সোমবার | ৩রা আগস্ট, ২০২০ ইং |

কোভিড ১৯ মোকাবেলায় ব্যাংকিং সেবা সচল রাখতে, তথ্য-প্রযুক্তি প্রধান হাতিয়ার হিসেবে কাজ করেছে: সিটিও ফোরাম

বর্তমানকন্ঠ ডটকম : প্রযুক্তি খাতে বিনিয়োগ অনাগ্রহ থেকে বেরিয়ে এসে ব্যবসায়ের ডিজিটাল রূপান্তরের জন্য হাইব্রিড ক্লাউড, হাইব্রিড কম্পিউটিং, ক্লাউড কম্পিউটিং, ব্যাংকিং ও অপারেশনাল সফটওয়্যারের আধুনিকায়ন এবং সাইবার নিরাপত্তার ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে।

সিটিও ফোরাম বাংলাদেশের উদ্যোগে আয়োজিত “Drive Business Values During Pandemic” শীর্ষক ওয়েবিনার আলোচনায় বক্তারা এসব কথা বলেন। ভার্চুয়াল সভায় উপস্থিত ছিলেন দেশের অন্যতম শীর্ষ ৫ ব্যাংক সোনালী ব্যাংক লিমিটেড, মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক লিমিটেড, ডাচ বাংলা ব্যাংক লিমিটেড, পূবালী ব্যাংক লিমিটেড এবং শাহ জালাল ইসলামি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহীবৃন্দ।

আয়োজনটির সঞ্চালকের বক্তব্যে সিটিও ফোরাম সভাপতি তপন কান্তি সরকার বলেন, এই কোভিড ১৯মোকাবেলা ডিজিটালাইজেশনের সফলতা দৃশ্যমান হয়েছে। ভবিষ্যতবাণীকে হতাশ করে দিয়ে এই মহারারি সময়েও বৈদেশিক মুদ্রা আয় ১০ শতাংশ বেড়েছে। বর্তমানে দেশের আইসিটি খাত বিশ্বসূচকে ২১ তম অবস্থানে রয়েছে। বিশ্বে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে দেশের ফ্রিল্যান্সার ও আইটি বিশেষজ্ঞরা। দেশে বর্তমানে ৪০-৪৫ হাজার আইটি ফ্রিল্যান্সার ও বিশেষজ্ঞ বছরে ৫০০-৬০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার আয় করছেন। মহামারী পরবর্তী বিশ্ব অর্থনীতিতে আইটি নির্ভরতা বর্তমান সময়ের চেয়ে ৬০-৭০ গুণ বেড়ে যাবে। এই সুযোগের শতভাগ লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে খাত সংশ্লিষ্টরা এগিয়ে আসতে হবে।

সোনালী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং প্রধান নির্বাহী আতাউর রহমান প্রধান বলেন, “কোভিড ১৯ আমাদের একটা ভালো শিক্ষা দিয়েছে। গত তিন মাসে সোনালী ব্যাংক টেকনোলোজির দিক থেকে ৫বছর এগিয়ে গেছে, সরকারি ব্যাংক গুলোও ডিজিটালাইজেশন মাথায় রেখে এগিয়ে যাচ্ছে, রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের মধ্যে সোনালী ব্যাংক ই-সেবা মোবাইল অ্যাপ নিয়ে হাজির হয়েছে যাতে মাত্র ২থেকে ৪মিনিটে কমপ্লিট ই-কেওয়াইসি এর মাধ্যমে একাউন্ট খোলা যাচ্ছে। সোনালী ব্যাংক তার নিজেস্ব কোর ব্যাংকিং সফটওয়্যার জয়েন্ট ভেঞ্চার ফার্ম সোনালী পোলারিস এর মাধ্যমে ডেভেলপ করেছে এবং এই কোর ব্যাংকিং সফটওয়্যার দিয়ে প্রায় ১২শ ব্রাঞ্চে যাবতিয় কাজ ঈলেক্ট্রনিক্যালি হচ্ছে।“

পূবালী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী আব্দুল হালিম চৌধুরী বলেন, “আমাদের বোর্ড সভা গুলো এখন ভার্চুয়াললি হয়। পূবালী ব্যাংক নিজেরাই নিজেদের সফটওয়্যার ডেভেলপ করছে।“ তিনি নিজদের আই টি টিম কে মেধা ও প্রযুক্তিতে শক্তিশালী করে গড়ে তোলার জন্য বিভিন্ন প্রশিক্ষণের উপর জোর দেন। তিনি বাংলাদেশে সফটওয়্যার খাতে পরনির্ভরতা কমাতে উদ্যগি হতে বলেন এতে করে ডিজিটাল ট্রান্সফরমেশন ত্বরান্বিত হবে বলে মত দেন ।

মিউচ্যুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক লিমিটেড (এমটিবি)-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী সৈয়দ মাহবুবুর রহমান বলেন, এটিএম বা ইলেকট্রনিক ব্যাংকিং, ইন্টরা ব্রাঞ্চ ট্রান্সফার এগুলো সবই বিদেশী ব্যাংকিং সফটওয়্যার শুরু করে। এখানে অনেক কাস্টমার ইনফরমেশন থাকে। অনেক সিকিউরিটি আমাদের মেইনটেইন করতে হয়। এর জন্য রোবাস্ট আর্কিটেকশ্চার থাকতে হয়। তিনি আরো যোগ করেন ব্যাংকিং ব্যাবস্থায় ওয়ার্ক ফ্রম হোম সাইবার আক্রমনের জন্য সব থেকে বেশি ঝুঁকি পূর্ণ। সেই দিকে আমাদের নজর দিতে হবে।

শাহজালাল ইসলামি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী মোঃ শহীদুল ইসলাম বলেন, আমরা ঘুমিয়ে ঘুমিয়ে চলছিলাম। কোভিড আমাদের জাগিয়ে দিয়েছে। বলেছে,তোমরা ডিজিটালাইজড হও। না হলে সামনের দিন অন্ধকার। ইসলামি ব্যাঙ্কিং ব্যাবস্থা সাধারন ব্যাংকিং ব্যবস্থার মত নয় বলে উল্যেখ করে তিনি বলেন, ইসলামি ব্যাংকিং এর স্কিম গুলোতেও ডিজিটাইজেশনের যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে।

ডাচ বাংলা ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী আবুল কাশেম মোহাম্মাদ শিরিন বলেছেন, ডাচ বাংলা ব্যাংকের পুরোটাই নিয়ন্ত্রণ করছে প্রযুক্তি। পয়েন্ট অফ সেল এর মাধ্যেমে মাসে প্রায় আড়াইশ কোটি টাকা লেনদেন হচ্ছে। তবে ইন্টারনেট ব্যাংকিং এখনো জনপ্রিয় হয়নি। ৯০ লাখ গ্রাহকের মাধ্যমে মাত্র ৩ লাখ হিসাবধারী এই সেবাটি ব্যবহার করেন। কোভিডে ই-কমার্স লেনদেন ১০ কোটি বেড়ে ৭০ কোটি হয়েছে।

ভার্চুয়াল এই আয়োজনটি তে সরাসরি যুক্ত হন প্রায় ৩০০ জন এর অধিক আইটি পেশাজীবী, সিটিও ফোরাম বাংলাদেশের ফেসবুক পেজ fb.com/bangladeshctoforum থেকে লাইভ টেলিকাস্ট এর মাধ্যমে প্রায় ১৫ হাজার দর্শক আংশগ্রহন করেন

সময় বাচাঁতে ঘরে বসে কেনা-কাটা

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *