রবিবার, ১৬ জুন ২০২৪, ০৭:৪০ অপরাহ্ন

শিরোনাম-
গাজায় ইসরায়েলি হামলায় নিহত আরও ৩৮ ফিলিস্তিনি জেলেনস্কির হোমটাউনে রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নিহত ৯ বিমান দুর্ঘটনায় ভাইস প্রেসিডেন্ট নিহত: মালাবিতে ২১ দিনের শোক সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান হত্যা: বিচারের দাবীতে টায়ারে আগুন জ্বালিয়ে মহাসড়ক অবরোধ মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার অস্থিরতাকারীদের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীর হুঁশিয়ারি নাগরিক সমস্যা সমাধানে সরকার ও নাগরিকের অংশীদারিত্ব প্রয়োজন: তথ্য প্রতিমন্ত্রী বিনা কর্তনে সেন্সর ছাড়পত্র পেল ‘মুনাফিক’ আমাদের দিয়ে রান্না করাতো জলদস্যুরা, খেয়ে ফেলতো সবই যাতায়াতের দুর্ঘটনায় ক্ষতিপূরণ পাবে পোশাক শ্রমিকরা আলোচিত সংগীতশিল্পীসহ নিহত ২, পালিয়েও শেষ রক্ষা হয়নি বাসচালকের

ছয় বছরে মাথাপিছু আয় বেড়েছে ৯৩ শতাংশ

বর্তমানকণ্ঠ ডটকম / ৯৯ পাঠক
রবিবার, ১৬ জুন ২০২৪, ০৭:৪০ অপরাহ্ন

দেশে গত ছয় বছরের ব্যবধানে মাথাপিছু মাসিক গড় আয় ও পারিবারিক আয় বাড়ার পাশাপাশি দরিদ্রের হারও অনেক কমে এসেছে। এ সময়ের ব্যবধানে মাথাপিছু মাসিক গড় আয় বেড়েছে ৯৩ শতাংশেরও বেশি। তবে পরিবারগুলোর মাথায় ঋণের বোঝা চেপেছে প্রায় দ্বিগুণ। রোববার প্রকাশিত বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) খানা আয় ও ব্যয় জরিপ ২০২২-এর চূড়ান্ত প্রতিবেদনে এ চিত্র উঠে এসেছে। এর আগে গত এপ্রিল মাসে এ জরিপের প্রাথমিক ফলাফল প্রকাশ করা হয়েছিল। প্রতি ছয় বছর পরপর এ ফলাফল প্রকাশ করে বিবিএস।

এ ছাড়া বিবিএসের প্রতিবেদনে দেখা গেছে, বর্তমানে দেশে সবচেয়ে বেশি দরিদ্র মানুষের সংখ্যা বরিশাল বিভাগে। আর সবচেয়ে কম পার্শ্ববর্তী খুলনা বিভাগে।

দেশে একজন মানুষের মাথাপিছু মাসিক গড় আয় দাঁড়িয়েছে ৭ হাজার ৬১৪ টাকা। ২০১৬ সালে যেখানে একজন মানুষের গড় আয় ছিল ৩ হাজার ৯৪০ টাকা। সে হিসাবে ছয় বছরের ব্যবধানে দেশের মানুষের মাথাপিছু মাসিক গড় আয় বেড়েছে প্রায় দ্বিগুণ বা ৯৩ দশমিক ২৫ শতাংশ। টাকার অঙ্কে এ সময়ের ব্যবধানে গড় আয় বেড়েছে ৩ হাজার ৬৭৪।

বর্তমানে গ্রামের মানুষের চেয়ে শহরের মানুষের আয়ও প্রায় দ্বিগুণ। শহরে একজন মানুষের মাসিক গড় আয় ১০ হাজার ৯৫১ টাকা। যেখানে গ্রামের মানুষের গড় আয় মাত্র ৬ হাজার ৯১ টাকা। ২০১৬ সালে শহরে একজন মানুষের মাসিক গড় আয় ছিল ৫ হাজার ৭৫২ টাকা। আর গ্রামের মানুষের গড় আয় ছিল ৩ হাজার ২৬১ টাকা।

খানা আয় ও ব্যয় জরিপে একটি পরিবারের মাসিক গড় আয় এবং ব্যয়ের হিসাবও তুলে ধরা হয়েছে। বিবিএস বলছে, বাংলাদেশে একটি খানা বা পরিবারের গড় সদস্য সংখ্যা এখন ৪ দশমিক ২৬। ওই পরিবারের মাসিক গড় আয় ৩২ হাজার ৪২২ টাকা। মাসে খরচ হয় গড়ে সাড়ে ৩১ হাজার টাকা। ২০১৬ সালে দেশে একটি খানা বা পরিবারের গড় সদস্য সংখ্যা ছিল ৪ দশমিক শূন্য ৬। পরিবারের মাসিক গড় আয় ছিল ১৫ হাজার ৯৮৮ টাকা। আর গড়ে ১৫ হাজার ৭১৫ টাকা খরচ ছিল প্রতি পরিবারে।

এখন পরিবারের গড় আয় ও গড় ব্যয় দুটোই গ্রামের তুলনায় শহরে অনেক বেড়েছে। তবে শহরের পরিবারে আয়ের তুলনায় ব্যয় কিছুটা কম হলেও গ্রামের পরিবারে আয়ের তুলনায় ব্যয় বেশি হয়। শহরে প্রতি পরিবারের মাসিক গড় আয় ৪৫ হাজার ৭৫৭ টাকা। আর গড় ব্যয় হয় ৪১ হাজার ৪২৪ টাকা। ২০১৬ সালে শহরের প্রতিটি পরিবারের মাসিক গড় আয় ছিল ২২ হাজার ৬০০ টাকা। যার বিপরীতে গড় ব্যয় ছিল ১৯ হাজার ৬৯৭ টাকা। অন্যদিকে বর্তমানে গ্রামের প্রতি পরিবারের মাসিক গড় আয় ২৬ হাজার ১৬৩ টাকা। আর মাসে গড়ে ব্যয় হয় ২৬ হাজার ৮২৪ টাকা। ২০১৬ সালে গ্রামের পরিবারের মাসিক গড় আয় ছিল ১৩ হাজার ৩৯৮ টাকা। যার বিপরীতে গড় ব্যয় ছিল ১৪ হাজার ১৫৬ টাকা।

একটি পরিবারের সবাই আয় করেন না এবং এমন শিশু-বৃদ্ধ ও নারী আছেন, যারা বাস্তবে কোনো কাজ করতে পারেন না। তবে একটি পরিবারে এক বা একাধিক উপার্জনকারী থাকতে পারেন। এসব উপার্জনকারীর গড় আয়ের হিসাবও জরিপে দেওয়া হয়েছে। এখন এমন পরিবারের উপার্জনকারীদের মাসিক গড় আয় ২৫ হাজার ৭০৭ টাকা। সাত বছর আগে এর পরিমাণ ছিল ১৩ হাজার ৬৪৬ টাকা।

আয় ও ব্যয় বাড়ার পাশাপাশি ছয় বছরের ব্যবধানে দেশে এখন পরিবারপ্রতি গড় ঋণের বোঝাও বেড়েছে প্রায় দ্বিগুণ। দেশে প্রতি পরিবারের গড় ঋণ রয়েছে ৭৩ হাজার ৯৮০ টাকা। ২০১৬ সালে যেখানে গড় ঋণ ছিল ৩৭ হাজার ৭৪৩ টাকা। এখন গ্রামের প্রতিটি পরিবারের গড় ঋণ রয়েছে ৪৪ হাজার ১১১ টাকা। সাত বছর আগে যা ছিল ৩১ হাজার ৩৩২ টাকা। আর শহরের প্রতি পরিবারের গড় ঋণ দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৩৭ হাজার ৪৫৬ টাকা। ২০১৬ সালে শহরের প্রতি পরিবারের গড় ঋণ ছিল ৫৯ হাজার ৭২৮ টাকা।

এদিকে ধনীদের কাছে সম্পদ আরও পুঞ্জীভূত হওয়ার চিত্র উঠে এসেছে পরিসংখ্যানে। আয়বৈষম্য আরও প্রকট হওয়ার চিত্রও উঠে এসেছে। দেখা গেছে, দেশের মোট আয়ের প্রায় ৪১ শতাংশ সবচেয়ে ধনী ১০ শতাংশ মানুষের দখলে রয়েছে। ২০১৬ সালে তাদের আয়ের এই হার ছিল ৩৯ শতাংশ। তবে সবচেয়ে গরিব ১০ শতাংশ মানুষের আয়ের অংশীদারত্ব কিছুটা বেড়েছে। এখন দেশের মোট আয়ের ১ দশমিক ৩১ শতাংশ তাদের হাতে। ৮ বছর আগে এই হার ছিল ১ দশমিক শূন্য ২।

ছয় বছর আগের তুলনায় গ্রাম ও শহর উভয় স্থানেই সার্বিক দরিদ্রের হার কমেছে। এখন সার্বিক দরিদ্রের হার ১৮ দশমিক ৭০ শতাংশ। গ্রামে সার্বিক দরিদ্রের হার ২০ দশমিক ৫০ শতাংশ ও শহরে ১৪ দশমিক ৭০ শতাংশ। ২০১৬ সালে সার্বিক দরিদ্রের হার ছিল ২৪ দশমিক ৩০ শতাংশ। তখন গ্রামে সার্বিক দরিদ্রের হার ২৬ দশমিক ৪০ শতাংশ ও শহরে ১৮ দশমিক ৯০ শতাংশ ছিল। সার্বিক দরিদ্র কমার পাশাপাশি দেশে অতি দরিদ্রের হারও কমেছে। এখন দেশে অতি দরিদ্র ৫ দশমিক ৬০ শতাংশ। ২০১৬ সালে এই হার ছিল ১২ দশমিক ৯০ শতাংশ।

এত দিন একটি সাধারণ ধারণা ছিল, দরিদ্র বেশি উত্তরবঙ্গে। কিন্তু বিবিএস বলছে, সবচেয়ে বেশি দরিদ্র বরিশাল বিভাগে। এই বিভাগে দরিদ্রের হার ২৬ দশমিক ৯০ শতাংশ। আর সবচেয়ে কম পার্শ্ববর্তী খুলনা বিভাগে। এই বিভাগে দরিদ্রের হার ১৪ দশমিক ৮০ শতাংশ। এ ছাড়া দরিদ্রের হার ঢাকায় ১৭ দশমিক ৯, চট্টগ্রামে ১৫ দশমিক ৮, রাজশাহীতে ১৬ দশমিক ৭, সিলেটে ১৭ দশমিক ৪, রংপুরে ২৪ দশমিক ৮ এবং ময়মনসিংহে ২৪ দশমিক ২।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *