1. azadkalam884@gmail.com : A K Azad : A K Azad
  2. bartamankantho@gmail.com : বর্তমানকণ্ঠ ডটকম : বর্তমানকণ্ঠ ডটকম
  3. cmisagor@gmail.com : বর্তমানকণ্ঠ ডটকম : বর্তমানকণ্ঠ ডটকম
  4. hasantamim2020@gmail.com : হাসান তামিম : হাসান তামিম
  5. khandakarshahin@gmail.com : Khandaker Shahin : Khandaker Shahin
শুক্রবার, ২৮ জানুয়ারী ২০২২, ০২:২১ পূর্বাহ্ন




নভেল করোনাভাইরাস এবং আজকের আমেরিকা, কে দায়ী?

বর্তমানকণ্ঠ ডটকম
  • প্রকাশিত : বুধবার, ৮ এপ্রিল, ২০২০

হাকিকুল ইসলাম খোকন, বর্তমানকন্ঠ ডটকম, যুক্তরাষ্ট্র : নভেল করোনা ভাইরাস ‘কোভিড-১৯’কে প্রথমদিকে এটি’কে ভাইরাসই বলতে রাজি হননি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বলেছিলেন-এটি একটি ‘ফ্লু’ মাত্র। পরে তিনি ভাইরাসটিকে ‘চীনা ভাইরাস’ বলে উপহাসও করেছিলেন। তিনি স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের কোনো পরামর্শকেই গুরুত্ব দেননি। আজ তারই মুখে শোনা যাচ্ছে ভিন্ন কথা। বলছেন-‘চলতি ও আগামী সপ্তাহ কঠিন সময়। অনেক মানুষ মারা যাবে’।

গত ২৪ ঘণ্টায় নিউইয়র্কে আরও পাঁচ ও নিউ জার্সিতে দুই জন বাংলাদেশি মারা গেছেন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে। এ নিয়ে গত ১৬ দিনে নিউইয়র্কে ৫৮, নিউ জার্সিতে ৭ এবং মিশিগানে ৫ জনসহ সর্ব সাকুল্যে ৭০/৮০ জন বাংলাদেশী মারা গেলেন।

আমেরিকায় এভাবে ছড়িয়ে পড়ার কারণ হিসেবে নিউজার্সি বসবাসরত মোঃ নাছির মনে করেন আমেরিকায় আগে থেকে যথেষ্ট সময় থাকা স্বত্তেও ‘কোভিড-১৯’বিষয়ে কোনো সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। বিমানবন্দরে কোনো স্ক্রিনিংয়ের ব্যবস্থা ছিলোনা।
চীনে নভেল করোনা ভাইরাস শনাক্তের পর নিউইয়র্কের জেএফকে ও লস এঞ্জেলেসের বিমানবন্দর দিয়ে ৪ লাখ ৩২ হাজার চীনা নাগরিক আমেরিকায় এসেছেন। এখন নিউজার্সী এবং নিউইয়র্কে প্রতি মুহূর্তে পরিস্থিতির অবনতি ঘটছে। আক্রান্ত ও মারা যাওয়ার সংখ্যা বাড়ছে।এই বিপর্যয়ের কারণ বিষয়ে আমি মনে করি এক কথায় এর উত্তর হলো, ট্রাম্পের নেতৃত্বের ব্যর্থতা। প্রথমে ট্রাম্প গুরুত্বই দেয়নি। তারপর মহামারি আকারে ছড়িয়ে পড়ার পর বলেছেন, এটা ফেডারেল সরকারের দায়িত্ব নয়। সব দায়ীত্ব রাজ্য সরকারের। ট্রাম্পের এই দাবি সম্পূর্ণ অসত্য। ছয় সপ্তাহের গাফিলতি, অবহেলায় আমেরিকার আজকের এই করুণ অবস্থা। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের গোয়ার্তুমি অবহেলার মূল্য দিতে হচ্ছে আমেরিকার জনগণকে। এর মধ্যে নিউইয়র্কের অবস্থা সবচেয়ে খারাপ।

যুক্তরাষ্ট্রে করোনা আক্রান্ত রোগী প্রথম শনাক্ত হয় ২০ জানুয়ারি। দক্ষিণ কোরিয়াতেও একই দিন প্রথম শনাক্ত হয়েছিল। দক্ষিণ কোরিয়া অবহেলা না করে বহুমুখী ব্যবস্থা নিয়ে যখন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসছিল, ট্রাম্প তখন বলেছিলেন-এটা সাধারণ বিষয়। দুই সপ্তাহে কয়েকজন মারা গেছে। আগামী সপ্তাহে পরিস্থিতি সম্পূর্ণ স্বাভাবিক হয়ে যাবে।আর কেউ মারা যাবে না। এভাবে ছয় সপ্তাহ সময় নষ্ট করা হয় কোন ধরণের প্রস্তুতি না নিয়ে। এমনকি মহামারী আকার ধারণ করার পরও ট্রাম্প প্রশাসন কোনো উদ্যোগ নেয়নি।কেন আমেরিকায় কোভিড-১৯’ এতটা ভয়ঙ্কর রূপ ধারণ করলো? আমি মনে করি ট্রাম্প ও হোয়াইট হাউস একে ছোট করে দেখেছে। এ বিষয়ে আগে থেকে যে সব সতর্কবাণী ছিল তা অবহেলা করেছে। এমনকি গোয়েন্দা রিপোর্ট ছিলো জানুয়ারী ও ফেব্রুয়ারী’তে।তাও বিবেচনায় নেয়া হয়নি। ট্রাম্প রাজনৈতিক বিবেচনার কারণে সংকটকে ছোট করে দেখিয়েছেন বলেও মন্তব্য করেন-নিউজার্সিতে বসবাসরত বিশিষ্ট বিশ্লেষক মো: নাসির। তিনি আরও বলেন-আমি মনে করি করোনা ভাইরাসের মাত্রা বিষয়ে প্রথমে ধারণার ভুল ছিলো। সম্ভবত চীনের উহানের মাত্রা যা বলা হয়েছিল-তা বিশ্বাস করেছিলো ট্রাম্প প্রশাসন। পরে বোঝা গেছে চীনের সেই সব তথ্য সঠিক ছিলো না। ততক্ষণে অনেক দেরী হয়ে গেছে। ফেডারেল ও রাজ্য সরকারের মধ্যে সমন্বয়ের অভাব প্রকট। করোনা ভাইরাসকে কেন্দ্র করে এক কথায় যেভাবেই হোক সময়ের যথেষ্ট অপচয় হয়েছে। যখন প্রস্ততি নেওয়া দরকার ছিলো তখন কিছুই করা হয়নি। শুধু তাই নয়-সঙ্গে যুক্ত হয়েছে গোটা স্বাস্থ্য ব্যবস্থার দুর্বলতা।এই ধরনের মহামারী হতে পারে, তেমন আশঙ্কা আগে জানা যায়। সার্স, ইবোলার ক্ষেত্রে জানা গেছে। সেই সময়ে মোকাবিলা করা গেছে। আমি মনে করি ঠেকানো যেত না, কমানো যেত। সেটার জন্যে যে সহায়তা দরকার ছিল ফেডারেল সরকারের কাছ থেকে, সেটা পাওয়া যায়নি। যেখানে রাজ্য সরকার আগেই ব্যবস্থা নিয়েছে সেখানে কম হয়েছে।

লেখক : সিনিয়র সাংবাদিক, এডিটর, বাপসনিউজ, এডিটর-ইন-চীফ, বিবিএননিউজ, এনজেবিডিনিউজ, বিডিনিউজএনওয়াই, আমেরিকা।

এই পাতার আরো খবর

প্রধান সম্পাদক:
মফিজুল ইসলাম সাগর












Bartaman Kantho © All rights reserved 2020 | Developed By
Theme Customized BY WooHostBD