সোমবার, ১৭ জুন ২০২৪, ০৯:০৫ অপরাহ্ন

শিরোনাম-
গাজায় ইসরায়েলি হামলায় নিহত আরও ৩৮ ফিলিস্তিনি জেলেনস্কির হোমটাউনে রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নিহত ৯ বিমান দুর্ঘটনায় ভাইস প্রেসিডেন্ট নিহত: মালাবিতে ২১ দিনের শোক সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান হত্যা: বিচারের দাবীতে টায়ারে আগুন জ্বালিয়ে মহাসড়ক অবরোধ মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার অস্থিরতাকারীদের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীর হুঁশিয়ারি নাগরিক সমস্যা সমাধানে সরকার ও নাগরিকের অংশীদারিত্ব প্রয়োজন: তথ্য প্রতিমন্ত্রী বিনা কর্তনে সেন্সর ছাড়পত্র পেল ‘মুনাফিক’ আমাদের দিয়ে রান্না করাতো জলদস্যুরা, খেয়ে ফেলতো সবই যাতায়াতের দুর্ঘটনায় ক্ষতিপূরণ পাবে পোশাক শ্রমিকরা আলোচিত সংগীতশিল্পীসহ নিহত ২, পালিয়েও শেষ রক্ষা হয়নি বাসচালকের

নিয়ন্ত্রণহীন সড়ক দুর্ঘটনা

বর্তমানকণ্ঠ ডটকম / ৮০ পাঠক
সোমবার, ১৭ জুন ২০২৪, ০৯:০৫ অপরাহ্ন

সম্পাদকীয় | বর্তমানকণ্ঠ ডটকম
দেশে সড়ক দুর্ঘটনা এখন নিত্যনৈমিত্তিক ব্যাপার। এমন কোনো দিন নেই যেদিন দেশের কোনো না কোনো সড়কে দুর্ঘটনা ঘটছে না। তার চেয়ে বড় কথা, দিন যত যাচ্ছে তার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে সড়ক দুর্ঘটনা। সর্বোপরি সড়কে যেন মড়ক লেগেছে। এর মধ্যেই কোনো কোনো ঘটনায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। শিক্ষার্থীসহ সচেতন নাগরিকরা রাস্তায় নেমে আসে। তাতে কিছুটা হলেও টনক নড়ে প্রশাসনের। শুরু হয় প্রতিশ্রুতির ফুলঝুরি। কিন্তু সেই প্রতিশ্রুতিগুলোতে কতটা সমাধান থাকে তা নিয়েও প্রশ্ন আছে বিশেষজ্ঞ মহলে।

এক বছরও পার হয়নি, শিক্ষার্থীদের দুনিয়া কাঁপানো আন্দোলনে সবার আশা ছিল সড়কে শৃঙ্খলা ফিরবে। কিন্তু পরিস্থিতি শুধু অপরিবর্তিতই থাকেনি, যেন দিন দিন বাড়ছে। এবার রাজধানীর প্রগতি সরণিতে বাসের রেষারেষিতে এক বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রের প্রাণ গেলে আবার শিক্ষার্থীরা রাস্তায় নেমে আসে। তাদের দাবি, যে কোনো উপায়ে রাস্তায় শৃঙ্খলা ফেরাতে হবে। সর্বশেষ কর্তৃপক্ষের নানা প্রতিশ্রুতি আর আশ্বাসে রাস্তা ছাড়ে শিক্ষার্থীরা।

কিন্তু অবস্থা যে তথৈবচ, তা প্রমাণে বেশিক্ষণ অপেক্ষা করতে হয়নি। রাজধানীর বিভিন্ন রাস্তায় শিক্ষার্থীরা যখন বিক্ষোভে ফেটে পড়ছে তখন যশোরের শার্শায় পল্লী বিদ্যুতের পিকআপের ধাক্কায় মোফতাহুল জান্নাত নিপা নামে ষষ্ঠ শ্রেণির এক শিক্ষার্থী গুরুতর আহত হয়েছে। এ ঘটনায় সঙ্গে সঙ্গেই তার এক পা কেটে ফেলতে হয়েছে। এ ঘটনার পর সেখানেও বিক্ষোভ করে শিক্ষার্থীরা। এত কিছুর পরও গতকাল সারা দেশে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন অন্তত ১৫ জন। এর চেয়ে দুঃখজনক, লজ্জাজনক আর কী হতে পারে!

এই প্রাণঘাতী সড়কের বিরুদ্ধে সচেতন মহল যখনই সরব হয়েছে তখনই কর্তৃপক্ষ থেকে গৎবাঁধা কিছু প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়। এর মধ্যে অন্যতম হলো ফুটওভার ব্রিজ তৈরি। কিন্তু এতে করে চালকের যে বেপরোয়া মনোভাবের কারণে অধিকাংশ সময় দুর্ঘটনাগুলো ঘটে, তা অনেকটা আড়াল হয়ে যায়। তাছাড়া বিভিন্ন দাবির পরিপ্রেক্ষিতে ব্রিজগুলো তৈরি করা হলেও তা ব্যবহারে বড় রকমের অনীহা দেখা যায় পথচারীদের মধ্যে। রক্ষণাবেক্ষণের অভাবসহ নানা কারণে কোনো কোনো ক্ষেত্রে উল্টো দুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়ায় ফুটওভার ব্রিজ কিংবা আন্ডারপাসগুলো। রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে হকাররা শুয়ে থাকে, মাদকসেবীরা আড্ডা বসায়, অনেক সময় ছিনতাইও হয়ে থাকে। কোনো ওভারব্রিজে আবার লাইট থাকে না, তাতে করে রাতের বেলা ফুটওভার ব্রিজে বখাটেদের হাতে নারীদের হেনস্তা হওয়ার অভিযোগ পাওয়া যায়। সব মিলিয়ে সড়ক দুর্ঘটনা রোধে যেখানে যতটা জোর দেওয়া দরকার বা যতটা পরিকল্পিত পদক্ষেপ নেওয়া দরকার তা নেওয়া হচ্ছে না। তাই অনতিবিলম্বে সড়কে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে কর্তৃপক্ষের প্রতি সর্বোচ্চ উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *