধ হওয়া প্রয়োজন। একই সঙ্গে বাংলা ভাষাকে জাতিসংঘের অফিশিয়াল ভাষা হিসেবে স্বীকৃত আদায়ের জন্য আমাদের মনে হয় কাজ শুরু করা প্রয়োজন।
বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) বাংলা একাডেমি ও সোহরাওয়ার্দী উদ্যান প্রাঙ্গণে ঐতিহ্যবাহী অমর একুশে বইমেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন।

এর আগে প্রধানমন্ত্রী অমর একুশে ফেব্রুয়ারি বইমেলার পরিবর্তে অমর একুশে আন্তর্জাতিক বইমেলা আয়োজনে আয়োজকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, মাতৃভাষার মর্যাদা প্রতিষ্ঠায় ৫২-এর ভাষা আন্দোলনে শহিদদের স্মরণে আমরা প্রতিবছর ২১ পালন করে থাকি। দিবসটি এখন শুধু আর বাংলাদেশের নয়। অমর ২১শে এখন আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে সারা বিশ্বেই পালিত হচ্ছে। ৫২-এর ভাষা আন্দোলনে শহিদের আকাঙ্ক্ষাকে ধারণ করে আজকের এই বাংলা একাডেমি। বাংলা একাডেমির সৃজনশীল কার্যক্রমের অন্যতম একটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ অমর ২১শে বইমেলা। তবে সময়ের পরিপ্রেক্ষিতে আগামী বছরগুলোতে অমর ২১শে বইমেলা; অমর ২১শে আন্তর্জাতিক বইমেলা হিসেবে আয়োজন করার সুযোগ রয়েছে কি-না; সেটি আমি আপনাদের সবাইকে ভেবে দেখার অনুরোধ জানাব। অমর একুশে আন্তর্জাতিক বইমেলা অনুষ্ঠিত হলে বিশ্ব সাহিত্যের সঙ্গে পরিচিত হওয়ার পাশাপাশি বহু ভাষা এবং সংস্কৃতি শেখা জানা এবং বোঝার দিকে আমাদের নাগরিকদের আগ্রহী করে তুলতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।

তারেক রহমান বলেন, ফ্যাসিবাদ মুক্ত বাংলাদেশের জনগণের সরাসরি ভোটে নির্বাচিত হয়ে বাংলাদেশে একটি গণতান্ত্রিক সরকার তার যাত্রা শুরু করেছে। জনগণের প্রতি জবাবদিহিমূলক সরকার দেশটাকে জ্ঞানের আলোয়ে আলোকিত করতে চায়। অমর একুশে বইমেলা কেবল বই বেচা-কেনার মেলা নয় বরং এই মেলা হয়ে উঠুক শিক্ষা এবং সংস্কৃতি বিকাশের সুতিকাগার। অমর ২১শে বইমেলা কেন্দ্র করে বাংলা একাডেমি মাসব্যাপী আলোচনা অনুষ্ঠান সাংস্কৃতিক পরিবেষণা এবং বিশেষ করে শিশু কিশোরদের চিত্রাঙ্কন সংগীত ও আবৃত্তি প্রতিযোগিতা যে আয়োজন করে; এসব উদ্যোগ নতুন প্রজন্মের সামনে তাদের সুপ্ত প্রতিভা বিকাশের সুযোগ তৈরি করে দেয়। এভাবেই বইমেলা হয়ে উঠুক আমাদের সকলের মিলন মেলা, প্রাণের মেলা।

দেশজুড়ে বইমেলা আয়োজনের আহ্বান জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, বইমেলা শুধু একটি নির্দিষ্ট মাসে বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণ ও সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সীমাবদ্ধ না রেখে বরং সারা বছর দেশের সব বিভাগ জেলা ও উপজেলায় আয়োজিত করা যেতে পারে এ ব্যাপারে বই প্রকাশকগণ উদ্যোগী হয়ে ভূমিকা রাখতে পারেন, বলে আমি মনে করি এবং সরকারের পক্ষ থেকে যদি সহযোগিতার কোন অবকাশ থাকে অবশ্যই বর্তমান সরকার সেখানে এগিয়ে আসবে। একই সাথে এ ব্যাপারে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় আপনাদেরকে নিশ্চয়ই প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দিতে প্রস্তুত রয়েছেন।

তিনি বলেন, আমরা বলি সবার আগে বাংলাদেশ। এই দেশকে সকল প্রকার অন্ধকার ও পশ্চাৎ পদতা থেকে মুক্ত করে দল-মত-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকলের জন্য একটি নিরাপদ মানবিক গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ে তুলতে আমি আপনাদের সকলের আন্তরিক সহযোগিতা কামনা করছি।

এ সময় বাংলা একাডেমির সভাপতি অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হকের সভাপতিত্বে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী, বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক অধ্যাপক মোহাম্মদ আজম, বাংলাদেশ পুস্তক প্রকাশক ও বিক্রেতা সমিতির সভাপতি মো. রেজাউল করিম বাদশা এবং সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মফিদুর রহমান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।


এই ক্যাটাগরির আরো খবর
এক ক্লিকে বিভাগের খবর