রবিবার, ১৯ মে ২০২৪, ০৭:০২ অপরাহ্ন

রাজনীতির প্রেক্ষাপটে নৈতিকতা

সৈয়দ মুন্তাছির রিমন, আয়ারল্যান্ড । / ১২৮ পাঠক
রবিবার, ১৯ মে ২০২৪, ০৭:০২ অপরাহ্ন

আজ “জয় বাংলা“ শ্লোগানটি সকল অপর্কেমর লাইসেন্স। যেদিন থেকে ‘‘জয় বাংলা বলে যারা মেয়ে মলেস্ট করে তাদের দেশে থাকবো না“ এই দেশে রাজপথে স্কুল পড়ুয়া কিশোরীটি পরিস্থিতির সম্মুখ রাগে অনুরাগে বিতৃষ্ণায় মনের ক্ষোভ প্রকাশ করে। একটি দেশের সভ্যতা, চরিত্র, জ্ঞান, মেধা, শিক্ষা, মানবতা, ভ্রাতৃত্ব, চিন্তা ও চেতনার মেরুদণ্ডের ক্ষয় বা অধ:পতন হয়। এই ক্ষয় বা অধ:পতন একটি জাতির উন্নতি বাধাগ্রস্থ করে। প্রতিদিন নানান অপরাধ সংঘঠিত হয়। অপরাধের করালঘ্রাসে জনগণের বেঁচে থাকার অধিকার গুলো সংবিধানের পাতা থেকে ঘষে পড়ে।

যেহেতু গণতন্ত্রের মৌলিক অস্ত্র হলো রাজনীতি। এই রাজনীতি সুস্থ আর অসুস্থ বিভাজনে বিভক্ত। তাই রাজনীতির অসুস্থ হয়ে পড়লে সমাজকে কলোষিত করে ফেলে। যার জন্য জনগণকে তার কুফল ভোগ করতে হয়। সামাজ হয়ে উঠে হিংস্র দানব।
আমাদের সমাজ ব্যবস্থার প্রেক্ষাপটে অসংখ্যক রাজনৈতিক দল, সামাজিক সংগঠন, মানবাধীকার সংস্থা, প্রেসক্লাব, সমিতি রয়েছে। পরিসখ্যানে দেখাযায় প্রতিটি পাড়ায় পাড়ায় সংগঠন রয়েছে। তবুও সমাজে অসুস্থতা বিরাজ করে অবিরাম। যার উত্তোরনের পথ বড়ই ক্ষীণ।

এর কারণ কী? এই দেশের প্রতিটি সংগঠন কোন না কোন র্স্বাথের কাছে জিম্মি। কোন না কোন উদ্দেশ্য নিয়ে গঠন করা হয়েছে। এই উদ্দেশ্য পুজিবাদকে ধারন করে সরকার ও সমাজকে প্রভাবিত করে তাদের পায়দা আদায় করা। এই পায়দা গুলো সাধারণ সদস্য বা জনগণের নাগালের বাহিরে জমাট বাধা রয়। সংগঠনের ৩/৪ জন প্রথম সাড়ির ব্যক্তিরা ভোগ করে। তারা সব বিষয়ে অবগত রয়।

একটি জেলা সদরের বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের গতিবিধি র্পযবেক্ষনকারী গোয়েন্দা অফিসারের ব্যক্তিগত অভিমত থেকে জানাযায় সরকারী পজেক্ট লুন্ঠন করতে সাধারণ মানুষকে দলে ভীড় জমিয়ে প্রতিবাদের নামে প্রভাব বিস্তার করে। যেহেতু র্বতমানে একদলীয় শাসন ব্যবস্থা রয়েছে তাই রাজনৈতিক গতিবিধিকেও সামাজিক সংগঠনের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ করা। যাতে এসব ভুইফুর সংগঠনের সদস্যরা রাজনৈতিক বলয়ে দাবিত না হয়। আর এক দলীয় শাসন ব্যবস্থার আরেকটি কারণ হলো বিরোধী মতবাদের বিশাল একটি নেটওর্য়াক রয়েছে। যে নেটওর্য়াক আওয়ামী সরকার ব্যবস্থার মসনদে কম্পন দিতে সক্ষম। তাই এসব সদস্যদেরকে প্রতিটি জেলা ও উপজেলার সরকারপস্থী চত্রছায়ার লোকদের দিয়ে নিয়ন্ত্রণ করা হয়েছে। এসব সরকারপস্থী লোকদেরকে সরকারই নিয়োগ দিয়েছে। এছাড়া ভুইফুর অনলাইন-প্রিন্ট মুলধারা বেধারা মিডিয়ার মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ করার প্রয়াস চালানো হয়েছে।

তবে রাষ্টীয় ব্যবস্থার সরকারের এমন কৌশল জনগণের মৌলিক অধিকার গুলো সংকোচিত হয়ে আসে। দেশপ্রেম নামক অঙ্গটি পঙ্গুত্ব বরন করেছে। যার ফলে র্সবক্ষেত্রে অবক্ষয় দেখা দিয়েছে। আমাদের সফলতা অনেক। ৭১“র মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে স্বাধীন বাংলাদেশ। একটি স্বাধীনতা পাওয়ার মতো তৃপ্তি মানব জীবনে আর কিছু নেই। কিন্তু আমাদের স্বাধীনতা রক্ষার ক্ষেত্রে অগ্রনি ভুমিকা রাখতে হবে। স্বাধীনতার ৫০ বছরেও র্অথনৈতিক মুক্তি আনতে পারিনি। আমাদের বিশাল জনসম্পদকে কাজে লাগাতে পারিনি। বরং জনগণকে ভুল র্বাতা দিয়ে দেশপ্রেম, সততা ও আর্দশ্যকে গলাটিপে হত্যা করেছি। রাজনৈতিক দমন-পিড়ন হুলিয়ার মাধ্যমে জাতিকে বিভক্ত করে দিয়েছে। এর প্রভাবে সমাজে অবক্ষয় দেখা দিয়েছে। দেশের যুব সমাজের মাঝে আতংস্ক বিরাজ করেছে। তাই এই যুব সমাজ দেশ ছেড়ে দেশান্তরিত হচ্ছে। নিজেদের জন্মভুমিকে মৃত্যুপুরী মনে করছে। যার জন্য লক্ষ লক্ষ টাকা খরচ করে কেউ সমুদ্রপথে, কেউ পাহাড়-জঙ্গল পথে উন্নত জীবনের আশায় বিদেশ পাড়ি দিচ্ছে।
আজ আমাদের রাষ্টের পরিকল্পনা কী? রাষ্টীয় পরিকল্পনা দপ্তর কোন দায়িত্ব পালন করছে? বরং আমাদের প্রতিহিংস্রার রাজনীতি, সমাজ ব্যবস্থা ও হত্যার রাজনীতির বলয়ে মানবাধীকার লংঙ্ঘন করা হয়েছে। তাই জাতির উন্নতিকল্পে রাজনীতির সুস্থধারা, গণতন্ত্র, মানবতা বজায় রাখা সময়ের দাবি হয়ে উঠেছে।

লেখক: সাংবাদিক ও কলামিস্ট, আয়ারল্যান্ড ।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *