রবিবার | ২০শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ ইং |

সেই রায়হান কবিরকে দেশে ফেরত পাঠানো হবে

বর্তমানকন্ঠ ডটকম : করোনাকালীন মালয়েশিয়ায় অভিবাসী নিপীড়ন নিয়ে আলজাজিরায় সাক্ষাৎকার দিয়ে বিপাকে পড়েছিলেন বাংলাদেশি যুবক রায়হান কবির। পরবর্তীতে মালয়েশিয়া সরকার তাকে গ্রেফতার করে। পরে দেশি-বিদেশি নানান মানবাধিকার সংগঠন সোচ্চার হয় রায়হান কবিরের মুক্তির বিষয়ে।

প্যারিসভিত্তিক সংগঠন ওয়ার্ল্ড বাংলাদেশ অর্গানাইজেশন (ডব্লিউবিও) এবং অল ইউরোপিয়ান বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন (আয়েবা) এ ব্যাপারে তাদের উদ্বেগ প্রকাশ করেন এবং মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে যোগাযোগ করে রায়হান কবিরের আশু মুক্তির জন্য জোর দাবি জানান। তাছাড়াও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা, আন্তর্জাতিক শ্রমিক সংস্থা (আইএলও), আন্তর্জাতিক মাইগ্রেশন সংস্থা (আইওএম), ইউরোপীয় ইউনিয়ন হেড কোয়ার্টার এবং প্যারিসে মালেয়শিয়া দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ করেন।

এছাড়াও রায়হান কবিরকে মুক্ত করতে বিখ্যাত ফরাসি আইনজীবী ফিলিপ সিমনেকে নিয়োগ দেন। ডব্লিউবিও এর সভাপতি এবং আয়েবা মহাসচিব কাজী এনায়েত উল্লাহ গত ২৮ জুলাই ফিলিপ সিমনে এবং প্রশাসনিক কর্মকর্তা জানা মার্টিনকে সঙ্গে নিয়ে এক ঘোষণায় বিষয়টি সবার নজরে আনেন এবং রায়হানকে মুক্ত করতে যাবতীয় কার্যক্রমের প্রক্রিয়া তুলে ধরেন।

এরই ধারাবাহিকতায় অব্যাহত চাপ সৃষ্টি করা হয় ডব্লিউ বি ও এবং আয়েবার পক্ষ থেকে। কাজী এনায়েত উল্লাহ লিখিত বক্তব্যে বলেন রায়হান গণমাধ্যমে বক্তব্য দিয়ে কোনো ধরনের অন্যায় করেননি। সুতরাং কোনো আইনেই রায়হান কবীরকে আটকানো সম্ভব নয়। তাছাড়া রায়হান প্রমাণ করেছেন সঠিক সময়ে সঠিক কথা বলে। রায়হান একা নন, আমরা রায়হানের পাশে আছি।

মালয়েশিয়া কর্তৃপক্ষ তাদের দেশে কোনো বিদেশি আইনজীবীর কার্যক্রম করার আইন না থাকায় আয়েবার আইজীবীসহ তিন সদস্যের প্রতিনিধিদলকে অনুমতি দিতে অস্বীকৃতি জানায় তবে তারা আশ্বস্থ্য করেন অচিরেই রায়হানকে মুক্ত করে বাংলাদেশে ফেরত পাঠাবেন।

এর পরিপ্রেক্ষিত কাজী এনায়েত উল্লাহ জানান, মালয়েশিয়া সরকার তার কথা না রাখলে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইন লঙ্ঘনের দায়ে মালেশিয়া সরকারের বিরুদ্ধে ইউরোপীয়ান আন্তর্জাতিক আদালতে অভিযোগ করবেন এবং এ ব্যাপারে আয়েবার নিয়োগপ্রাপ্ত আইনজীবী ফিলিপ সিমনেকে সমস্ত দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।

বিভিন্ন আন্তর্জাতিক চাপের মুখে বিনা শর্তে মালয়েশিয়া সরকার ১৯ আগস্ট রায়হান কবীরকে মুক্তি দিয়ে বাধ্য হন। মালয়েশিয়া বাংলাদেশ বিমান যোগাযোগ শুরু হলেই রায়হান কবীর বাংলাদেশে ফিরবেন। পরিবারের পক্ষ থেকে যারা রায়হানের পক্ষে স্ট্যান্ড নিয়েছে আয়েবা, ডব্লিউ বি ও এবং মিডিয়া কর্মীসহ সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা হয়।

এ বিষয়ে কাজী এনায়েত উল্লাহর বলেন, আমি খুবই আন্তরিকভাবে আনন্দিত, রায়হান মুক্ত হয়েছে। ডব্লিউ বি ও এবং আয়েবা প্রবাসীদের স্বার্থ রক্ষায় বদ্ধপরিকর। শুধু রায়হান কবীর নয় প্রবাসীদের যেকোনো সমস্যায় আমরা সবসময় পাশে আছি এবং থাকবো।

সময় বাচাঁতে ঘরে বসে কেনা-কাটা

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *