বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ০২:৩২ অপরাহ্ন
শিরোনাম:
৪০ জনের মরদেহ পানির নিচে: ফায়ার সার্ভিস হাদি হত্যায় অভিযুক্ত ফয়সাল ও আলমগীরকে নেয়া হলো দিল্লিতে স্বনির্ভর দেশ গড়তে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর মধ্যপ্রাচ্যে বাংলাদেশিদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে সরকার সচেষ্ট: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী দক্ষিণ চট্টগ্রামের অর্ধশতাধিক গ্রামে ঈদুল ফিতর উদযাপন মোজতবা খামেনি বেঁচে আছেন, তবে আহত অবস্থায় চিকিৎসাধীন: ট্রাম্প ১৬ মার্চ খাল খনন কর্মসূচি‌র উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী সংসদকে জাতীয় সমস্যা সমাধানের কেন্দ্রবিন্দু করতে চাই: প্রধানমন্ত্রী বাগেরহাটে বাস-মাইক্রোবাস সংঘর্ষ, নিহত ৯ রাষ্ট্রপতির ভাষণের সময় জামায়াত জোটের ‘ওয়াক আউট’

গণধর্ষণের বিচার চাওয়ায় বাবার কাছ থেকে কিশোরীকে ছিনিয়ে নিয়ে হত্যা

ডেস্ক রিপোর্ট | বর্তমানকণ্ঠ ডটকম: / ৪৪ পাঠক
প্রকাশকাল বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬

নরসিংদীর মাধবদীতে গণধর্ষণের বিচার চাওয়ায় এক কিশোরীকে বাবার কাছ থেকে জোরপূর্বক ছিনিয়ে নিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে কয়েকজন যুবকের বিরুদ্ধে।

বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) সকালে মাধবদী থানার কোতালিরচর দড়িকান্দী এলাকার একটি সরিষা ক্ষেত থেকে রক্তাক্ত ও গলায় ওড়না পেঁচানো অবস্থায় তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। নিহত আমেনা আক্তারের (১৫) মরদেহ সুরতহাল শেষে দুপুরে নরসিংদী সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।

নরসিংদীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সুজন চন্দ্র সরকার বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে মরদেহ উদ্ধার করেছে। ময়নাতদন্তের জন্য লাশ মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। তবে অভিযোগ ছাড়াও জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশ কাজ করছে পুলিশ।

তিনি জানান, তদন্তের অগ্রগতির বিষয়ে পরে বিস্তারিত জানানো হবে।

নিহতের পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আমেনার বাবা মো. আশরাফ হোসেন বরিশালের বাসিন্দা। টেক্সটাইল মিলে কাজের সুবাদে স্ত্রী ও মেয়েকে নিয়ে তিনি মাধবদীর বিলপাড় এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকতেন। প্রায় ১৫ দিন আগে স্থানীয় এক যুবক নূরার নেতৃত্বে কয়েকজন মিলে কর্মস্থল থেকে ফেরার পথে আমেনাকে তুলে নিয়ে গণধর্ষণ করে বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে স্থানীয়ভাবে বিষয়টি মীমাংসার আশ্বাস দেওয়া হলেও তা বাস্তবায়ন হয়নি।

দড়িকান্দী এলাকার একটি সরিষা ক্ষেত থেকে রক্তাক্ত ও গলায় ওড়না পেঁচানো অবস্থায় আমেনা আক্তারের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ছবি: খবরের কাগজ
নিহত আমেনার বাবা মো. আশরাফ হোসেন বলেন, এ ঘটনার বিচার না পেয়ে বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) রাতে মেয়েকে খালার বাড়িতে রেখে আসতে যাচ্ছিলেন তিনি। এ সময় বড়ইতলা এলাকায় পৌঁছালে নূরার নেতৃত্বে কয়েকজন যুবক তার সামনে থেকে মেয়েকে ছিনিয়ে নিয়ে যায়। রাতভর খোঁজাখুঁজির পরও তার সন্ধান মেলেনি। সকালে স্থানীয় লোকজন পাশের একটি সরিষা ক্ষেতে মরদেহটি দেখতে পান।

তিনি বলেন, “মেয়ের সর্বনাশ করার পর বিচার চেয়েছিলাম। উল্টো আমার সামনেই মেয়েকে জোর করে নিয়ে হত্যা করলো। আমি কিছুই করতে পারলাম না। আমি এখন কী বলব? আমরা তো এ এলাকার না। আমাদের বিচার কে করবে? আমি আমার মেয়ে হত্যার বিচার চাই।”

নিহত আমেনার মা ফাহিমা বেগম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “রাতে মেয়েটিকে তুলে নেওয়ার কথা শুনেছি। সকালে মাঠে লাশ পড়ে আছে-এ কথা শুনে এখানে এলাম গো বাবা। ওরা তাকে মেরে ফেলেছে।”

তিনি হত্যাকাণ্ডের বিচার দাবি করে বলেন, “আমি এই হত্যাকাণ্ডের বিচার চাই। তাদের ফাঁসি চাই,” বলে আকুতি করতে থাকেন ফাহিমা বেগম।


এই ক্যাটাগরির আরো খবর
এক ক্লিকে বিভাগের খবর